ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৪ ঘণ্টায় মিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করল বিষণ্ণ মেঘ আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো সংসার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে না পেরে চিরকুট লিখে চতুর্থ শ্রেণি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে: রুহুল কবির রিজভী জেনারেশন জেড: বড় হওয়ার পথ কেন কঠিন হচ্ছে? রিয়াদে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো সংসার

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো সংসার

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো সংসার

 

সংসার সামলাতে সামলাতে যে মানুষটি নিজের ক্লান্তি আড়াল করেন, পরিবারের সবার প্রয়োজনের কথা মনে রাখেন, অথচ নিজের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় থেমে যান—সেই প্রিয় মানুষটিকে শেষ কবে মন থেকে ‘ধন্যবাদ’ বলা হয়েছে?

প্রতিদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর সংসারের নানা ঝামেলায় ভালোবাসার কথাগুলো যেন কোথায় হারিয়ে যায়। অথচ একটি ছোট্ট প্রশংসা, দুটো আন্তরিক কথা কিংবা সামান্য একটু যত্নও একজন স্ত্রীর মুখে এনে দিতে পারে প্রশান্তির হাসি। সেই নীরব অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগকে সম্মান জানাতেই আজ পালিত হচ্ছে ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ (Wife Appreciation Day)।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি উদযাপনের প্রচলন শুরু হয়। দিনটির মূল উদ্দেশ্য—সংসারে স্ত্রীর ভালোবাসা, যত্ন, পরিশ্রম ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

সকাল থেকে রাত—সংসারের প্রতিটি কাজে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে থাকেন স্ত্রী। পরিবারের সবার পছন্দ-অপছন্দ, প্রয়োজন, অসুস্থতা কিংবা আনন্দের মুহূর্ত—সবকিছুর খেয়াল রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

স্বামীর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সন্তানদের দেখভাল, ঘরের কাজ কিংবা পরিবারের নানা দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যেই থাকে তার নিরলস শ্রম। অনেক সময় নিজের ক্লান্তি কিংবা কষ্টটুকুও প্রকাশ করেন না। মুখে হাসি রেখে সামলে নেন একের পর এক দায়িত্ব।
এই নীরব ত্যাগের কোনো আর্থিক মূল্য হয়তো নির্ধারণ করা যায় না। কিন্তু একটি সুন্দর পরিবার গড়ে ওঠার পেছনে তার অবদান যে কতটা গভীর, তা অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে চোখেই পড়ে না।

দামি উপহার নয়, দরকার একটু ভালোবাসা
স্ত্রীকে খুশি করতে সবসময় দামি উপহার কিংবা বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে যাওয়া, প্রিয় খাবারটি এনে দেওয়া কিংবা হঠাৎ করে শুধু বলা—‘তুমি আছো বলেই আমার সংসারটা এত সুন্দর’—এটুকুই হয়তো তার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

দিনের শেষে সংসারের ব্যস্ততা একপাশে রেখে দুজন মিলে কিছুটা সময় গল্প করাও হতে পারে বিশেষ উপহার। জানতে চাওয়া যেতে পারে—‘আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?’

মুখে বলতে সংকোচ হলে ছোট্ট একটি চিরকুটে লিখে রাখা যায় মনের কথা। কিংবা মোবাইল ফোনে একটি ছোট্ট বার্তা—‘তোমার জন্যই আমার জীবনটা পূর্ণ’—হয়তো সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে।

কারও কাছে স্ত্রী জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, কারও কাছে কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় ভরসা। আবার কারও কাছে তিনি সংসারের কেন্দ্রবিন্দু, যাকে ঘিরেই পরিবারের সুখ-দুঃখের গল্প।

সম্পর্কের ধরন যাই হোক, প্রিয় মানুষটির অবদান স্বীকার করার সুযোগ হাতছাড়া করার কারণ নেই। কারণ ভালোবাসা শুধু বড় কোনো আয়োজনের বিষয় নয়; প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার মধ্যেই তার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ।

ভালোবাসার জন্য অবশ্য কোনো দিবস লাগে না,
ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনই প্রিয় মানুষকে ভালোবাসা যায়, তার প্রশংসা করা যায়, কৃতজ্ঞতা জানানো যায়। তবু কোনো একটি দিন যদি ব্যস্ত জীবনে একটু থামার সুযোগ করে দেয়, প্রিয় মানুষটির দিকে নতুন করে তাকানোর উপলক্ষ হয়—তাহলে সেই দিনটির গুরুত্ব কম নয়।

তাই আজ অভিমান, ব্যস্ততা আর দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তিকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরিয়ে দিন। স্ত্রীকে বলুন তার অবদানের কথা। জানান, আপনার জীবনে তার গুরুত্ব কতটা।

হয়তো খুব বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। শুধু এটুকুই বলা যায়— ‘তুমি আছো বলেই আমার ঘরটা সংসার হয়েছে। তুমি আছো বলেই জীবনটা এত সুন্দর।’
আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবসে’ প্রিয় মানুষটির মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর এর চেয়ে সুন্দর উপলক্ষ আর কী হতে পারে!

