খুলনা মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপুকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রবিবার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে র্যাব-৬-এর খুলনা সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার আরমান দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার মো. আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আরমান স্বীকার করেছেন যে, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করার ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮-১০ জনের একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
বিশেষ করে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে ব্যবসায়ীদের হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন তিনি। চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা প্রাণনাশের হুমকি দিতেন এই সন্ত্রাসী।
র্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম জানান, আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শর্টগান এবং ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অতীতে তিনি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা গ্রুপের সদস্য ছিলেন। পরে সেই গ্রুপ থেকে বেরিয়ে তিনি নিজের নামে বাহিনী গঠন করেন। তার বাহিনীর ৮-১০ জন সদস্যের মধ্যে তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরমানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলা অন্যতম।
এছাড়া দৌলতপুর মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বর্তমানে বাহিনীর অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply