ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের রাইড শেয়ারিং সেবা ‘মায়া’
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে এখন এক বিশেষ দৃশ্য চোখে পড়ে। হেলমেট পরিহিত মোটরসাইকেল চালকের পেছনের আসনে নিশ্চিন্তে বসে আছেন কোনো এক নারী যাত্রী। ট্রাফিক সিগন্যাল বা রাস্তার মোড়ে তাদের দেখে অনেকের দৃষ্টি আটকে যায়, কারণ এখানে চালক ও যাত্রী উভয়ই নারী। মূলত নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘মায়া’ (Maya)। গাড়ির ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটি মোটরসাইকেল। পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজনের চোখ আটকে গেল মোটরসাইকেলটির দিকে। ছয় বছর বয়সী মেয়ের দেখাশোনা ও সংসারের কাজ সেরে সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হন তিনি। তখন তাঁদের মনে প্রশ্ন আসে, চালকও যদি নারী হন।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন ফাহাদ চৌধুরী। সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচারণার পর থেকেই নারী চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়। বর্তমানে মায়ায় নিয়মিত মোটরসাইকেল সেবা নেন ১০ জনের বেশি নারী। কেউ কেউ কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার জন্য সপ্তাহে ১০টি পর্যন্ত রাইড বুক করেন। এছাড়া গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও বসুন্ধরার মতো এলাকাগুলোতে এই সেবার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রথমে ফেসবুকে পরীক্ষামূলক প্রচারণা চালান ফাহাদ। সকালে অফিস শুরুর সময় চাপ বেশি থাকে।
মায়ার নিয়মিত যাত্রী আনিকা সালসাবিল জানান, আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় তিনি অস্বস্তি বোধ করতেন, যা এখন অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে বর্তমানে নিজস্ব অ্যাপ না থাকায় ফেসবুক বা সরাসরি ফোনকলের মাধ্যমেই রাইড বুক করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে চালক সংকটের কারণে তাৎক্ষণিক রাইড পাওয়া সম্ভব হয় না বলে তিনি জানান। সাধারণত যাত্রীদের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বুকিং রিকোয়েস্ট পাঠাতে হয়। আবার প্রাইভেট কার বা অটোরিকশায় উঠলে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করতেন।
নারীদের আয়ের পথ তৈরি ও স্বস্তিতে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া মায়ার মূল লক্ষ্য। তবে নারী রাইডারদের রাস্তায় ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় ট্রাফিক সিগন্যালে অন্যান্য অটোরিকশা বা বাসের চালকেরা অযাচিত মন্তব্য করেন বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালান। আবার অনেক সময় পুরুষ রাইডারের সঙ্গে যেমন আচরণ কেউ করতে সাহস পায় না, নারী চালকের বেলায় তেমনটা ঘটে না। এর মধ্যেও পথচারীদের একাংশ তাদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন। বাসে চলাচলের সময় নানা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।
মায়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি রাইডের অনুরোধ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৪০০টি সম্পন্ন হয়েছে। দিনে গড়ে সাত থেকে আটটি রাইড সম্পন্ন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর চালককে একা ফিরতে হয় বলে দূরের রাইড নিতে তারা কিছুটা নিরুৎসাহিত হন। তাছাড়া চালক সংকটের কারণে মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অনুরোধ পূরণ করা সম্ভব হয় না।
চালক হিসেবে যোগ দিতে জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ট্যাক্স টোকেনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাধ্যতামূলক। তবে অনেক আগ্রহী নারীই ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক বাইক ব্যবহার করেন, যাদের বিআরটিএ-এর অনুমোদিত বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্র না থাকায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন নারীকে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও পারিবারিক দায়িত্ব ও অসুস্থতা জনিত কারণে অনেকে টানা ১০ থেকে ১৫ দিন বিরতিতে থাকেন, যা নিয়মিত সেবাদানে কিছুটা বাধা তৈরি করে।
রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি ‘মায়া কিডস’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এটি মূলত স্কুলগামী শিশুদের জন্য মাসিক প্যাকেজ ভিত্তিক সেবা, যার মাধ্যমে বাসা থেকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং ছুটি শেষে নিরাপদ বাসায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে অভিভাবকেরা সন্তানের যাতায়াত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
মায়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যাত্রীদের পরিচয় ফেসবুক প্রোফাইল ও ফোন কলের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। ফাহাদ চৌধুরী জানান, এখনো চালক বা যাত্রীদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিমা ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। তবে কোনো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে বা প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষেত্রে রাইডার চাইলে রাইড প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
আগামী এক বছরের মধ্যে দক্ষ, পেশাদার ও ভেরিফায়েড নারী চালকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে মায়ার। বর্তমানে অ্যাপ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে রাইড বুকিং ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও গতিশীল হবে। আপাতত রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসুন্ধরা, বারিধারা ও পুরান ঢাকায় এই সেবা বিস্তৃত রয়েছে এবং চালকের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য এলাকায়ও সেবা প্রদানের পরিকল্পনা আছে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























