ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে বাধ্য করার ঘটনায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। ঘটনা নিয়ে ওইদিন বিকালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য ডা. মোহা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মামলার বাদী মো. নাজমুল হোসাইন জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা উপাচার্য ও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং আগেই লিখে আনা পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। স্বাক্ষর গ্রহণের পর ভিসি ও তাকে দপ্তর থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় হামলাকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভি ফুটেজের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পদত্যাগপত্রটি তারা আগেই টাইপ করে নিয়ে এসেছিল।

নিজেদের ভুক্তভোগী বর্ণনা করে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, দপ্তরে মিটিং চলাকালে বাইরে হট্টগোল শুনেছিলাম। পরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেয়। তারা অভিযোগ তোলে যে, আমি রাজশাহীর স্থানীয়দের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাকে চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করা হয় এবং পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর না করলে খারাপ পরিস্থিতির ভয় দেখানো হয়। চাপের মুখে স্বাক্ষর করার পর তারা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং আমাকে লাঞ্ছিত করে দপ্তর থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান মামলার বাদী নাজমুল হোসাইন। আপনি রাজশাহীর মানুষকে কাজ দেন না, ঢাকার মানুষদের কাজ দেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, আমি স্বাক্ষর না করলে অন্যদের মতো আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতে পারে- এমন আশঙ্কা ছিল।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে বাধ্য করার ঘটনায়

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। ঘটনা নিয়ে ওইদিন বিকালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য ডা. মোহা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মামলার বাদী মো. নাজমুল হোসাইন জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা উপাচার্য ও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং আগেই লিখে আনা পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। স্বাক্ষর গ্রহণের পর ভিসি ও তাকে দপ্তর থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় হামলাকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভি ফুটেজের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পদত্যাগপত্রটি তারা আগেই টাইপ করে নিয়ে এসেছিল।

নিজেদের ভুক্তভোগী বর্ণনা করে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, দপ্তরে মিটিং চলাকালে বাইরে হট্টগোল শুনেছিলাম। পরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেয়। তারা অভিযোগ তোলে যে, আমি রাজশাহীর স্থানীয়দের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাকে চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করা হয় এবং পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর না করলে খারাপ পরিস্থিতির ভয় দেখানো হয়। চাপের মুখে স্বাক্ষর করার পর তারা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং আমাকে লাঞ্ছিত করে দপ্তর থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান মামলার বাদী নাজমুল হোসাইন। আপনি রাজশাহীর মানুষকে কাজ দেন না, ঢাকার মানুষদের কাজ দেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, আমি স্বাক্ষর না করলে অন্যদের মতো আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতে পারে- এমন আশঙ্কা ছিল।

Facebook Comments Box