দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির খবর নিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬৩৮ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভের এই ইতিবাচক অবস্থানের পেছনে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে, অর্থপাচারের চাহিদা কমে যাওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হার বেড়েছে।
গত এপ্রিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ক্রয় করেছে, যা রিজার্ভের ভিত মজবুত করতে সহায়তা করেছে।
বর্তমানে দেশের মাসিক গড় আমদানি ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মানদণ্ড অনুযায়ী, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতা এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ থাকা সত্ত্বেও ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে। এই আর্থিক সক্ষমতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।
Leave a Reply