ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইরান সীমান্তে ইসরাইলের এক ডজন যুদ্ধবিমানের মহড়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহেই ইরানের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত চক্কর দিয়ে ফিরে এসেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ডজনখানেক যুদ্ধবিমান। গত সোমবার পরিচালিত এই অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অংশ নেয় আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরত্বে এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়। মূলত ইরানকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ নেয় তেল আবিব। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সোমবার ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন পিট হেগসেথ। ঠিক সেই দিনই ইরানে সম্ভাব্য হামলার ছক হিসেবে বিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হয়। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। এমন এক সময়ে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হলো, যখন ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরাইলি বিমানগুলোর উড্ডয়নপথ ছিল মূলত ইরানে সামরিক আক্রমণের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য রুটের মতোই। তবে ইরানের একদম সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পৌঁছানোর পর যুদ্ধবিমানগুলো হুট করে দিক পরিবর্তন করে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে। মার্কিন ও ইসরাইলি আধিকারিকদের একাংশ এটাকে স্বাভাবিক মহড়া বললেও এর মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইরান যদি এটাকে সরাসরি আক্রমণের প্রস্তুতি ধরে নিয়ে পালটা ব্যবস্থা নিত, তবে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারত।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, অভিযান চালুর আগেই মার্কিন প্রশাসনকে এ বিষয়ে বার্তা দিয়েছিল ইসরাইল। তারা বিষয়টিকে নিছক একটি প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, নির্বাচনের আগে ইরান যাতে ইসরাই ভূখণ্ডে আক্রমণের সাহস না পায়, সেজন্যই শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের কয়েকজন কর্মকর্তা অন্য হিসাব দেখছেন। তাদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এসব যুদ্ধবিমানের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবে। তারা হয়তো আশা করেছিল যে তেহরান বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাবে, যা ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রমণ করার বড় একটি অজুহাত তৈরি করে দিত। সূত্রগুলোর দাবি, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর যুক্তি তৈরি হতে পারত।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরান সীমান্তে ইসরাইলের এক ডজন যুদ্ধবিমানের মহড়া

আপডেট সময় : ০১:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহেই ইরানের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত চক্কর দিয়ে ফিরে এসেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ডজনখানেক যুদ্ধবিমান। গত সোমবার পরিচালিত এই অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অংশ নেয় আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরত্বে এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়। মূলত ইরানকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ নেয় তেল আবিব। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সোমবার ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন পিট হেগসেথ। ঠিক সেই দিনই ইরানে সম্ভাব্য হামলার ছক হিসেবে বিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হয়। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। এমন এক সময়ে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হলো, যখন ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরাইলি বিমানগুলোর উড্ডয়নপথ ছিল মূলত ইরানে সামরিক আক্রমণের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য রুটের মতোই। তবে ইরানের একদম সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পৌঁছানোর পর যুদ্ধবিমানগুলো হুট করে দিক পরিবর্তন করে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে। মার্কিন ও ইসরাইলি আধিকারিকদের একাংশ এটাকে স্বাভাবিক মহড়া বললেও এর মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইরান যদি এটাকে সরাসরি আক্রমণের প্রস্তুতি ধরে নিয়ে পালটা ব্যবস্থা নিত, তবে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারত।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, অভিযান চালুর আগেই মার্কিন প্রশাসনকে এ বিষয়ে বার্তা দিয়েছিল ইসরাইল। তারা বিষয়টিকে নিছক একটি প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, নির্বাচনের আগে ইরান যাতে ইসরাই ভূখণ্ডে আক্রমণের সাহস না পায়, সেজন্যই শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের কয়েকজন কর্মকর্তা অন্য হিসাব দেখছেন। তাদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এসব যুদ্ধবিমানের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবে। তারা হয়তো আশা করেছিল যে তেহরান বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাবে, যা ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রমণ করার বড় একটি অজুহাত তৈরি করে দিত। সূত্রগুলোর দাবি, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর যুক্তি তৈরি হতে পারত।

Facebook Comments Box