ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালদ্বীপে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ এ ৫৫ কর্মী নিয়োগ হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতার কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ পরিবেশকর্মী রিফাত প্রতি বাংলাদেশির মাথায় ৬৪৬ ডলার বৈদেশিক ঋণ: বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিতে অনেক সমবায় সমিতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে: রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যায় বিচার শুরুর নির্দেশ

ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি

 

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে পার্কে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কে ঘোরার সময় জনপরিসরের এই জায়গাগুলোর বর্তমান চিত্র আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো।

 

গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নতুন করে ‘কবি আল মাহমুদ পাঠাগার’ স্থাপনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অথচ একটা সময় কবি আল মাহমুদকে প্রান্তিক করার নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, এমনকি তাঁর জানাজা ও সমাধির বিষয়েও বাধা দেওয়া হয়েছিল।

 

পড়ুন>>জাপানের কাছে হারে কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন প্রায় শেষ

 

ইতিহাস যে শেষ পর্যন্ত যোগ্যজনকে সম্মান দেয়, এই পাঠাগার তারই প্রমাণ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ আল মাহমুদের কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তাদের আবেগ প্রকাশ করে, যা জুলাইয়ের পর থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গুলশানের পার্ক নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নামফলকটি যথাস্থানেই রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে গুলশান অ্যাভিনিউসংলগ্ন অংশটি এই পার্কের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পূর্ব দিকের অংশটি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত, যা একসময় গুলশান ইয়ুথ ক্লাব নামে চলত।

পড়ুন>>গাজায় অর্থ সহায়তা নিয়ে অপপ্রচারের কড়া জবাব দিল কাতার

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ওপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে নজর পড়ে। সেই সময়ে পার্কের জমিকে বিভিন্ন গ্রুপের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এর একাংশ ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে যমুনা গ্রুপকে এবং বন কিডস নামে র‍্যাংগস গ্রুপকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তরুণদের আন্দোলনের মুখে মাঝের অংশটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক উচ্ছেদ করা হয়। এরপর রাজউক সেখানে বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। ডিএনসিসি জায়গাটির নামকরণ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক।

পড়ুন>>অনুমোদন ছাড়াই সিলেট-তামাবিল সড়কে কাটা হচ্ছে শত শত গাছ

বর্তমানে এই দুই অংশ একীভূত করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে এই মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। বর্তমানে রাজউক, পূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মিলে রাজউককে এই পার্কের বৈধ মালিক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং সমঝোতার মাধ্যমে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এর রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

বর্তমানে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য হাঁটার পথ, বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী ছাড়াও ক্রিকেট মাঠ, নেট প্র্যাকটিস, বাস্কেটবল কোর্ট, ইনডোর ব্যাডমিন্টন, জিম, রোলার স্কেটিং, কারাতে, ইয়োগা ও ফুটবল টার্ফের মতো উন্নত সব সুবিধা রয়েছে। এর বাইরে জাকাত তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সকালের নাশতা ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান এবং একটি বিনামূল্যে ক্লিনিক পরিচালনার মতো সেবামূলক কাজও সেখানে করা হচ্ছে।

এই ধরনের পার্ক পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখানে ২৫ জন কোচ ও প্রশিক্ষক, আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক ডজন প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত আছেন। অতীতে এই পরিচালন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়েই ভূমিদস্যুরা নর্থ এন্ড কফিশপ ও রোস্টার বা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসায়িক স্থাপনা তৈরির সুযোগ নিয়েছে। অথচ বুকাননের মতো অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন যে, ক্লাব গুডসের ক্ষেত্রে সদস্য ফি ও ব্যবহার ফি-এর মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো সম্ভব। সীমিত জায়গায় মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও খেলার মাঠের সর্বোত্তম ব্যবহারে এই ফি পদ্ধতি কার্যকর।

আরও পড়ুন>>জাতিসংঘে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নেই প্রধানমন্ত্রীর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

 

অবশ্যই সরকারি জমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তাতে মোট আয়-ব্যয়ের কোনো বিস্তারিত হিসাব বা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পাওয়া যায়নি। যেহেতু জনসাধারণ ও সদস্যদের দেওয়া ফি-এর বিনিময়ে পার্কটি চলছে, তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখতে এমন উন্মুক্ত পার্ক ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তবে ভূমিদস্যুদের থাবা থেকে এসব স্থাপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে জনজবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি জায়গায় কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া যাবে না, বরং শহীদ তাজউদ্দীন পার্কের আদলেই ঢাকার অন্য পার্কগুলোকেও জনবান্ধব ও সুরক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি

আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভূমিদস্যুদের হাত থেকে পার্ক রক্ষায় স্বচ্ছতা জরুরি

 

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে পার্কে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কে ঘোরার সময় জনপরিসরের এই জায়গাগুলোর বর্তমান চিত্র আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হলো।

 

গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নতুন করে ‘কবি আল মাহমুদ পাঠাগার’ স্থাপনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অথচ একটা সময় কবি আল মাহমুদকে প্রান্তিক করার নানা অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, এমনকি তাঁর জানাজা ও সমাধির বিষয়েও বাধা দেওয়া হয়েছিল।

 

পড়ুন>>জাপানের কাছে হারে কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন প্রায় শেষ

 

ইতিহাস যে শেষ পর্যন্ত যোগ্যজনকে সম্মান দেয়, এই পাঠাগার তারই প্রমাণ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ আল মাহমুদের কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তাদের আবেগ প্রকাশ করে, যা জুলাইয়ের পর থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গুলশানের পার্ক নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নামফলকটি যথাস্থানেই রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে গুলশান অ্যাভিনিউসংলগ্ন অংশটি এই পার্কের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পূর্ব দিকের অংশটি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত, যা একসময় গুলশান ইয়ুথ ক্লাব নামে চলত।

পড়ুন>>গাজায় অর্থ সহায়তা নিয়ে অপপ্রচারের কড়া জবাব দিল কাতার

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ওপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে নজর পড়ে। সেই সময়ে পার্কের জমিকে বিভিন্ন গ্রুপের ব্যবসায়িক স্বার্থে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এর একাংশ ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে যমুনা গ্রুপকে এবং বন কিডস নামে র‍্যাংগস গ্রুপকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তরুণদের আন্দোলনের মুখে মাঝের অংশটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক উচ্ছেদ করা হয়। এরপর রাজউক সেখানে বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। ডিএনসিসি জায়গাটির নামকরণ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক।

পড়ুন>>অনুমোদন ছাড়াই সিলেট-তামাবিল সড়কে কাটা হচ্ছে শত শত গাছ

বর্তমানে এই দুই অংশ একীভূত করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে এই মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। বর্তমানে রাজউক, পূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মিলে রাজউককে এই পার্কের বৈধ মালিক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং সমঝোতার মাধ্যমে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এর রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

বর্তমানে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য হাঁটার পথ, বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী ছাড়াও ক্রিকেট মাঠ, নেট প্র্যাকটিস, বাস্কেটবল কোর্ট, ইনডোর ব্যাডমিন্টন, জিম, রোলার স্কেটিং, কারাতে, ইয়োগা ও ফুটবল টার্ফের মতো উন্নত সব সুবিধা রয়েছে। এর বাইরে জাকাত তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সকালের নাশতা ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান এবং একটি বিনামূল্যে ক্লিনিক পরিচালনার মতো সেবামূলক কাজও সেখানে করা হচ্ছে।

এই ধরনের পার্ক পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখানে ২৫ জন কোচ ও প্রশিক্ষক, আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক ডজন প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত আছেন। অতীতে এই পরিচালন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়েই ভূমিদস্যুরা নর্থ এন্ড কফিশপ ও রোস্টার বা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসায়িক স্থাপনা তৈরির সুযোগ নিয়েছে। অথচ বুকাননের মতো অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন যে, ক্লাব গুডসের ক্ষেত্রে সদস্য ফি ও ব্যবহার ফি-এর মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো সম্ভব। সীমিত জায়গায় মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও খেলার মাঠের সর্বোত্তম ব্যবহারে এই ফি পদ্ধতি কার্যকর।

আরও পড়ুন>>জাতিসংঘে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নেই প্রধানমন্ত্রীর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

 

অবশ্যই সরকারি জমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তাতে মোট আয়-ব্যয়ের কোনো বিস্তারিত হিসাব বা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পাওয়া যায়নি। যেহেতু জনসাধারণ ও সদস্যদের দেওয়া ফি-এর বিনিময়ে পার্কটি চলছে, তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখতে এমন উন্মুক্ত পার্ক ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তবে ভূমিদস্যুদের থাবা থেকে এসব স্থাপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে জনজবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি জায়গায় কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া যাবে না, বরং শহীদ তাজউদ্দীন পার্কের আদলেই ঢাকার অন্য পার্কগুলোকেও জনবান্ধব ও সুরক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

Facebook Comments Box