ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনারেশন জেড: বড় হওয়ার পথ কেন কঠিন হচ্ছে?

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

জেনারেশন জেড: বড় হওয়ার পথ কেন কঠিন হচ্ছে?

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে জেনারেশন জেড-এর জন্য শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে পদার্পণ প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। উচ্চশিক্ষা, আবাসন সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তাদের এই রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করছে।

 

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৫ বছর বয়সীদের ৪৩ শতাংশই এখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকার পরেও অনেকে চাকরি না পেয়ে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিবারের সঙ্গে থাকার এই প্রবণতাকে কেবল সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেক তরুণ মানসিক ও আর্থিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় অভিভাবকদের সঙ্গে থাকছেন।

 

পড়ুন>>রিয়াদে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

 

জনমিতিবিদ অধ্যাপক অ্যান বেরিংটনের মতে, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে, যা ভবিষ্যতে তাদের স্বাধীনভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা যোগাতে পারে। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে থেকে সন্তুষ্ট।

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের এই দীর্ঘস্থায়ী নির্ভরশীলতা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনার অবকাশ রয়েছে। ১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা থাকলেও, কর্মজীবনে প্রবেশের সন্ধিক্ষণে তরুণরা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বাইরে পড়ে যায়। যুক্তরাজ্যে তাই ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে শিশু ও পূর্ণবয়স্কের মাঝামাঝি একটি পৃথক ‘বিকাশপর্ব’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি উঠছে। নাফিল্ড ফাউন্ডেশনের গবেষণায় এবং অ্যালান মিলবার্নের পর্যালোচনায় এমন সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে।

 

পড়ুন>>নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। নেদারল্যান্ডসে ২৪ থেকে ২৭ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত থাকে। অস্ট্রেলিয়ার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে কিশোর বয়সের সেবা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের সেবাব্যবস্থায় প্রবেশের সময় অনেক সময় সহায়তা পাওয়ার শর্ত কঠিন হয়ে পড়ে, যা তরুণদের জন্য একটি ‘সেবাগত শূন্যতা’ তৈরি করছে।

ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের ‘স্টেট অব এ জেনারেশন’ প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তরুণদের একটি বড় অংশ শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের শুরুতে দীর্ঘস্থায়ী বাধার মুখে পড়ছে, যা তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। সব তরুণকে একই কাতারে ফেলা অনুচিত হলেও, পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। পুরোনো দিনের মতো দ্রুত স্বাধীন হওয়ার প্রত্যাশা বর্তমান বাস্তবতায় কতটা যৌক্তিক, তা পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে। তরুণদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে খাটো না করেই, তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা এখন জরুরি।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জেনারেশন জেড: বড় হওয়ার পথ কেন কঠিন হচ্ছে?

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

জেনারেশন জেড: বড় হওয়ার পথ কেন কঠিন হচ্ছে?

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে জেনারেশন জেড-এর জন্য শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে পদার্পণ প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। উচ্চশিক্ষা, আবাসন সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তাদের এই রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করছে।

 

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৫ বছর বয়সীদের ৪৩ শতাংশই এখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকার পরেও অনেকে চাকরি না পেয়ে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিবারের সঙ্গে থাকার এই প্রবণতাকে কেবল সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেক তরুণ মানসিক ও আর্থিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় অভিভাবকদের সঙ্গে থাকছেন।

 

পড়ুন>>রিয়াদে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

 

জনমিতিবিদ অধ্যাপক অ্যান বেরিংটনের মতে, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে, যা ভবিষ্যতে তাদের স্বাধীনভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা যোগাতে পারে। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে থেকে সন্তুষ্ট।

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের এই দীর্ঘস্থায়ী নির্ভরশীলতা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনার অবকাশ রয়েছে। ১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা থাকলেও, কর্মজীবনে প্রবেশের সন্ধিক্ষণে তরুণরা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বাইরে পড়ে যায়। যুক্তরাজ্যে তাই ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে শিশু ও পূর্ণবয়স্কের মাঝামাঝি একটি পৃথক ‘বিকাশপর্ব’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি উঠছে। নাফিল্ড ফাউন্ডেশনের গবেষণায় এবং অ্যালান মিলবার্নের পর্যালোচনায় এমন সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে।

 

পড়ুন>>নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। নেদারল্যান্ডসে ২৪ থেকে ২৭ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত থাকে। অস্ট্রেলিয়ার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে কিশোর বয়সের সেবা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের সেবাব্যবস্থায় প্রবেশের সময় অনেক সময় সহায়তা পাওয়ার শর্ত কঠিন হয়ে পড়ে, যা তরুণদের জন্য একটি ‘সেবাগত শূন্যতা’ তৈরি করছে।

ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের ‘স্টেট অব এ জেনারেশন’ প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তরুণদের একটি বড় অংশ শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের শুরুতে দীর্ঘস্থায়ী বাধার মুখে পড়ছে, যা তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। সব তরুণকে একই কাতারে ফেলা অনুচিত হলেও, পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। পুরোনো দিনের মতো দ্রুত স্বাধীন হওয়ার প্রত্যাশা বর্তমান বাস্তবতায় কতটা যৌক্তিক, তা পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে। তরুণদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে খাটো না করেই, তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা এখন জরুরি।

 

 

Facebook Comments Box