ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

চাঁদের নিচে আলোক বিন্দুর এর প্রকৃত রহস্য

সৃষ্টি প্রযুক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ ৪৮৯ বার পড়া হয়েছে

চাঁদের নিচে আলোক বিন্দুর এর প্রকৃত রহস্য

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাঁদের নিচে আলোক বিন্দু। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাতামাতি। এসংক্রান্ত ছবি সমানে শেয়ার করে চলেছে নেটিজেনরা। সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে নানা রকম মন্তব্য। কেউ কেউ বলছে, এটি কোনো তারকা। তবে জানা গেছে চাঁদের নিচে আলোক বিন্দুর এর প্রকৃত রহস্য।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিকস জানিয়েছে, বসন্তের আকাশে ধরা দেওয়া রহস্যময় এই আলোকরেখা আসলে শুক্র গ্রহ। এই মহাজাগতিক দৃশ্য অবশ্য খুবই বিরল।

সৌরমণ্ডলের উজ্জ্বলতম গ্রহটি গতকাল শুক্রবার চলে আসে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের কাছাকাছি। নতুন অবস্থানের কারণেই মানুষের কাছে নতুনভাবে ধরা দেয় গ্রহটি। তবে সেটি আবার হারিয়ে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে চাঁদের সঙ্গে এক সারিতে দেখা গিয়েছিল শুক্র ও সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতিকে। এবার চাঁদের তলায় চলে এলো শুক্র গ্রহ।

মনে করিয়ে দিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সেই ‘হীরার আংটি’র কথা। গতকাল চাঁদের নিচে অবস্থানের পাশাপাশি কিছুক্ষণের জন্য চাঁদের আড়ালেও চলে গিয়েছিল গ্রহটি।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই বিরল ‘মহাজাগতিক মিলন’ দেখার উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিকসের তরফে টেলিস্কোপ ও ক্যামেরা ব্যবহার করে এই মহাজাগতিক ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। উৎসাহীদের প্রশ্নের উত্তর দিতেও হাজির ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন জানান, এই বিরল দৃশ্য বা গ্রহণ চাঁদে-সূর্যে নয়, বরং চাঁদে আর শুক্রে। এটা খুবই স্বাভাবিক নিয়মিত ঘটনা।

পৃথিবীর কোনো জায়গা থেকে দৃষ্টিরেখা বরাবর যদি একই সরলরেখায় চাঁদ ও শুক্র এসে পড়ে, তাহলে চাঁদের আড়ালে শুক্রকে ঢাকা পড়তে দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, চাঁদের এরকম অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে ঢেকে দেওয়াকে বলা হয় চাঁদের আড়াল।

শুক্র যখন চাঁদের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে, তখন বাংলাদেশ সময় ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, খালি চোখেই তা দেখা গেছে।

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুর রহমান জানান, আসলে শুক্রগ্রহের আলোক ছটাতেই তৈরি হয়েছে ওই আলোর বিন্দু।

কাস্তের মতো পাতলা এক চিলতে চাঁদ যেন আরও বেশি লালচে দেখাচ্ছিল। মাত্র ৬% আলোকিত। চাঁদের ঠিক সামান্য নিছেই রুপালি-সোনালি রঙের শুক্র গ্রহ দেখা যাচ্ছে। ঠিক যেন আকাশে কেউ দীপাবলির আলো টাঙিয়েছে।

দুই মহাজাগতিক বস্তু এদিন প্রায় ৬.৫ ডিগ্রির ব্যবধান রয়েছে। অনেকেই অজান্তে এদিন সন্ধ্যায় চাঁদের দিকে তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফটো তুলেও পোস্ট করতে শুরু করেন। সেই ছবি দেখে আরও বেশি মানুষ এই দৃশ্য চাক্ষুষ করেছেন।

কলকাতার পজিশনাল অফ অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের বিজ্ঞানী দেবপ্রিয় রায় জানিয়েছেন, সোজা বাংলায় বলতে গেলে চাঁদের উপর দিয়ে শুক্র পার করে গিয়েছে। সেই বিষয়টি কলকাতা থেকে পরিলক্ষিত হয়নি।

