ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ১২:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই প্রস্তাবিত চুক্তিতে ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯০৭ কেজি ওজনের বিপুল সংখ্যক ভারী বোমা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অস্ত্র ক্রয়ে প্রয়োজনীয় তহবিলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং (এফএমএফ) কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা হবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অস্ত্র প্যাকেজে মোট ৬০ হাজার বোমা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ এবং ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদনে ৪০ হাজার বোমার (প্রতিটি ২০ হাজার এমকে-৮৪ ও বিএলইউ-১১৭) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে জানা গেছে যে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বোমার ধরন ও বৈশিষ্ট্য
- এমকে-৮৪: মার্ক ৮০ সিরিজের এই শক্তিশালী বোমাটি প্রায় ৯০৭ কেজি ওজনের, যা বড় ভবন বা সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। নির্ভুল লক্ষ্যভেদের জন্য এতে গাইডেন্স কিট যুক্ত করা যায়।
- বিএলইউ-১১৭: এটিও প্রায় ৯০৭ কেজি ওজনের, যা এমকে-৮৪-এর মতো কাঠামোবিশিষ্ট হলেও ভিন্ন বিস্ফোরক ও তাপ প্রতিরোধী আবরণে তৈরি। এতেও গাইডেন্স কিট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
- আই-২০০০ পেনিট্রেটর: এটি মূলত ‘বাংকার বাস্টার’ হিসেবে পরিচিত। মাটি, পাথর বা কংক্রিটের মতো মজবুত কাঠামো ভেদ করার সক্ষমতা নিয়ে এটি নকশা করা হয়েছে।
গাজা ও লেবাননের সামরিক অভিযানের দীর্ঘ ইতিহাসে ইসরায়েল এই ধরনের ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার ব্যবহার করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাবালিয়া এলাকায় এমন বোমা ব্যবহারের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারাও এসব হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এর আগে ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বিবেচনায় এই শ্রেণির বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু আকাশ প্রতিরক্ষাসহ বেশ কিছু জরুরি গোলাবারুদের সরবরাহ নিয়ে সংকট কাটেনি।
এই অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস এই চুক্তির বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কোনো সদস্যের আপত্তিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়। সাধারণত বড় ধরনের অস্ত্র চুক্তির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কমিটিগুলো পর্যালোচনা করলেও, মার্কিন প্রশাসন অনেক সময় প্রচলিত এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার পথও বেছে নিতে পারে। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোলাবারুদ মজুত নিয়েও চাপের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কংগ্রেসের কোনো সদস্যের আপত্তি একাই অস্ত্র চুক্তিকে স্থায়ীভাবে বাতিল করে না।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























