ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন: ৫ দলের ৫ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে কাতারের মধ্যস্থতা ও মক্কা জোটকে সমর্থন জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল জয়ী কানাডীয় কবি অ্যান কারসন বেঙ্গালুরুতে ‘ভোট সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়’র প্রতিবাদে সরব প্রকাশ রাজ ঢাকার যানজট নিরসনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী বরিশালে মাদকের আসর থেকে এএসআইসহ চারজন আটক ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের রাইড শেয়ারিং সেবা ‘মায়া’

কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম

 

 

কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারী দুই উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে  একই রকম চিত্র দেখা গেছে। বদলি নীতিমালা অনুসরণ না করে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, প্রাপ্যতা না থাকা বিদ্যালয়ে বদলি এবং পছন্দক্রমের বাইরে বিদ্যালয়ে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। দুই উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির বিরুদ্ধে একই রকমের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উপেক্ষা করে একাধিক শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারী—দুই উপজেলাতেই আটজন করে শিক্ষকের বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিলমারী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটি। এতে চিলমারী উপজেলায় ১১ জন এবং সদর উপজেলায় ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়। আদেশ প্রকাশের পরপরই কমিটির বিরুদ্ধে নীতিমালা না মানার অভিযোগ ওঠে।

 

পড়ুন>>জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বদলি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক বাশিরুল মুমিন খন্দকারকে দুজন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ৩ নম্বরে থাকা রোখসানা পারভীনের ক্ষেত্রে তিনজন, ৪ নম্বরে থাকা পাপড়ী রানীর ক্ষেত্রে ছয়জন এবং ৮ নম্বরে থাকা ফরিদা বেগমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

 

 

এ ছাড়া তালিকার ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক আব্দুর রহিমকে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছি আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকায় ওই বিদ্যালয়ের নাম ছিল না। এমনকি বদলির আবেদনে আব্দুর রহিম ওই বিদ্যালয়কে নিজের পছন্দক্রমেও উল্লেখ করেননি।

পড়ুন>>বেঙ্গালুরুতে ‘ভোট সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়’র প্রতিবাদে সরব প্রকাশ রাজ

শিক্ষকদের অভিযোগ, শূন্য পদের তালিকার বাইরে কোনো বিদ্যালয়ে বদলি এবং আবেদনকারীর পছন্দক্রমের বাইরে পদায়নের সুযোগ থাকলে বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মতো চিলমারী উপজেলার বদলি তালিকাতেও একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক মহসিনা খাতুনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ৩ নম্বরে থাকা বাবলু মিয়াকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৪ নম্বরে থাকা তামান্না ইসলাম তৃষাকে তিনজনের মধ্যে থেকে এবং ৫ নম্বরে থাকা নুর আলমকে চারজনের মধ্যে থেকে বদলির আদেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ছাড়া ৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা মনোয়ারুলকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৯ নম্বরে থাকা মোবারক হোসেনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ১০ নম্বরে থাকা জনাব আলীকে দুজনের মধ্যে থেকে এবং ১১ নম্বরে থাকা মাসুমা আক্তারকে দুজন শিক্ষকের মধ্যে থেকে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
মাসুমা আক্তার ও তামান্না ইসলাম তৃষাসহ একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন>>ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের রাইড শেয়ারিং সেবা ‘মায়া’

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, বদলি প্রক্রিয়ায় নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রভাবশালী ও পছন্দের শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে আলাদাভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের দাবি, বদলি প্রক্রিয়ায় একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদনকারী থাকলে জ্যেষ্ঠতা, শূন্য পদ, আবেদনকারীর পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য সরকারি নীতিমালার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় একই পদে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ শিক্ষক সুযোগ পেলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বঞ্চিত হন।

 

বদলির আদেশ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় দুই উপজেলার বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসার খবর পাওয়া যায়।

 

আরও পড়ুন>>বরিশালে মাদকের আসর থেকে এএসআইসহ চারজন আটক

এরপর প্রকাশিত বদলির আদেশ পর্যালোচনা করে কিছু অসংগতি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত বদলির আদেশ পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা মিটিং করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আবারও মিটিং করে সব সমাধান করা হবে।’

অন্যদিকে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বদলি যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষক, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে না দেওয়া এবং দুইজনের মধ্যে থেকে একজনকে বদলি করার নীতিমালা আছে। আমরা সেসব নীতিমালা মেনেই বদলি করেছি।’

 

দুই উপজেলার বদলি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ওঠার পর এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রকাশিত বদলি আদেশ বহাল থাকবে, নাকি অভিযোগগুলো যাচাই করে তা সংশোধন করা হবে।

 

পড়ে নিন>>চাকরির শুরুতে ৩০ হাজার টাকার বেশি বেতনের সুযোগ যেসব

বিশেষ করে শূন্য পদের তালিকায় নেই এমন বিদ্যালয়ে বদলি, আবেদনকারীর পছন্দক্রমে না থাকা বিদ্যালয়ে পদায়ন এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যাচাই করা হলে বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

শিক্ষকদের দাবি, শুধু অসংগতি স্বীকার করলেই হবে না; কোন শিক্ষক কীভাবে জ্যেষ্ঠতা অতিক্রম করে বদলির সুযোগ পেলেন, শূন্য পদ না থাকা বিদ্যালয়ে কীভাবে পদায়ন হলো এবং আবেদনকারীর পছন্দের বাইরে বিদ্যালয় কীভাবে নির্ধারণ করা হলো—এসব বিষয় নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে যাচাই করতে হবে।
তাদের মতে, সরকারি শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকবে। তথ‍্য সুত্র

