বিএনপির মিত্রদের মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষ, মান ভাঙাতে তারেক রহমানের উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় জোটের শরিক দল ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা এখন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির জটিল সমীকরণে কেউ ক্ষুব্ধ, কেউবা হতাশ। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মিত্রদের মান ভাঙানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার রাতে তিনি শরিক নেতাদের নিয়ে নৈশভোজে মিলিত হন। এর আগে নিজ দল ছেড়ে আসা রাশেদ খানকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে অন্যদের ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনা করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিএনপি ও এর শরিকরা মোট ২১৪টি আসনে জয়ী হয়, যার মধ্যে বিএনপি ২১১টি এবং শরিকরা ৩টি আসন পায়। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হন। এনডিএম থেকে ইস্তফা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ এবং নাগরিক ঐক্যের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. জাহেদ উর রহমানও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
তবে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীদের অনেকে সরকারে কোনো পদ-পদবি না পাওয়ায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। বিশেষ করে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের মতো দলগুলো এখনো ক্ষমতার অংশীদার হতে পারেনি। ১২ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচনের আগে জোট ভেঙে যাওয়ায় এবং সরকার গঠনের পর যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জমিয়তের নেতারা সোমবার নৈশভোজের আমন্ত্রণ পেয়েও তাতে অংশ নেননি। দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা বৈঠক হয়নি।
অন্যদিকে, রাশেদ খানকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন সাবেক ছাত্রদল নেতা জানিয়েছেন, দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের ফলে দলের ভেতরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর নেতৃত্বাধীন বিজেপি এবং গণফোরামের মতো শরিক দলগুলোও কোনো পদ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।

























