ক্রসফায়ার ঘিরে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
ক্রসফায়ার ঘিরে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধনের সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
এ প্রেক্ষাপটে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণে জানায়, আইজিপি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোরতা বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তির উদ্দেশ্যে তিনি এ শব্দটি উচ্চারণ করেননি।
পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্যমতে, আইজিপি মূলত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।
পড়ুন>>দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ওই অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, পুলিশকে লাঠিপেটা করলে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আবার নীরব থাকলে বলা হয় দুর্বল। এ সময় তিনি সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন, যা নিয়ে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা ও শিরোনাম প্রকাশিত হয়। আর আমরা যদি আপনার নীরবে থাকি তাহলে বলবে দুর্বল পুলিশ।
স্পষ্টীকরণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের আইনশৃঙ্খলারক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার ও জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই অপরাধী বা সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের সরাসরি প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হয়।
পড়ুন>>কুরিয়ার ও পার্সেল ডেলিভারিতে ডিজিটাল পেমেন্ট আনল পাঠাও
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এছাড়া দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও জানানো হয়। অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেফতার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
এদিকে, ওই একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিষয়ে আইজিপির করা মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় সদর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং তা অসাবধানতাবশত হয়েছে।
আরও পড়ুন>>প্রশ্নপত্র ফাঁসে অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি সিরাজগঞ্জের খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি
আইজিপির বক্তব্যের পর হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টিআইবি তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এটি প্রত্যাহারের দাবি তোলে এবং আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। এইচআরএসএস বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছিল।
পুলিশ সদর দপ্তর তাদের স্পষ্টীকরণে পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিতর্কিত এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনের লক্ষ্যেই এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।

