পড়ুন>>শতাব্দীর মহাজাগতিক এক বিরল ঘটনার স্বাক্ষী রইল পৃথিবীবাসী

চাঁদের উপর দিয়ে শুক্র পেরিয়ে যাওয়ার পর আকাশ থেকে সেই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। চাঁদের উত্তর দিকে শুক্র অবস্থান করছে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) পরেই অবশ্য এই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

চাঁদ সামান্য প্রশস্ত (১২%) হবে। অন্যদিকে শুক্রের আরও উপরে এবং সামান্য বা দিকে সরে যাবে। ফলে এতটা কাছাকাছি দেখার সুযোগ পাবেন না।

চাঁদ পৃথিবী থেকে ২,৩৩,৪০০ মাইল (৩,৭৫,৭০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে শুক্রগ্রহ প্রায় ১১৫ মিলিয়ন মাইল (১৮৫ মিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। যা কি না ৪৯২ গুণ বেশি।

ম্লান সন্ধ্যার আলোয় প্রথম যে ‘তারা’দের দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শুকতারা। আসলে এটিই শুক্র গ্রহ।

দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কলকাতা অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অনুপম নস্কর জানালেন, ‘চাঁদ, পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে বলে, আমরা দেখি আকাশের গায়ে চাঁদ ক্রমশ পূর্বদিকে সরে যাচ্ছে।

এই সরে যাওয়ার পথেই আজ চাঁদ আড়াল করে ফেলল শুক্রকে। আর যে জায়গা থেকে এই আড়ালের পথটা মিলে গিয়েছে সেখান থেকেই দেখা যাবে চাঁদের আড়াল বা Lunar Occultation।’

তিনি জানান, এদিন বিকেল ৪:৪৩টা নাগাদ শুক্রকে চাঁদ ঢেকে দেয়। কিন্তু সেই সময় আকাশে সূর্যের উপস্থিতি থাকায় এই দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে সন্ধেবেলা আকাশ পরিষ্কার থাকায় এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “চাঁদের নিচে আলোক বিন্দুর এর প্রকৃত রহস্য”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদের নিচে আলোক বিন্দুর এর প্রকৃত রহস্য

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

চাঁদের নিচে আলোক বিন্দু। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাতামাতি। এসংক্রান্ত ছবি সমানে শেয়ার করে চলেছে নেটিজেনরা। সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে নানা রকম মন্তব্য। কেউ কেউ বলছে, এটি কোনো তারকা। তবে জানা গেছে চাঁদের নিচে আলোক বিন্দুর এর প্রকৃত রহস্য।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিকস জানিয়েছে, বসন্তের আকাশে ধরা দেওয়া রহস্যময় এই আলোকরেখা আসলে শুক্র গ্রহ। এই মহাজাগতিক দৃশ্য অবশ্য খুবই বিরল।

সৌরমণ্ডলের উজ্জ্বলতম গ্রহটি গতকাল শুক্রবার চলে আসে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের কাছাকাছি। নতুন অবস্থানের কারণেই মানুষের কাছে নতুনভাবে ধরা দেয় গ্রহটি। তবে সেটি আবার হারিয়ে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে চাঁদের সঙ্গে এক সারিতে দেখা গিয়েছিল শুক্র ও সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতিকে। এবার চাঁদের তলায় চলে এলো শুক্র গ্রহ।

মনে করিয়ে দিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সেই ‘হীরার আংটি’র কথা। গতকাল চাঁদের নিচে অবস্থানের পাশাপাশি কিছুক্ষণের জন্য চাঁদের আড়ালেও চলে গিয়েছিল গ্রহটি।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই বিরল ‘মহাজাগতিক মিলন’ দেখার উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিকসের তরফে টেলিস্কোপ ও ক্যামেরা ব্যবহার করে এই মহাজাগতিক ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। উৎসাহীদের প্রশ্নের উত্তর দিতেও হাজির ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন জানান, এই বিরল দৃশ্য বা গ্রহণ চাঁদে-সূর্যে নয়, বরং চাঁদে আর শুক্রে। এটা খুবই স্বাভাবিক নিয়মিত ঘটনা।

