ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালন ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৪ বিরলে বিএনপির আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন নওগাঁয় ডিসি গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে ১০ নভেম্বর নাগেশ্বরীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নওগাঁয় ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো র‍্যাগিং চলবে না-উপাচার্য হাসানাত আলী কাউনিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও র‍্যালি সরিষাবাড়ীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসব

ঠাকুরগাঁও থেকে হুমায়ুন কবীর
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ৫১৫০ বার পড়া হয়েছে

বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসবে মাছ ধরার জাল ফেলছেন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসব

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসব।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁওয়ে বুড়িবাঁধে ঐতিহ্যবহনকারী মাছ ধরার মহোৎসবে ছুটে এসেছে তিন জেলার হাজারো মানুষ। হাতে জাল, খৈলসা আর ছোট নৌকা। কেউ ভেলায়, কেউবা পানিতে কোমরজল ডুবে জাল ফেলছেন সারি বেঁধে। যেন নদীর বুকে উৎসবের ঢেউ। শনিবার ১৮ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সুক নদীর বুড়ি বাঁধেক ‘দিন ধরে চলে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উৎসব।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এদিন সকালে বাঁধের জল-কপাট খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকেই নদীর দুই পাড়ে জমে ওঠে মানুষের ঢল। কেউ মাছ ধরছেন, কেউ কিনছেন, কেউবা শুধু দেখতে এসেছেন এই অনন্য উৎসবের রঙে নিজেকে আনন্দে ভিজিয়ে নিচ্ছেন সবাই।

 

 

প্রতিদিন বাঁধের পানিতে নেমে পড়েন শত শত মানুষ। হাতে জাল, খইলসা ও ছোট ছোট নৌকা নিয়ে চলে এক প্রতিযোগিতা। রাতভর চলে মাছ ধরা— ভোর হতেই ধরা মাছ নিয়ে ডাঙায় ফিরতে থাকেন শিকারিরা। উৎসবের চারপাশে তখন ভেসে আসে হাসি-আনন্দের সুর। সদরের আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত বুড়ি বাঁধ, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।

পড়ুন>>পাইকগাছায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন

 

প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শুরুতে বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়া হয়, আর এ সময় আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন মাছ ধরতে ও দেখতে। তিন থেকে চার দিনব্যাপী এই উৎসবে নদীজুড়ে ধরা পড়ে দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ,  টাকি, পুঁটি, মলা, ফলি, শিং, শোল, টেংরা, যা ভালো দামে বিক্রি হয় বাঁধপাড়ের অস্থায়ী বাজারে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, আগের মতো এখন আর তেমন বড় বড় মাছ মেলে না। একজন স্থানীয় মৎস্যজীবী বলেন, আগে রিং জাল দিয়ে অনেকে আগেভাগেই মাছ ধরে ফেলত, তাই এখন মাছ কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু তবুও এই উৎসবটাই আমাদের আনন্দের জায়গা, সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরা, হাসি-আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়।

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথা মতে, ১৯৫২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মাণ করে বুড়ি বাঁধটি, যা পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে সংস্কার করা হয়। চলতি বছর বাঁধটির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর উঁচু জমির আমন ধানের সেচের চাহিদা পূরণ করা হয়েছে,যা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ

 

স্থানীয়রা জানান, এই উৎসব শুধু মাছ ধরার নয়, এটি এখন পরিণত হয়েছে একটি সামাজিক মিলনমেলায়। ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পাশের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর থেকেও মানুষ আসেন এই উৎসবে যোগ দিতে। পুরো এলাকা তখন পরিণত হয় এক আনন্দমুখর পানি-জাল ও মাছের মিলনমেলায়।

 

 

কেউ জাল ফেলছে, কেউ মাছের দর হাঁকছে, কেউবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে প্রকৃতির কোলে।

 

 

