ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে না পেরে চিরকুট লিখে চতুর্থ শ্রেণি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে: রুহুল কবির রিজভী জেনারেশন জেড: বড় হওয়ার পথ কেন কঠিন হচ্ছে? রিয়াদে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ ঢাকায় রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন বিভিন্ন রাস্তা কেরানীগঞ্জে থানায় জব্দ করা পিকআপে অগ্নিসংযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: হাবুডুবু খাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সাইয়‍্যেদ বাবু ব‍্যুরো প্রধান
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: হাবুডুবু খাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: হাবুডুবু খাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দূর দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।কাছে গেলে দেখা যায় একটি দোচালা টিনের ঘর পানিতে ভাসছে।আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জানা যায় এটি মাঝের চর আদর্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের মাঝের চরে স্থাপিত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিদ্যালয়টির শুধু চাল ভেসে আছে। বারান্দা,বাথরুম সহ বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র কাঠের ব্রিজটি পানির নিচে ডুবে গেছে।

বিদ্যালয়ের পাশের গ্রামের রহিমা বেগম সৃষ্টি নিউজকে বলেন, স্কুল পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাচ্চাকাচ্চারা স্কুলে যেতে পারেনা। পাশেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে স্যাররা ক্লাস নেয়।

হাসনা খাতুন বলেন, উত্তর মাঝের চর স্কুল পানিতে ডুবে গেছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা। খুব সমস্যা হয়ে গেছে।

ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মহসীনা বেগম আঞ্জু বলেন, প্রায় একমাস থেকে আমাদের স্কুল পানির নিচে রয়েছে।আমরা পাশেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। প্রায় ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে স্কুলে।ভবনের অভাবে সঠিক ভাবে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) নবেজ উদ্দীন জানান, কুড়িগ্রামে চর ও চর তীরবর্তী এলাকায় মোট ২৮০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৩৭ টি স্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।আরো স্কুলে পানি ঢুকলে সেগুলোর পাঠদান বন্ধ রাখা হবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান মিলন বলেন, স্কুলের এরিয়াটা অনেক নিচু।আমরা প্রজেক্ট আনার চেষ্টা করছি।আশা করছি দ্রুতই ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান তিনটি নদী ধরলা,দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আরও ৪৮ ঘন্টা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল আরীফ জানান, বানভাসীদের মাঝে ৩ হাজার ২৬৭ প্যাকেট শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরো মজুত আছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা । যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: হাবুডুবু খাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি: হাবুডুবু খাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দূর দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।কাছে গেলে দেখা যায় একটি দোচালা টিনের ঘর পানিতে ভাসছে।আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জানা যায় এটি মাঝের চর আদর্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের মাঝের চরে স্থাপিত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিদ্যালয়টির শুধু চাল ভেসে আছে। বারান্দা,বাথরুম সহ বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র কাঠের ব্রিজটি পানির নিচে ডুবে গেছে।

বিদ্যালয়ের পাশের গ্রামের রহিমা বেগম সৃষ্টি নিউজকে বলেন, স্কুল পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাচ্চাকাচ্চারা স্কুলে যেতে পারেনা। পাশেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে স্যাররা ক্লাস নেয়।

হাসনা খাতুন বলেন, উত্তর মাঝের চর স্কুল পানিতে ডুবে গেছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা। খুব সমস্যা হয়ে গেছে।

ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মহসীনা বেগম আঞ্জু বলেন, প্রায় একমাস থেকে আমাদের স্কুল পানির নিচে রয়েছে।আমরা পাশেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। প্রায় ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে স্কুলে।ভবনের অভাবে সঠিক ভাবে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) নবেজ উদ্দীন জানান, কুড়িগ্রামে চর ও চর তীরবর্তী এলাকায় মোট ২৮০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৩৭ টি স্কুলে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।আরো স্কুলে পানি ঢুকলে সেগুলোর পাঠদান বন্ধ রাখা হবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান মিলন বলেন, স্কুলের এরিয়াটা অনেক নিচু।আমরা প্রজেক্ট আনার চেষ্টা করছি।আশা করছি দ্রুতই ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান তিনটি নদী ধরলা,দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আরও ৪৮ ঘন্টা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল আরীফ জানান, বানভাসীদের মাঝে ৩ হাজার ২৬৭ প্যাকেট শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরো মজুত আছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা । যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

Facebook Comments Box