ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ

চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘ ৩৬ দিনে গড়িয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে গত রোববার ২৫ অক্টোবর রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে একইদিন দুপুরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বুধবার থেকে সরাসরি ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অধিকাংশ বিভাগের প্রধানদের মধ্যেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই-একজনের কিছুটা দ্বিধা থাকলেও অধিকাংশই বুধবার থেকে ক্লাসে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানিয়েছেন, বিভাগগুলো নিজেদের সুবিধামতো সময়ে ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করবে। তবে স্নাতক পর্যায়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে ১১টির প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবার প্রস্তুতি ও তারিখ এক নয়। এছাড়া একটি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। চুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের ১২ বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগের প্রধানদের সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন না পাওয়ায় তারা এখনো ক্লাস শুরুর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেননি। কোর্স সমন্বয়কের মাধ্যমে আবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক জানান, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছে। তবে অন্য ব্যাচগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ জানান, তাদের বিভাগ শতভাগ প্রস্তুত। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে এবং অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ক্লাস শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের দূরত্বের কথা বিবেচনা করে বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মঙ্গলবার উপস্থিত হতে বলেছেন। তিনি বলেন, অনেকে দূর-দূরান্তে আছে, তাই তাদের আসার জন্য সময় দিতে হচ্ছে। আমি বলেছি, তোমরা মঙ্গলবার আসো, আমরা বুধবার থেকে শুরু করতে চাই।

ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নন। তবে শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ফেরার কথা জানালেও উপস্থিতির সাপেক্ষে আগামীকাল থেকেই ক্লাসে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানান, তাদের ক্লাস শুরুর পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ জানান, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করবে, তবে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা থাকায় তারা আগামী সপ্তাহে ক্লাসে ফিরবে। মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রসেনজিৎ দাশ জানান, ২২ ব্যাচের একটি গ্রুপ বুধবার থেকে ফেরার আবেদন করেছে এবং ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার থেকে ক্লাস শুরু করবে। এর পাশাপাশি ২১ ব্যাচের পরীক্ষা চলছে। এছাড়া ২১ ব্যাচের পরীক্ষা চলছিল।

বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ জানান, চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলায় অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ক্লাসে ফিরতে চায়।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা নিশ্চিত করেছেন, বুধবার থেকেই সকল বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। তবে স্থাপত্য বিভাগের প্রধান ড. সজল চৌধুরী ছুটিতে থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি; তিনি জানিয়েছেন, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার বিভাগ তা-ই মানবে। পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোছা. ফারজানা রহমান জুথীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত পরামর্শক কমিটি আগামী বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করবে। কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই সভা থেকেই একাডেমিক কার্যক্রমের পরবর্তী রূপরেখা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘ ৩৬ দিনে গড়িয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে গত রোববার ২৫ অক্টোবর রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে একইদিন দুপুরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বুধবার থেকে সরাসরি ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অধিকাংশ বিভাগের প্রধানদের মধ্যেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই-একজনের কিছুটা দ্বিধা থাকলেও অধিকাংশই বুধবার থেকে ক্লাসে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানিয়েছেন, বিভাগগুলো নিজেদের সুবিধামতো সময়ে ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করবে। তবে স্নাতক পর্যায়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে ১১টির প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবার প্রস্তুতি ও তারিখ এক নয়। এছাড়া একটি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। চুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের ১২ বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগের প্রধানদের সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন না পাওয়ায় তারা এখনো ক্লাস শুরুর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেননি। কোর্স সমন্বয়কের মাধ্যমে আবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক জানান, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছে। তবে অন্য ব্যাচগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ জানান, তাদের বিভাগ শতভাগ প্রস্তুত। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে এবং অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ক্লাস শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের দূরত্বের কথা বিবেচনা করে বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মঙ্গলবার উপস্থিত হতে বলেছেন। তিনি বলেন, অনেকে দূর-দূরান্তে আছে, তাই তাদের আসার জন্য সময় দিতে হচ্ছে। আমি বলেছি, তোমরা মঙ্গলবার আসো, আমরা বুধবার থেকে শুরু করতে চাই।

ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নন। তবে শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ফেরার কথা জানালেও উপস্থিতির সাপেক্ষে আগামীকাল থেকেই ক্লাসে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানান, তাদের ক্লাস শুরুর পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ জানান, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করবে, তবে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা থাকায় তারা আগামী সপ্তাহে ক্লাসে ফিরবে। মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রসেনজিৎ দাশ জানান, ২২ ব্যাচের একটি গ্রুপ বুধবার থেকে ফেরার আবেদন করেছে এবং ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার থেকে ক্লাস শুরু করবে। এর পাশাপাশি ২১ ব্যাচের পরীক্ষা চলছে। এছাড়া ২১ ব্যাচের পরীক্ষা চলছিল।

বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ জানান, চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলায় অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ক্লাসে ফিরতে চায়।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা নিশ্চিত করেছেন, বুধবার থেকেই সকল বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। তবে স্থাপত্য বিভাগের প্রধান ড. সজল চৌধুরী ছুটিতে থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি; তিনি জানিয়েছেন, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার বিভাগ তা-ই মানবে। পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোছা. ফারজানা রহমান জুথীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত পরামর্শক কমিটি আগামী বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করবে। কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই সভা থেকেই একাডেমিক কার্যক্রমের পরবর্তী রূপরেখা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Facebook Comments Box