ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কোণঠাসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারে বড় পরিকল্পনা ও রেকর্ড বরাদ্দ সরকারের দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের টেকনাফে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক সেনাসদস্য মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নিজেরাই সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: হোসেইন তাইয়েব ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৪৪৮ ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত জলবায়ুর হুমকিতে আশাশুনি: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কিশোর শক্তি সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হারল পাকিস্তান

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণ ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই উদ্যোগের আওতায় ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন কারখানা নির্মিত হবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন বার্ষিক ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চট্টগ্রামে উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জমিতে বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে।

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ভূমি ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে নতুন এই শিল্প স্থাপনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই অর্থবছরে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে বিপুল পরিমাণ সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ।

বর্তমানে সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই বিশাল ভর্তুকির চাপ কমাতে ও দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানাগুলোর পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়নেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

নতুন এই তিনটি কারখানা বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এতে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহ খাতে পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মোচিত হবে। যদিও কতজনের কর্মসংস্থান হবে তা চূড়ান্ত নকশা ও জনবল কাঠামো তৈরির পর নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া উৎপাদনকারী। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষিখাতে সার সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণ ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই উদ্যোগের আওতায় ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন কারখানা নির্মিত হবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন বার্ষিক ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চট্টগ্রামে উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জমিতে বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে।

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ভূমি ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে নতুন এই শিল্প স্থাপনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই অর্থবছরে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে বিপুল পরিমাণ সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ।

বর্তমানে সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই বিশাল ভর্তুকির চাপ কমাতে ও দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানাগুলোর পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়নেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

নতুন এই তিনটি কারখানা বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এতে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহ খাতে পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মোচিত হবে। যদিও কতজনের কর্মসংস্থান হবে তা চূড়ান্ত নকশা ও জনবল কাঠামো তৈরির পর নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া উৎপাদনকারী। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষিখাতে সার সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

Facebook Comments Box