ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রায়গঞ্জে ১.৬ কোটি টাকার সড়ক পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি রাষ্ট্রবিরোধী ও জনস্বার্থের পরিপন্থি: রিজভী সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই মূল লক্ষ্য: মাহদী আমিন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে বিপাকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা: সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য না করায় যেসব কাজ ছেড়েছিলেন ৭ তারকা নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ইন্ডিয়া জোট কাতারের উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের খবর নারায়ণগঞ্জে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগের ৪ নেতা বহিষ্কার গারো পাহাড়ের বন দখল, সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা আর প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় বিপন্ন মানুষ ও বন্যপ্রাণী

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই মূল লক্ষ্য: মাহদী আমিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু—এমন কোনো বিভাজন থাকবে না। রাষ্ট্র, সমাজ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন। শনিবার রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সকাল ৬ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।

সকাল ৬টার দিকে অনুষ্ঠানের স্থলে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দুর্গোৎসব আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা জয় করে সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক একটি আধুনিক সম্প্রীতির দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, মহালয়া মানে অশুভের বিনাশ আর শুভ শক্তির বিজয়। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা এবং বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি ছুটিও বর্ধিত করা হয়েছে। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, দেশের মূল শক্তি এখানকার জনগণ। জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও একতাবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ই সরকারের চালিকাশক্তি। আমরা মনে করি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, বনানীর এই এলাকা প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন। এখানে দাঁড়িয়ে আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় বা আদর্শিক ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হওয়া উচিত—আমরা বাংলাদেশি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানুষ কোনো বৈষম্যের শিকার না হয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে।

মহালয়ার বার্তা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই মূল লক্ষ্য: মাহদী আমিন

আপডেট সময় : ১১:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু—এমন কোনো বিভাজন থাকবে না। রাষ্ট্র, সমাজ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন। শনিবার রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সকাল ৬ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।

সকাল ৬টার দিকে অনুষ্ঠানের স্থলে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দুর্গোৎসব আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা জয় করে সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক একটি আধুনিক সম্প্রীতির দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, মহালয়া মানে অশুভের বিনাশ আর শুভ শক্তির বিজয়। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা এবং বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি ছুটিও বর্ধিত করা হয়েছে। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, দেশের মূল শক্তি এখানকার জনগণ। জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও একতাবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ই সরকারের চালিকাশক্তি। আমরা মনে করি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, বনানীর এই এলাকা প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন। এখানে দাঁড়িয়ে আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় বা আদর্শিক ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হওয়া উচিত—আমরা বাংলাদেশি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানুষ কোনো বৈষম্যের শিকার না হয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে।

মহালয়ার বার্তা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

Facebook Comments Box