পৃথিবীর কোনো জায়গা থেকে দৃষ্টিরেখা বরাবর যদি একই সরলরেখায় চাঁদ ও শুক্র এসে পড়ে, তাহলে চাঁদের আড়ালে শুক্রকে ঢাকা পড়তে দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, চাঁদের এরকম অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে ঢেকে দেওয়াকে বলা হয় চাঁদের আড়াল।

শুক্র যখন চাঁদের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে, তখন বাংলাদেশ সময় ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, খালি চোখেই তা দেখা গেছে।

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুর রহমান জানান, আসলে শুক্রগ্রহের আলোক ছটাতেই তৈরি হয়েছে ওই আলোর বিন্দু।

কাস্তের মতো পাতলা এক চিলতে চাঁদ যেন আরও বেশি লালচে দেখাচ্ছিল। মাত্র ৬% আলোকিত। চাঁদের ঠিক সামান্য নিছেই রুপালি-সোনালি রঙের শুক্র গ্রহ দেখা যাচ্ছে। ঠিক যেন আকাশে কেউ দীপাবলির আলো টাঙিয়েছে।

দুই মহাজাগতিক বস্তু এদিন প্রায় ৬.৫ ডিগ্রির ব্যবধান রয়েছে। অনেকেই অজান্তে এদিন সন্ধ্যায় চাঁদের দিকে তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফটো তুলেও পোস্ট করতে শুরু করেন। সেই ছবি দেখে আরও বেশি মানুষ এই দৃশ্য চাক্ষুষ করেছেন।

কলকাতার পজিশনাল অফ অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের বিজ্ঞানী দেবপ্রিয় রায় জানিয়েছেন, সোজা বাংলায় বলতে গেলে চাঁদের উপর দিয়ে শুক্র পার করে গিয়েছে। সেই বিষয়টি কলকাতা থেকে পরিলক্ষিত হয়নি।

পড়ুন>>শতাব্দীর মহাজাগতিক এক বিরল ঘটনার স্বাক্ষী রইল পৃথিবীবাসী

চাঁদের উপর দিয়ে শুক্র পেরিয়ে যাওয়ার পর আকাশ থেকে সেই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। চাঁদের উত্তর দিকে শুক্র অবস্থান করছে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) পরেই অবশ্য এই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

চাঁদ সামান্য প্রশস্ত (১২%) হবে। অন্যদিকে শুক্রের আরও উপরে এবং সামান্য বা দিকে সরে যাবে। ফলে এতটা কাছাকাছি দেখার সুযোগ পাবেন না।

চাঁদ পৃথিবী থেকে ২,৩৩,৪০০ মাইল (৩,৭৫,৭০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে শুক্রগ্রহ প্রায় ১১৫ মিলিয়ন মাইল (১৮৫ মিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। যা কি না ৪৯২ গুণ বেশি।

ম্লান সন্ধ্যার আলোয় প্রথম যে ‘তারা’দের দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শুকতারা। আসলে এটিই শুক্র গ্রহ।

দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কলকাতা অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অনুপম নস্কর জানালেন, ‘চাঁদ, পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে বলে, আমরা দেখি আকাশের গায়ে চাঁদ ক্রমশ পূর্বদিকে সরে যাচ্ছে।

এই সরে যাওয়ার পথেই আজ চাঁদ আড়াল করে ফেলল শুক্রকে। আর যে জায়গা থেকে এই আড়ালের পথটা মিলে গিয়েছে সেখান থেকেই দেখা যাবে চাঁদের আড়াল বা Lunar Occultation।’

তিনি জানান, এদিন বিকেল ৪:৪৩টা নাগাদ শুক্রকে চাঁদ ঢেকে দেয়। কিন্তু সেই সময় আকাশে সূর্যের উপস্থিতি থাকায় এই দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে সন্ধেবেলা আকাশ পরিষ্কার থাকায় এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

Facebook Comments Box