বিজয় দিবসের আগেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের নতুন ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই বিদ্যমান অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নবগঠিত এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন।
সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের মোড়ে এই চত্বর ও ভাস্কর্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভাস্কর্যটি ভাঙা হলেও প্রশাসন বা পৌরসভা থেকে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।
পড়ুন>>টিসিবির জন্য রাইস ব্র্যান তেল কেনার প্রস্তাব প্রত্যাহার
তিনি দ্রুত একই স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ ভাস্কর্যের অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বলেন, চত্বরটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক সময় মাদক সেবনের স্থানে পরিণত হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামালউদ্দিন জানান, ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ এর গুরুত্ব সম্পর্কে অন্ধকারে ছিল। ২০২৪ সালের সরকার পতনের পর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এ ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়। স্থানীয়দের দাবি, চত্বরটির উচ্চতার কারণে চারমুখী মোড়ে যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য অপসারণের কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ২০১৯ সাল থেকে স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং এখন শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপযুক্ত স্থানে নতুন ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বিজয় দিবসেই নতুন ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, গত ১৩ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ চললে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে তা স্থগিত করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল।
০
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























