ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরআরএফ-এ ৪৪০ পদে কর্মী নিয়োগ: ৬ নভেম্বর সিলেটে বাছাই পরীক্ষা লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি মডেল রাকিব হাসান টোকিওর আদলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি

কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত: পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

কাউনিয়া (রংপুর) আব্দুল কুদ্দুস বসুনীয়া
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৩১ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত: পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত: পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিপেয়ে বিপদসীমার ৩৩ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন, ইতো মধ্যে ১০টি বাড়ি নদী গর্ভে চলেগেছে, প্রায় ২৫০ হেক্টর উঠতি ধান, বীজবাদাম, মরিচ ক্ষেতসহ ফসলী জমি তলিয়েগেছে, শতশত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পড়ুন>>নাগেশ্বরীতে বসতভিটা দখলে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ইতোমধ্যে তিস্তার পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই গ্রামে ১০টি বাড়ি তিস্তা নদী গিলে খেয়েছে।

হারাগাছ, শহীদবাগ, বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলী জমি তলিয়েগেছে, শতশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

শতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে। কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তার তীরবর্তি গ্রাম গুলোতে দেখা দিয়েছে বন্যা। শনিবার রাত থেকে পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪ ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি ও উজানের (ভারতের) ঢলের কারণে পানির চাপ সামলাতে তিস্তার ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে। তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ এখন ২৯ দশমিক ৬৬ সেন্টিমিটার।

পানি বাড়ায় তিস্তা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে দুর্ভোগ ও ভাঙ্গনের আতঙ্ক রয়েছে।

ধান, বাদাম, শাক-সবজিসহ উঠতি বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পরেছে মানুষ। টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, চরগনাই গ্রামে নজরুল, সালাম, জলিল, সুজন, আজগর, সাঈদ, কাফি, আনিসুর, সুলতান, ও দুলু মিয়ার বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, আরও ১১টি পরিবার ঝুকিতে রয়েছে, যে কোন সময় সেগুলোও তলিয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও  উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু মোঃ মনিরুজ্জামান জানান অতিবৃষ্টি ও বন্যায় রোপা আমন ৭০ হেক্টর ও সবজি ফসল ২ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।

তবে কৃষকের ভাষ্যমতে আক্রান্ত ফসলের ক্ষেতের পরিমান অনেক বেশি। বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিদুল হক, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবীব সরকার, ইউপি চেয়ারম্যানগণ পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক বলেন, তিস্তা নদী এলাকায় বন্যা ও ভাঙ্গনের বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত ১০টি পারবারকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ত্রাণ বিভাগ বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তত রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত: পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত: পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিপেয়ে বিপদসীমার ৩৩ সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন, ইতো মধ্যে ১০টি বাড়ি নদী গর্ভে চলেগেছে, প্রায় ২৫০ হেক্টর উঠতি ধান, বীজবাদাম, মরিচ ক্ষেতসহ ফসলী জমি তলিয়েগেছে, শতশত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পড়ুন>>নাগেশ্বরীতে বসতভিটা দখলে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ইতোমধ্যে তিস্তার পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই গ্রামে ১০টি বাড়ি তিস্তা নদী গিলে খেয়েছে।

হারাগাছ, শহীদবাগ, বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলী জমি তলিয়েগেছে, শতশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

শতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে। কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তার তীরবর্তি গ্রাম গুলোতে দেখা দিয়েছে বন্যা। শনিবার রাত থেকে পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪ ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকদিন থেকে টানা বৃষ্টি ও উজানের (ভারতের) ঢলের কারণে পানির চাপ সামলাতে তিস্তার ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে। তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ এখন ২৯ দশমিক ৬৬ সেন্টিমিটার।

পানি বাড়ায় তিস্তা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে দুর্ভোগ ও ভাঙ্গনের আতঙ্ক রয়েছে।

ধান, বাদাম, শাক-সবজিসহ উঠতি বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পরেছে মানুষ। টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, চরগনাই গ্রামে নজরুল, সালাম, জলিল, সুজন, আজগর, সাঈদ, কাফি, আনিসুর, সুলতান, ও দুলু মিয়ার বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, আরও ১১টি পরিবার ঝুকিতে রয়েছে, যে কোন সময় সেগুলোও তলিয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও  উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু মোঃ মনিরুজ্জামান জানান অতিবৃষ্টি ও বন্যায় রোপা আমন ৭০ হেক্টর ও সবজি ফসল ২ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।

তবে কৃষকের ভাষ্যমতে আক্রান্ত ফসলের ক্ষেতের পরিমান অনেক বেশি। বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিদুল হক, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবীব সরকার, ইউপি চেয়ারম্যানগণ পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক বলেন, তিস্তা নদী এলাকায় বন্যা ও ভাঙ্গনের বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত ১০টি পারবারকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ত্রাণ বিভাগ বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তত রয়েছে।

Facebook Comments Box