ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরের মকশ বিল: হতে পারে ইকো-ট্যুরিজমের নতুন গন্তব্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সারা দেশে পৌঁছাবে নতুন পাঠ্যবই জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে কুকুরের আক্রমণে শিশু প্রাণ হারাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পাকিস্তানে অনলাইনে বাড়ছে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা নিউ ইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক নতুন তথ্য: সরকারিভাবে ব্রুনেইয়ে চাকরি, নেবে ২৭৯ জন আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস পরিদর্শন করলেন শেখ জোয়ান

জ্বালানি তেলের সংকটে স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:২০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ১৯৯২৪ বার পড়া হয়েছে

সোনাহাট স্থলবন্দর

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

জ্বালানি তেলের সংকটে স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর

 

 

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানি-রফতানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মাঝেই বেল্ট মেশিনে সীমিত পরিসরে পাথর ভাঙার কাজ চলছে। প্রতিটি ডিপোতে জমে আছে ভাঙা পাথরের স্তুপ। বাজারে পাথরের চাহিদা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা পাথর লোড দিতে পারছেন না এবং বেচাকেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ ডিপোর পাথর লোডিং মেশিন অলস পড়ে আছে। ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থলবন্দরে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর শ্রমিকরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে।

 

পড়ুন>> তাহিরপুরে ইয়াবা, নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক

 

 

 

ডিপোগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর খুচরা বাজারেও তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

 

 

 

ট্রাক মালিকদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তারা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করতে পারছেন না। অনেক ট্রাক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। ট্রাক টার্মিনালে খালি ট্রাকের দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
পাথর ভাঙা ও লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

 

 

 

ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “তেল সংকটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।”

 

 

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) জহুরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি ট্রাক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।”

 

পড়ুন>> রাণীশংকৈলে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনের অবসরজনিত বিদায়

 

 

ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ দিতে পারছে না।”

 

 

আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবহন সংকটের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

 

 

মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রাকে পাথর লোড হতো। এখন দিনে ১০ থেকে ১২টির বেশি ট্রাক লোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে।”

 

 

 

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এ স্থলবন্দরেও পড়েছে, ফলে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে।

আরও পড়ুন>>ব্রহ্মপুত্রের দুর্গমচরের আশীর্বাদ আমবাড়ি ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যালয়

 

 

সোনাহাট স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আকমল হোসেন এর তথ‍্যমতে, জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা মতো ট্রাক স্থলবন্দরে না আসায় পাথর বেচা কেনা কিছুটা কমেছে। ব‍্যসায়ীদের ডিপোগুলোতে পাথরের স্তুপ জমে আছে। ভূরুঙ্গামারীর একমাত্র তেলের পাম্পে জ্বালানি সর্বরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 

 

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক আমিনুল হক জানান, স্থলবন্দরে এলসি আগের মতোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢুকছে। বাইরে হয়তো বেচাকেনা একটু কমেছে। কিন্তু রাজস্ব আয়ে এর কোন প্রভাব পড়েনি।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি তেলের সংকটে স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর

আপডেট সময় : ১১:২০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

 

জ্বালানি তেলের সংকটে স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর

 

 

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানি-রফতানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মাঝেই বেল্ট মেশিনে সীমিত পরিসরে পাথর ভাঙার কাজ চলছে। প্রতিটি ডিপোতে জমে আছে ভাঙা পাথরের স্তুপ। বাজারে পাথরের চাহিদা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা পাথর লোড দিতে পারছেন না এবং বেচাকেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ ডিপোর পাথর লোডিং মেশিন অলস পড়ে আছে। ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থলবন্দরে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর শ্রমিকরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে।

 

পড়ুন>> তাহিরপুরে ইয়াবা, নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক

 

 

 

ডিপোগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর খুচরা বাজারেও তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

 

 

 

ট্রাক মালিকদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তারা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করতে পারছেন না। অনেক ট্রাক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। ট্রাক টার্মিনালে খালি ট্রাকের দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
পাথর ভাঙা ও লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

 

 

 

ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “তেল সংকটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।”

 

 

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) জহুরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি ট্রাক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।”

 

পড়ুন>> রাণীশংকৈলে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনের অবসরজনিত বিদায়

 

 

ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ দিতে পারছে না।”

 

 

আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবহন সংকটের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

 

 

মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রাকে পাথর লোড হতো। এখন দিনে ১০ থেকে ১২টির বেশি ট্রাক লোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে।”

 

 

 

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এ স্থলবন্দরেও পড়েছে, ফলে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে।

আরও পড়ুন>>ব্রহ্মপুত্রের দুর্গমচরের আশীর্বাদ আমবাড়ি ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যালয়

 

 

সোনাহাট স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আকমল হোসেন এর তথ‍্যমতে, জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা মতো ট্রাক স্থলবন্দরে না আসায় পাথর বেচা কেনা কিছুটা কমেছে। ব‍্যসায়ীদের ডিপোগুলোতে পাথরের স্তুপ জমে আছে। ভূরুঙ্গামারীর একমাত্র তেলের পাম্পে জ্বালানি সর্বরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 

 

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক আমিনুল হক জানান, স্থলবন্দরে এলসি আগের মতোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢুকছে। বাইরে হয়তো বেচাকেনা একটু কমেছে। কিন্তু রাজস্ব আয়ে এর কোন প্রভাব পড়েনি।

 

 

 

 

Facebook Comments Box