মোদির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সিজেপি আন্দোলন, সুযোগ খুঁজছে বিরোধীরা
- আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বড় এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মে মাসে তরুণদের ক্ষোভের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা শুরুতেই জানিয়েছিলেন যে, তাদের সমর্থকরা বর্তমান সরকার এবং বিরোধী দল—উভয়ের প্রতিই আস্থা হারিয়েছেন, কারণ কেউই তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।
তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরে সোমবার, যখন দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার পর সিজেপি নেতারা বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের কাছে সরাসরি সমর্থনের আহ্বান জানান। পুলিশের এই অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরদিনই বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এটি বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি বড় সুযোগ, যা সিজেপির আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করতেও সহায়তা করতে পারে।
সোমবার দিল্লিতে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। যদিও সিজেপি জানিয়েছে তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেবে না, তবুও বিরোধী দলগুলোর সমর্থন তাদের জন্য সাংগঠনিক সহায়তা ও পরিচিতি বাড়াতে পারে। তবে বিশ্লেষক সন্দীপ শাস্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার আড়ালে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি—প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—চাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
২০১৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদির জন্য বর্তমান তরুণদের অসন্তোষ একটি বড় মাথাব্যথার কারণ। ভারতের ১৪২ কোটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে, যেখানে তরুণদের ভোট বড় ফ্যাক্টর। দিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার মনে করেন, সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত তৈরি হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এদিকে সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযোগ তুলেছে, বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক সুবিধা নিতে আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। আটকের আগে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানিয়েছেন, শাসক জোটের বৈঠকে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তরুণদের সমর্থক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সিজেপির মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, তারা বিরোধী দলের সমর্থনকে স্বাগত জানালেও কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেখানে হতে দেবেন না।


























