ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাসেবা মিললেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম নিচ্ছেন সাধারণ রোগীরা উখিয়ায় নলকূপ খননে বের হওয়া আগুনের দাপট অব্যাহত, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার ব্যাটিং ধসে ২৭২ রানেই থামল বাংলাদেশ গোলকিপারের নৈপুণ্যে কারাবাও কাপের শেষ আটে ম্যান সিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১১ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেবে সরকার তুরাগ নদে মিলল বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার পরিচয় স্থগিত হলো জাতীয় যুব মেলা, জানালেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তুরাগ নদীতে মিলল বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম জিতলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাকে একটি পার্সেলের মাধ্যমে সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় ফারুক হোসেনের স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এস এ পরিবহনের মাধ্যমে পার্সেলটি পাঠানো হয়। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে ফারুক হোসেনের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই দিন দুপুরে তার ছেলে মুনতাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাড়িতে গিয়ে পার্সেলটি খুললে ভেতরে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপ জলের বোতল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারের বিধি রক্ষায় সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ধারণা করছি, আমার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলের প্রেরক এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’ এদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তাকে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

আপডেট সময় : ০৮:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাকে একটি পার্সেলের মাধ্যমে সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় ফারুক হোসেনের স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এস এ পরিবহনের মাধ্যমে পার্সেলটি পাঠানো হয়। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে ফারুক হোসেনের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই দিন দুপুরে তার ছেলে মুনতাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাড়িতে গিয়ে পার্সেলটি খুললে ভেতরে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপ জলের বোতল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারের বিধি রক্ষায় সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ধারণা করছি, আমার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমন বোস বলেন, ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলের প্রেরক এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’ এদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তাকে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box