ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন মার্ক উড ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি জাপানের কাছে হারে কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন প্রায় শেষ সীমান্ত ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদনের আহ্বান গাজায় অর্থ সহায়তা নিয়ে অপপ্রচারের কড়া জবাব দিল কাতার অনুমোদন ছাড়াই সিলেট-তামাবিল সড়কে কাটা হচ্ছে শত শত গাছ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী ফ্রান্স জাতিসংঘে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগোপযোগী হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চার্টার নীতিমালা, লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি চীনে তাইওয়ানের শ্রমমন্ত্রীর বিরল সফর: রাজনৈতিক বরফ গলার ইঙ্গিত?

ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে পার্কে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কে ঘোরার সময় জনপরিসরের এই জায়গাগুলোর বর্তমান চিত্র আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো। গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নতুন করে ‘কবি আল মাহমুদ পাঠাগার’ স্থাপনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অথচ একটা সময় কবি আল মাহমুদকে প্রান্তিক করার নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, এমনকি তাঁর জানাজা ও সমাধির বিষয়েও বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাস যে শেষ পর্যন্ত যোগ্যজনকে সম্মান দেয়, এই পাঠাগার তারই প্রমাণ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ আল মাহমুদের কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তাদের আবেগ প্রকাশ করে, যা জুলাইয়ের পর থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গুলশানের পার্ক নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নামফলকটি যথাস্থানেই রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে গুলশান অ্যাভিনিউসংলগ্ন অংশটি এই পার্কের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পূর্ব দিকের অংশটি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত, যা একসময় গুলশান ইয়ুথ ক্লাব নামে চলত। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ওপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে নজর পড়ে। সেই সময়ে পার্কের জমিকে বিভিন্ন গ্রুপের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এর একাংশ ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে যমুনা গ্রুপকে এবং বন কিডস নামে র‍্যাংগস গ্রুপকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তরুণদের আন্দোলনের মুখে মাঝের অংশটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক উচ্ছেদ করা হয়। এরপর রাজউক সেখানে বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। ডিএনসিসি জায়গাটির নামকরণ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক। বর্তমানে এই দুই অংশ একীভূত করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে এই মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। বর্তমানে রাজউক, পূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মিলে রাজউককে এই পার্কের বৈধ মালিক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং সমঝোতার মাধ্যমে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এর রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

বর্তমানে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য হাঁটার পথ, বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী ছাড়াও ক্রিকেট মাঠ, নেট প্র্যাকটিস, বাস্কেটবল কোর্ট, ইনডোর ব্যাডমিন্টন, জিম, রোলার স্কেটিং, কারাতে, ইয়োগা ও ফুটবল টার্ফের মতো উন্নত সব সুবিধা রয়েছে। এর বাইরে জাকাত তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সকালের নাশতা ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান এবং একটি বিনামূল্যে ক্লিনিক পরিচালনার মতো সেবামূলক কাজও সেখানে করা হচ্ছে।

এই ধরনের পার্ক পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখানে ২৫ জন কোচ ও প্রশিক্ষক, আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক ডজন প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত আছেন। অতীতে এই পরিচালন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়েই ভূমিদস্যুরা নর্থ এন্ড কফিশপ ও রোস্টার বা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসায়িক স্থাপনা তৈরির সুযোগ নিয়েছে। অথচ বুকাননের মতো অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন যে, ক্লাব গুডসের ক্ষেত্রে সদস্য ফি ও ব্যবহার ফি-এর মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো সম্ভব। সীমিত জায়গায় মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও খেলার মাঠের সর্বোত্তম ব্যবহারে এই ফি পদ্ধতি কার্যকর।

অবশ্যই সরকারি জমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তাতে মোট আয়-ব্যয়ের কোনো বিস্তারিত হিসাব বা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পাওয়া যায়নি। যেহেতু জনসাধারণ ও সদস্যদের দেওয়া ফি-এর বিনিময়ে পার্কটি চলছে, তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখতে এমন উন্মুক্ত পার্ক ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তবে ভূমিদস্যুদের থাবা থেকে এসব স্থাপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে জনজবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি জায়গায় কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া যাবে না, বরং শহীদ তাজউদ্দীন পার্কের আদলেই ঢাকার অন্য পার্কগুলোকেও জনবান্ধব ও সুরক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশ কিছুদিন হলো, আবার অভ্যস্ত, গৎবাঁধা ও আটপৌরে জীবনে ফিরে এসেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দিনের শুরুতে সকালে পার্কে হাঁটতে যাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা–সম্পর্কিত বিবিধ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, বই পড়া, লেখালেখি, ছুটির দিনে বাজারঘাট করা ইত্যাদি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরও কিছুটা হাঁটতেই ক্লাবের পুরোনো ভবনে দেখলাম নতুন একটা পাঠাগার হয়েছে, নাম ‘কবি আল মাহমুদ পাঠাগার’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ আমাদের প্রধান কবি আল মাহমুদকে খারিজ করার কত অপচেষ্টাই না হয়েছে: কবির জানাজায়, ঢাকায় কবর দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের আইকন চিনতে ভুল করেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু তা–ই নয়, এখন শেখ মুজিবের জন্মদিনে, মৃত্যুদিবসে তাঁর অনুসারীরা আল মাহমুদের কবিতা ‘নিশিডাক’ উদ্ধৃত করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই আমাদের এই আত্মানুসন্ধানের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই যে সব অনিয়ম বন্ধ করেছে এমন নয়, গুলশানেই জনসাধারণের সাহাবুদ্দীন পার্কের অভ্যন্তরে নর্থ এন্ড কফিশপ ও রোস্টার এখনো তার অবাঞ্ছিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি

আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে পার্কে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কে ঘোরার সময় জনপরিসরের এই জায়গাগুলোর বর্তমান চিত্র আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো। গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নতুন করে ‘কবি আল মাহমুদ পাঠাগার’ স্থাপনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অথচ একটা সময় কবি আল মাহমুদকে প্রান্তিক করার নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, এমনকি তাঁর জানাজা ও সমাধির বিষয়েও বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাস যে শেষ পর্যন্ত যোগ্যজনকে সম্মান দেয়, এই পাঠাগার তারই প্রমাণ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ আল মাহমুদের কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তাদের আবেগ প্রকাশ করে, যা জুলাইয়ের পর থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গুলশানের পার্ক নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নামফলকটি যথাস্থানেই রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে গুলশান অ্যাভিনিউসংলগ্ন অংশটি এই পার্কের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পূর্ব দিকের অংশটি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত, যা একসময় গুলশান ইয়ুথ ক্লাব নামে চলত। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ওপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে নজর পড়ে। সেই সময়ে পার্কের জমিকে বিভিন্ন গ্রুপের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এর একাংশ ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে যমুনা গ্রুপকে এবং বন কিডস নামে র‍্যাংগস গ্রুপকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তরুণদের আন্দোলনের মুখে মাঝের অংশটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক উচ্ছেদ করা হয়। এরপর রাজউক সেখানে বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। ডিএনসিসি জায়গাটির নামকরণ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক। বর্তমানে এই দুই অংশ একীভূত করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে এই মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। বর্তমানে রাজউক, পূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মিলে রাজউককে এই পার্কের বৈধ মালিক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং সমঝোতার মাধ্যমে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এর রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

বর্তমানে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য হাঁটার পথ, বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী ছাড়াও ক্রিকেট মাঠ, নেট প্র্যাকটিস, বাস্কেটবল কোর্ট, ইনডোর ব্যাডমিন্টন, জিম, রোলার স্কেটিং, কারাতে, ইয়োগা ও ফুটবল টার্ফের মতো উন্নত সব সুবিধা রয়েছে। এর বাইরে জাকাত তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সকালের নাশতা ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান এবং একটি বিনামূল্যে ক্লিনিক পরিচালনার মতো সেবামূলক কাজও সেখানে করা হচ্ছে।

এই ধরনের পার্ক পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখানে ২৫ জন কোচ ও প্রশিক্ষক, আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক ডজন প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত আছেন। অতীতে এই পরিচালন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়েই ভূমিদস্যুরা নর্থ এন্ড কফিশপ ও রোস্টার বা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসায়িক স্থাপনা তৈরির সুযোগ নিয়েছে। অথচ বুকাননের মতো অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন যে, ক্লাব গুডসের ক্ষেত্রে সদস্য ফি ও ব্যবহার ফি-এর মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো সম্ভব। সীমিত জায়গায় মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও খেলার মাঠের সর্বোত্তম ব্যবহারে এই ফি পদ্ধতি কার্যকর।

অবশ্যই সরকারি জমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তাতে মোট আয়-ব্যয়ের কোনো বিস্তারিত হিসাব বা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পাওয়া যায়নি। যেহেতু জনসাধারণ ও সদস্যদের দেওয়া ফি-এর বিনিময়ে পার্কটি চলছে, তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখতে এমন উন্মুক্ত পার্ক ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তবে ভূমিদস্যুদের থাবা থেকে এসব স্থাপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে জনজবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি জায়গায় কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া যাবে না, বরং শহীদ তাজউদ্দীন পার্কের আদলেই ঢাকার অন্য পার্কগুলোকেও জনবান্ধব ও সুরক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশ কিছুদিন হলো, আবার অভ্যস্ত, গৎবাঁধা ও আটপৌরে জীবনে ফিরে এসেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দিনের শুরুতে সকালে পার্কে হাঁটতে যাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা–সম্পর্কিত বিবিধ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, বই পড়া, লেখালেখি, ছুটির দিনে বাজারঘাট করা ইত্যাদি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরও কিছুটা হাঁটতেই ক্লাবের পুরোনো ভবনে দেখলাম নতুন একটা পাঠাগার হয়েছে, নাম ‘কবি আল মাহমুদ পাঠাগার’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ আমাদের প্রধান কবি আল মাহমুদকে খারিজ করার কত অপচেষ্টাই না হয়েছে: কবির জানাজায়, ঢাকায় কবর দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের আইকন চিনতে ভুল করেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু তা–ই নয়, এখন শেখ মুজিবের জন্মদিনে, মৃত্যুদিবসে তাঁর অনুসারীরা আল মাহমুদের কবিতা ‘নিশিডাক’ উদ্ধৃত করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই আমাদের এই আত্মানুসন্ধানের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুলাই যে সব অনিয়ম বন্ধ করেছে এমন নয়, গুলশানেই জনসাধারণের সাহাবুদ্দীন পার্কের অভ্যন্তরে নর্থ এন্ড কফিশপ ও রোস্টার এখনো তার অবাঞ্ছিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।

Facebook Comments Box