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম

আপডেট সময় : ১০:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

 

 

 

কুড়িগ্রামে দুই উপজেলায় শিক্ষক বদলিতে একই কায়দায় অনিয়ম

 

 

কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারী দুই উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে  একই রকম চিত্র দেখা গেছে। বদলি নীতিমালা অনুসরণ না করে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, প্রাপ্যতা না থাকা বিদ্যালয়ে বদলি এবং পছন্দক্রমের বাইরে বিদ্যালয়ে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। দুই উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির বিরুদ্ধে একই রকমের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উপেক্ষা করে একাধিক শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারী—দুই উপজেলাতেই আটজন করে শিক্ষকের বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিলমারী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটি। এতে চিলমারী উপজেলায় ১১ জন এবং সদর উপজেলায় ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়। আদেশ প্রকাশের পরপরই কমিটির বিরুদ্ধে নীতিমালা না মানার অভিযোগ ওঠে।

 

পড়ুন>>জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বদলি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক বাশিরুল মুমিন খন্দকারকে দুজন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ৩ নম্বরে থাকা রোখসানা পারভীনের ক্ষেত্রে তিনজন, ৪ নম্বরে থাকা পাপড়ী রানীর ক্ষেত্রে ছয়জন এবং ৮ নম্বরে থাকা ফরিদা বেগমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

 

 

এ ছাড়া তালিকার ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক আব্দুর রহিমকে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছি আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকায় ওই বিদ্যালয়ের নাম ছিল না। এমনকি বদলির আবেদনে আব্দুর রহিম ওই বিদ্যালয়কে নিজের পছন্দক্রমেও উল্লেখ করেননি।

পড়ুন>>বেঙ্গালুরুতে ‘ভোট সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়’র প্রতিবাদে সরব প্রকাশ রাজ

শিক্ষকদের অভিযোগ, শূন্য পদের তালিকার বাইরে কোনো বিদ্যালয়ে বদলি এবং আবেদনকারীর পছন্দক্রমের বাইরে পদায়নের সুযোগ থাকলে বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মতো চিলমারী উপজেলার বদলি তালিকাতেও একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক মহসিনা খাতুনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ৩ নম্বরে থাকা বাবলু মিয়াকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৪ নম্বরে থাকা তামান্না ইসলাম তৃষাকে তিনজনের মধ্যে থেকে এবং ৫ নম্বরে থাকা নুর আলমকে চারজনের মধ্যে থেকে বদলির আদেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ছাড়া ৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা মনোয়ারুলকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৯ নম্বরে থাকা মোবারক হোসেনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ১০ নম্বরে থাকা জনাব আলীকে দুজনের মধ্যে থেকে এবং ১১ নম্বরে থাকা মাসুমা আক্তারকে দুজন শিক্ষকের মধ্যে থেকে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
মাসুমা আক্তার ও তামান্না ইসলাম তৃষাসহ একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন>>ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের রাইড শেয়ারিং সেবা ‘মায়া’

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, বদলি প্রক্রিয়ায় নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রভাবশালী ও পছন্দের শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বা নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে আলাদাভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের দাবি, বদলি প্রক্রিয়ায় একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদনকারী থাকলে জ্যেষ্ঠতা, শূন্য পদ, আবেদনকারীর পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য সরকারি নীতিমালার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় একই পদে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ শিক্ষক সুযোগ পেলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বঞ্চিত হন।

 

বদলির আদেশ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় দুই উপজেলার বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসার খবর পাওয়া যায়।

 

আরও পড়ুন>>বরিশালে মাদকের আসর থেকে এএসআইসহ চারজন আটক

এরপর প্রকাশিত বদলির আদেশ পর্যালোচনা করে কিছু অসংগতি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত বদলির আদেশ পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা মিটিং করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আবারও মিটিং করে সব সমাধান করা হবে।’

অন্যদিকে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বদলি যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষক, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে না দেওয়া এবং দুইজনের মধ্যে থেকে একজনকে বদলি করার নীতিমালা আছে। আমরা সেসব নীতিমালা মেনেই বদলি করেছি।’

 

দুই উপজেলার বদলি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ওঠার পর এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রকাশিত বদলি আদেশ বহাল থাকবে, নাকি অভিযোগগুলো যাচাই করে তা সংশোধন করা হবে।

 

পড়ে নিন>>চাকরির শুরুতে ৩০ হাজার টাকার বেশি বেতনের সুযোগ যেসব

বিশেষ করে শূন্য পদের তালিকায় নেই এমন বিদ্যালয়ে বদলি, আবেদনকারীর পছন্দক্রমে না থাকা বিদ্যালয়ে পদায়ন এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যাচাই করা হলে বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

শিক্ষকদের দাবি, শুধু অসংগতি স্বীকার করলেই হবে না; কোন শিক্ষক কীভাবে জ্যেষ্ঠতা অতিক্রম করে বদলির সুযোগ পেলেন, শূন্য পদ না থাকা বিদ্যালয়ে কীভাবে পদায়ন হলো এবং আবেদনকারীর পছন্দের বাইরে বিদ্যালয় কীভাবে নির্ধারণ করা হলো—এসব বিষয় নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে যাচাই করতে হবে।
তাদের মতে, সরকারি শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকবে। তথ‍্য সুত্র

 

 

Facebook Comments Box