অস্তিত্ব সংকটে কুতুবদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন: লবণ চাষের আগ্রাসনে কমছে উপকূলের রক্ষাকবচ
- আপডেট সময় : ০৭:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
অস্তিত্ব সংকটে কুতুবদিয়ার ম্যানগ্রোভ বন: লবণ চাষের আগ্রাসনে কমছে উপকূলের রক্ষাকবচ
কক্সবাজারের উপকূলীয় দ্বীপ কুতুবদিয়া চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠে এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর দিকে এখানে মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবেই দুর্যোগপ্রবণ। এই দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য ম্যানগ্রোভ বন কেবল গাছপালা নয়, বরং সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এই বনের শেকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে উপকূলের ক্ষয় রোধ করে এবং ঢেউয়ের তীব্রতা কমিয়ে দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
তবে গত কয়েক দশকে কুতুবদিয়ার এই সুরক্ষাকবচ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের চারপাশ জুড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ একর ম্যানগ্রোভ বন ছিল।
পড়ুন>>এনবিআর সংস্কার আন্দোলনে জড়িত ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ করল সরকার
কিন্তু গত তিন দশকে লবণ মাঠ তৈরির নেশায় প্রায় ৯০০ একর বন উজাড় করা হয়েছে। বর্তমানে টিকে থাকা ২০০ একর ম্যানগ্রোভ বনও আগ্রাসী লবণ চাষের কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মে ২০২৫ সালের সর্বশেষ স্যাটেলাইট জরিপ অনুযায়ী, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের আনিচের ডেইল, বড়ঘোপের অমজাখালী ও আজম কলোনী, লেমশীখালীর গাইনেকাটা এবং উত্তর ধুরুংয়ের আকবরবলী ঘাট এলাকায় এই ২০০ একর বন অবশিষ্ট রয়েছে।
কুতুবদিয়া বন দপ্তরের কর্মকর্তা আবদু রাজ্জাক জানান, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, লবণ চাষের ব্যাপক বিস্তার, জলবায়ুর বৈরিতা এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে ম্যানগ্রোভের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বর্তমানে দ্বীপের বনে কেবল গেওয়া, কেওড়া ও বাইন প্রজাতির কিছু গাছ টিকে থাকলেও অন্যান্য প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বন বিভাগ নতুন করে ২০০ একর ম্যানগ্রোভ সৃজনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পড়ুন>>গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমিতে ২০৫ পদে নিয়োগ: আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজারের জেলা সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস হওয়ার ফলে দ্বীপের বেড়িবাঁধগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবছর ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও দুর্নীতির কারণে কোনো টেকসই সমাধান মিলছে না। অন্যদিকে, লবণের লোভে স্থানীয়রা নির্বিচারে বন উজাড় করছে, যা দ্বীপের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে।
দ্বীপের পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন মহল অবিলম্বে ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে এই বন সংরক্ষণ করা অপরিহার্য। বন রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উপকূলের নিরাপত্তা ও দ্বীপের স্থায়িত্ব রক্ষায় ম্যানগ্রোভ বন বাঁচিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























