ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬ গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা

ইরান যুদ্ধের খরচ ৩৭৫০ কোটি ডলার, বাজেটের চাপে পেন্টাগন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত মোট খরচ ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি এই খরচের হিসাব তুলে ধরেন। মূলত অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি তহবিলের অনুমোদন নিতেই তিনি আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হন। হেগসেথ জানান, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের এই হিসাবে যুদ্ধের নির্দিষ্ট কিছু খাতের ব্যয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচের পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগনের এই হিসাব পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ গত মার্চে একটি সূত্র জানিয়েছিল যে ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই কমপক্ষে ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।

বাইডেন প্রশাসনের মতো ট্রাম্প সরকারও আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন, যার বড় অংশই ইরান যুদ্ধকেন্দ্রিক। তবে আইনপ্রণেতারা এই সংঘাত নিয়ে বেশ হতাশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করার পর থেকেই আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, এই সংঘাত কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের অন্ধকারে রেখেছে।

শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর প্যাটি মারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সংঘাত বাড়ানো ও যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে, এটি আরেকটি অনন্তকালের যুদ্ধ হতে যাচ্ছে।’ একই দলের সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের কাজের সঙ্গে কথার মিল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ আপনাদের ও প্রশাসনের ওপর এত ক্ষুব্ধ কেন জানেন? কারণ, অতীতে আপনারা যা বলেছেন, তার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। আপনারা বলেন—যুদ্ধ শেষ, আবার বলেন শেষ হয়নি। দুই সপ্তাহ লাগবে, আবার বলেন লাগবে না। কখনো বলেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হবে, আবার বলেন হবে না।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে তহবিল না বাড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণ কমিয়ে দিতে হবে। তিনি জানান, এই যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সেনাসদস্যদের সুযোগ-সুবিধাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন যে, সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পেন্টাগনকে হিমশিম খেতে হতে পারে। হেগসেথ ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট পাসের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বিভাগকে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল না দেওয়াই বর্তমানে আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’

গত সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮–তে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্যমতে, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যদিও তাঁদের মধ্যে ৯৬ শতাংশই আবার কাজে ফিরেছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খারগ দ্বীপের তেলের খনি এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরান যুদ্ধের খরচ ৩৭৫০ কোটি ডলার, বাজেটের চাপে পেন্টাগন

আপডেট সময় : ১০:৫৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত মোট খরচ ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি এই খরচের হিসাব তুলে ধরেন। মূলত অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি তহবিলের অনুমোদন নিতেই তিনি আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হন। হেগসেথ জানান, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের এই হিসাবে যুদ্ধের নির্দিষ্ট কিছু খাতের ব্যয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচের পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগনের এই হিসাব পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ গত মার্চে একটি সূত্র জানিয়েছিল যে ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই কমপক্ষে ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।

বাইডেন প্রশাসনের মতো ট্রাম্প সরকারও আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন, যার বড় অংশই ইরান যুদ্ধকেন্দ্রিক। তবে আইনপ্রণেতারা এই সংঘাত নিয়ে বেশ হতাশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করার পর থেকেই আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, এই সংঘাত কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের অন্ধকারে রেখেছে।

শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর প্যাটি মারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সংঘাত বাড়ানো ও যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে, এটি আরেকটি অনন্তকালের যুদ্ধ হতে যাচ্ছে।’ একই দলের সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের কাজের সঙ্গে কথার মিল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ আপনাদের ও প্রশাসনের ওপর এত ক্ষুব্ধ কেন জানেন? কারণ, অতীতে আপনারা যা বলেছেন, তার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। আপনারা বলেন—যুদ্ধ শেষ, আবার বলেন শেষ হয়নি। দুই সপ্তাহ লাগবে, আবার বলেন লাগবে না। কখনো বলেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হবে, আবার বলেন হবে না।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে তহবিল না বাড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণ কমিয়ে দিতে হবে। তিনি জানান, এই যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সেনাসদস্যদের সুযোগ-সুবিধাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন যে, সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পেন্টাগনকে হিমশিম খেতে হতে পারে। হেগসেথ ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট পাসের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বিভাগকে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল না দেওয়াই বর্তমানে আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’

গত সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮–তে দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্যমতে, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যদিও তাঁদের মধ্যে ৯৬ শতাংশই আবার কাজে ফিরেছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খারগ দ্বীপের তেলের খনি এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box