২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: ভোলার জেলেদের দুশ্চিন্তা ও সরকারি সহায়তার
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য বিভাগ। এই ঘোষণার পরপরই জেলেরা তাদের নৌকা ও জাল গুটিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন, যাদের চোখেমুখে এখন চরম হতাশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাটে জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে দেখা গেছে।
মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৮ জন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ের জন্য ১৭ হাজার ২০০ জেলের মাথাপিছু ২৫ কেজি করে মোট ৪৩০ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলেদের অভিযোগ, এই সামান্য চাল তাদের ২২ দিনের সংসারের খরচের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। তারা দ্রুত চাল বিতরণের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময় এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তবে জেলেদের দাবি, ২২ দিনের কর্মহীন সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, ঋণের কিস্তি, নৌকা ও জালের ব্যয়সহ নানা আর্থিক চাপ।
স্থানীয় বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে জেলেরা ফিরছেন ঘাটে। হাকিমউদ্দিন, হাসান নগর, মির্জাকালু ও সাচড়া এলাকার মাছঘাটগুলোতে সারি সারি ট্রলার ও নৌকা নোঙর করা হয়েছে। প্রবীণ জেলে রহিম মাঝির আক্ষেপ, সরকারের আইন মানতে বাধ্য হয়েই তারা ডাঙ্গায় ফিরেছেন। কিন্তু এই ২২ দিন এনজিওর কিস্তির চাপে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অভাবে সংসার চালানো কঠিন হবে বলে জানান তিনি। কিন্তু এই ২২ দিন পোলাপান লইয়া খামু কী। শেষ মুহূর্তে যারা নদীতে রয়েছেন, তারাও মধ্যরাতের আগেই তীরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হাকিমউদ্দিন ঘাটের জেলে সাত্তার হাওলাদার বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় চাল বিতরণ শুরু হতে হতে অনেক দেরি হয়ে যায়, অথচ ওই সময় নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। সময়মতো সরকারি সহায়তা হাতে পাওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে তরুণ জেলে জামাল বলেন, পরিবার-পরিজনের মুখের দিকে তাকালে এই ২২ দিন যেন ২২ বছরের সমান মনে হয়। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প সহায়তা বৃদ্ধি এবং ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হোক। কারণ, টানা ২২ দিন নদীতে মাছ ধরতে না পারায় বন্ধ থাকবে তাদের আয়-রোজগার।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, আগের বছরগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল থাকার ফলে কিছু অসাধু জেলেরা আইন অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ পেয়েছেন। এবার মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলেদের শঙ্কা ও অভিযোগের বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার শাহা জানিয়েছেন, মা ইলিশ সুরক্ষায় তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। তিনি বলেন, আজ মধ্যরাত থেকেই নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নদীতে কঠোর নজরদারি শুরু হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ ট্রলার ও জাল বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩০ মেট্রিক টন চাল স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নদী ছাড়লেও জেলেদের চোখে-মুখে ছিল জীবিকা নিয়ে শঙ্কা।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























