ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দামুড়হুদায় কুরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৩১৮৯২ বার পড়া হয়েছে

দামুড়হুদায় কুরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

দামুড়হুদায় কুরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

 

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

শনিবার(১১জুলাই) এর ঘটনার জেরে রোববার বিকেলে উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে শহরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়ে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চান।

পড়ুন>> চট্টগ্রাম দক্ষিণে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে জাতীয় পার্টির ব্যাপক প্রস্তুতি

 

 

 

 

জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, এটি ছিল কেবল কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ। তবে বিএনপির অভিযোগ, মডেল মসজিদে গোপনে রাজনৈতিক বৈঠক করা হচ্ছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

 

 

তাদের দাবি, গাড়িগুলোতে অস্ত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

 

 

 

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়। খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তিনজন জামায়াত কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পড়ুন>> বাঘাইছড়িতে বন্যাকবলিত ৬ শতাধিক মানুষের পাশে মারিশ্যা জোন বিজিবি

 

 

 

এদিকে রোববার ‘জুলাই সনদ’ নামের একটি ফেসবুক ফেক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়।

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই পোস্টটি শেয়ার করেন কুনিয়াচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি সুমন। পরে ক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা তাকে দোকান থেকে ধরে এনে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

 

 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন।

আরও পড়ুন>>লংগদুতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী: আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য ও পানি বিতরণ

 

পরে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। অপরদিকে প্রশাসন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাশেমের সঙ্গে কথা বলে উভয় পক্ষকে সরে যেতে অনুরোধ করে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই কর্মসূচি স্থগিত করে স্থান ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, “মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হতে পারে না। অনুমতি ছাড়া সেখানে কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিবাদ করেছি। এছাড়া ফেসবুকের ফেক আইডি ব্যবহার করে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অপচেষ্টা চলছে, যা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে।”

 

 

 

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলেন, “এটি নিয়ম মেনে আয়োজিত কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ছিল। আমাদের বৈধ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।”

 

 

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত পৃথক মিছিল বের করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।”

 

 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দামুড়হুদায় কুরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১১:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

 

 

দামুড়হুদায় কুরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

 

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

শনিবার(১১জুলাই) এর ঘটনার জেরে রোববার বিকেলে উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে শহরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়ে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চান।

পড়ুন>> চট্টগ্রাম দক্ষিণে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে জাতীয় পার্টির ব্যাপক প্রস্তুতি

 

 

 

 

জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, এটি ছিল কেবল কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ। তবে বিএনপির অভিযোগ, মডেল মসজিদে গোপনে রাজনৈতিক বৈঠক করা হচ্ছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

 

 

তাদের দাবি, গাড়িগুলোতে অস্ত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

 

 

 

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়। খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তিনজন জামায়াত কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পড়ুন>> বাঘাইছড়িতে বন্যাকবলিত ৬ শতাধিক মানুষের পাশে মারিশ্যা জোন বিজিবি

 

 

 

এদিকে রোববার ‘জুলাই সনদ’ নামের একটি ফেসবুক ফেক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়।

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই পোস্টটি শেয়ার করেন কুনিয়াচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি সুমন। পরে ক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা তাকে দোকান থেকে ধরে এনে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

 

 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন।

আরও পড়ুন>>লংগদুতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী: আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য ও পানি বিতরণ

 

পরে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। অপরদিকে প্রশাসন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাশেমের সঙ্গে কথা বলে উভয় পক্ষকে সরে যেতে অনুরোধ করে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই কর্মসূচি স্থগিত করে স্থান ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, “মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হতে পারে না। অনুমতি ছাড়া সেখানে কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিবাদ করেছি। এছাড়া ফেসবুকের ফেক আইডি ব্যবহার করে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অপচেষ্টা চলছে, যা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে।”

 

 

 

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলেন, “এটি নিয়ম মেনে আয়োজিত কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ছিল। আমাদের বৈধ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।”

 

 

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত পৃথক মিছিল বের করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।”

 

 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box