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা বুড়ি বাঁধে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে কাজ করছি। এ বছর একাধিকবার অভিযান চালিয়ে রিং জাল ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে যেন আরও বেশি মাছ পাওয়া যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন বিনোদনের জায়গা খুঁজে পায় না, তাই এই বাঁধের উৎসব তাদের আনন্দের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসব

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

 

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসব

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়িরবাঁধে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার মহোৎসব।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁওয়ে বুড়িবাঁধে ঐতিহ্যবহনকারী মাছ ধরার মহোৎসবে ছুটে এসেছে তিন জেলার হাজারো মানুষ। হাতে জাল, খৈলসা আর ছোট নৌকা। কেউ ভেলায়, কেউবা পানিতে কোমরজল ডুবে জাল ফেলছেন সারি বেঁধে। যেন নদীর বুকে উৎসবের ঢেউ। শনিবার ১৮ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সুক নদীর বুড়ি বাঁধেক ‘দিন ধরে চলে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উৎসব।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এদিন সকালে বাঁধের জল-কপাট খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকেই নদীর দুই পাড়ে জমে ওঠে মানুষের ঢল। কেউ মাছ ধরছেন, কেউ কিনছেন, কেউবা শুধু দেখতে এসেছেন এই অনন্য উৎসবের রঙে নিজেকে আনন্দে ভিজিয়ে নিচ্ছেন সবাই।

 

 

প্রতিদিন বাঁধের পানিতে নেমে পড়েন শত শত মানুষ। হাতে জাল, খইলসা ও ছোট ছোট নৌকা নিয়ে চলে এক প্রতিযোগিতা। রাতভর চলে মাছ ধরা— ভোর হতেই ধরা মাছ নিয়ে ডাঙায় ফিরতে থাকেন শিকারিরা। উৎসবের চারপাশে তখন ভেসে আসে হাসি-আনন্দের সুর। সদরের আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত বুড়ি বাঁধ, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।

পড়ুন>>পাইকগাছায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন

 

প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শুরুতে বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়া হয়, আর এ সময় আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন মাছ ধরতে ও দেখতে। তিন থেকে চার দিনব্যাপী এই উৎসবে নদীজুড়ে ধরা পড়ে দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ,  টাকি, পুঁটি, মলা, ফলি, শিং, শোল, টেংরা, যা ভালো দামে বিক্রি হয় বাঁধপাড়ের অস্থায়ী বাজারে।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, আগের মতো এখন আর তেমন বড় বড় মাছ মেলে না। একজন স্থানীয় মৎস্যজীবী বলেন, আগে রিং জাল দিয়ে অনেকে আগেভাগেই মাছ ধরে ফেলত, তাই এখন মাছ কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু তবুও এই উৎসবটাই আমাদের আনন্দের জায়গা, সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরা, হাসি-আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়।

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথা মতে, ১৯৫২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মাণ করে বুড়ি বাঁধটি, যা পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে সংস্কার করা হয়। চলতি বছর বাঁধটির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর উঁচু জমির আমন ধানের সেচের চাহিদা পূরণ করা হয়েছে,যা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ

 

স্থানীয়রা জানান, এই উৎসব শুধু মাছ ধরার নয়, এটি এখন পরিণত হয়েছে একটি সামাজিক মিলনমেলায়। ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পাশের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর থেকেও মানুষ আসেন এই উৎসবে যোগ দিতে। পুরো এলাকা তখন পরিণত হয় এক আনন্দমুখর পানি-জাল ও মাছের মিলনমেলায়।

 

 

কেউ জাল ফেলছে, কেউ মাছের দর হাঁকছে, কেউবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে প্রকৃতির কোলে।

 

 

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা বুড়ি বাঁধে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে কাজ করছি। এ বছর একাধিকবার অভিযান চালিয়ে রিং জাল ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে যেন আরও বেশি মাছ পাওয়া যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন বিনোদনের জায়গা খুঁজে পায় না, তাই এই বাঁধের উৎসব তাদের আনন্দের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box