ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট: চরম দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

ঠাকুরগাঁও থেকে হুমায়ুন কবীর
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৩২৯১৬ বার পড়া হয়েছে

রুহিয়া উপজেলার পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট: চরম দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

 

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট প্রায় সাত মাস ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

 

 

 

মঙ্গলবার ৩০ জুন সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের মলানখুড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কটি গেছে।

পড়ুন>> কালীগঞ্জের কালোজাদুর গুজবে বিদ‍্যালয়ের ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের কাজ করে। সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে কালভার্টটি দেবে যায়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

 

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক রুবেল ইসলাম ও মোস্তাকিম, অটোরিকশাচালক সমর দাস জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে সময়ও বেশি লাগছে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা কায়সার আলী মিন্টু বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কালভার্ট মাসের পর মাস ভেঙে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

পড়ুন>>কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার

 

 

আব্দুল জলিল বলেন, “একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে কালভার্টটি ভেঙে থাকার কারণে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

 

 

 

স্থানীয় কৃষক কুশল রায় বলেন, “কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ এবং কৃষিযন্ত্র পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।”গৃহবধূ তেরজিনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুরা সাইকেলে করে স্কুলে যায়। ভাঙা কালভার্টের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে থাকতে হয়। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”

 

 

 

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাক্ষর বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই ভাঙা কালভার্ট পার হতে হয়। খুব ভয় লাগে। একজন সাইকেল নিয়ে পার হওয়ার পর আরেকজনকে অপেক্ষা করতে হয়। সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সদর উপজেলা ও রুহিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন>> দুধকুমারসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত

 

 

তবে সেনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, “কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।”

 

দীর্ঘ সাত মাস ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা কালভার্টটি এখন শুধু একটি ভাঙা অবকাঠামো নয়, এটি হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির স্বার্থে দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট: চরম দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মাস ধরে ভাঙা কালভার্ট: চরম দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

 

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট প্রায় সাত মাস ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

 

 

 

মঙ্গলবার ৩০ জুন সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের মলানখুড়ি গ্রামের ওপর দিয়ে পাটিয়াডাঙ্গী-লক্ষ্মীরহাট সংযোগ সড়কটি গেছে।

পড়ুন>> কালীগঞ্জের কালোজাদুর গুজবে বিদ‍্যালয়ের ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের কাজ করে। সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে কালভার্টটি দেবে যায়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

 

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক রুবেল ইসলাম ও মোস্তাকিম, অটোরিকশাচালক সমর দাস জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে সময়ও বেশি লাগছে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা কায়সার আলী মিন্টু বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কালভার্ট মাসের পর মাস ভেঙে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

পড়ুন>>কুড়িগ্রামে ৩৬ পয়েন্টে ভাঙনে ভিটেবাড়ি ছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার

 

 

আব্দুল জলিল বলেন, “একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে কালভার্টটি ভেঙে থাকার কারণে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

 

 

 

স্থানীয় কৃষক কুশল রায় বলেন, “কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ এবং কৃষিযন্ত্র পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।”গৃহবধূ তেরজিনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুরা সাইকেলে করে স্কুলে যায়। ভাঙা কালভার্টের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে থাকতে হয়। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”

 

 

 

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাক্ষর বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই ভাঙা কালভার্ট পার হতে হয়। খুব ভয় লাগে। একজন সাইকেল নিয়ে পার হওয়ার পর আরেকজনকে অপেক্ষা করতে হয়। সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সদর উপজেলা ও রুহিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. মাবুদ হোসেন ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন>> দুধকুমারসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত

 

 

তবে সেনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, “কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।”

 

দীর্ঘ সাত মাস ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা কালভার্টটি এখন শুধু একটি ভাঙা অবকাঠামো নয়, এটি হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির স্বার্থে দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box