চীনে তাইওয়ানের শ্রমমন্ত্রীর বিরল সফর: রাজনৈতিক বরফ গলার ইঙ্গিত?
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বেইজিং ও তাইপেইয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েনের মাঝেই চীনে পা রাখলেন তাইওয়ানের শ্রমমন্ত্রী হুং সুন-হান। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক)-এর মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে গত রোববার তিনি নানজিংয়ে পৌঁছান। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাইওয়ানের কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম চীন সফর, যা কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তাইওয়ানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নানজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কর্মসংস্থান, শ্রমবাজারের বিবর্তন ও প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী হুং সুন-হান কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। পুরো সফরটি কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে এবং চীন এপেকের প্রচলিত নিয়ম মেনেই তাইওয়ানের প্রতিনিধিদলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে। বৈঠকজুড়ে হুং ‘চাইনিজ তাইপে’ পরিচয়ের নামফলকের সামনেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের সরকারি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেইজিং লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসলেও, এই সফরকে তাইওয়ান একটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ফোরামের নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে দেখছে। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের দাবি, এটি দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সফর নয়, বরং এপেকের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি আনুষ্ঠানিক সফর।
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান জটিল অবস্থার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো। উল্লেখ্য, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তাইওয়ান ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এপেকের আয়োজক দেশ হিসেবে চীন আগামী নভেম্বরে শেনঝেনে একটি শীর্ষ সম্মেলনেরও আয়োজন করতে যাচ্ছে।
তবে এই সফরের মাধ্যমে বড় কোনো কূটনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। ঐতিহাসিকভাবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাধারণত সরাসরি এপেকের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন না এবং পরিবর্তে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠান। আগামী নভেম্বরের সম্মেলনে তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। তাইওয়ানের দাবি, তারা এপেকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে তাদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে হুংয়ের সফর নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে বলে তাইওয়ানের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, ফোকাস তাইওয়ান ও তাইপেই টাইমস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এপেকের মতো বহুপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের একই পরিসরে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে লাইয়ের অবস্থান হলো, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু তাইওয়ানের জনগণের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে সফরটিকে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সফর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