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো সংসার

আপডেট সময় : ০১:২৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো সংসার

 

সংসার সামলাতে সামলাতে যে মানুষটি নিজের ক্লান্তি আড়াল করেন, পরিবারের সবার প্রয়োজনের কথা মনে রাখেন, অথচ নিজের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় থেমে যান—সেই প্রিয় মানুষটিকে শেষ কবে মন থেকে ‘ধন্যবাদ’ বলা হয়েছে?

প্রতিদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর সংসারের নানা ঝামেলায় ভালোবাসার কথাগুলো যেন কোথায় হারিয়ে যায়। অথচ একটি ছোট্ট প্রশংসা, দুটো আন্তরিক কথা কিংবা সামান্য একটু যত্নও একজন স্ত্রীর মুখে এনে দিতে পারে প্রশান্তির হাসি। সেই নীরব অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগকে সম্মান জানাতেই আজ পালিত হচ্ছে ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ (Wife Appreciation Day)।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি উদযাপনের প্রচলন শুরু হয়। দিনটির মূল উদ্দেশ্য—সংসারে স্ত্রীর ভালোবাসা, যত্ন, পরিশ্রম ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

সকাল থেকে রাত—সংসারের প্রতিটি কাজে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে থাকেন স্ত্রী। পরিবারের সবার পছন্দ-অপছন্দ, প্রয়োজন, অসুস্থতা কিংবা আনন্দের মুহূর্ত—সবকিছুর খেয়াল রাখার চেষ্টা করেন তিনি।

স্বামীর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সন্তানদের দেখভাল, ঘরের কাজ কিংবা পরিবারের নানা দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যেই থাকে তার নিরলস শ্রম। অনেক সময় নিজের ক্লান্তি কিংবা কষ্টটুকুও প্রকাশ করেন না। মুখে হাসি রেখে সামলে নেন একের পর এক দায়িত্ব।
এই নীরব ত্যাগের কোনো আর্থিক মূল্য হয়তো নির্ধারণ করা যায় না। কিন্তু একটি সুন্দর পরিবার গড়ে ওঠার পেছনে তার অবদান যে কতটা গভীর, তা অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে চোখেই পড়ে না।

দামি উপহার নয়, দরকার একটু ভালোবাসা
স্ত্রীকে খুশি করতে সবসময় দামি উপহার কিংবা বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে যাওয়া, প্রিয় খাবারটি এনে দেওয়া কিংবা হঠাৎ করে শুধু বলা—‘তুমি আছো বলেই আমার সংসারটা এত সুন্দর’—এটুকুই হয়তো তার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

দিনের শেষে সংসারের ব্যস্ততা একপাশে রেখে দুজন মিলে কিছুটা সময় গল্প করাও হতে পারে বিশেষ উপহার। জানতে চাওয়া যেতে পারে—‘আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?’

মুখে বলতে সংকোচ হলে ছোট্ট একটি চিরকুটে লিখে রাখা যায় মনের কথা। কিংবা মোবাইল ফোনে একটি ছোট্ট বার্তা—‘তোমার জন্যই আমার জীবনটা পূর্ণ’—হয়তো সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে।

কারও কাছে স্ত্রী জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, কারও কাছে কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় ভরসা। আবার কারও কাছে তিনি সংসারের কেন্দ্রবিন্দু, যাকে ঘিরেই পরিবারের সুখ-দুঃখের গল্প।

সম্পর্কের ধরন যাই হোক, প্রিয় মানুষটির অবদান স্বীকার করার সুযোগ হাতছাড়া করার কারণ নেই। কারণ ভালোবাসা শুধু বড় কোনো আয়োজনের বিষয় নয়; প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার মধ্যেই তার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ।

ভালোবাসার জন্য অবশ্য কোনো দিবস লাগে না,
ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনই প্রিয় মানুষকে ভালোবাসা যায়, তার প্রশংসা করা যায়, কৃতজ্ঞতা জানানো যায়। তবু কোনো একটি দিন যদি ব্যস্ত জীবনে একটু থামার সুযোগ করে দেয়, প্রিয় মানুষটির দিকে নতুন করে তাকানোর উপলক্ষ হয়—তাহলে সেই দিনটির গুরুত্ব কম নয়।

তাই আজ অভিমান, ব্যস্ততা আর দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তিকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরিয়ে দিন। স্ত্রীকে বলুন তার অবদানের কথা। জানান, আপনার জীবনে তার গুরুত্ব কতটা।

হয়তো খুব বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। শুধু এটুকুই বলা যায়— ‘তুমি আছো বলেই আমার ঘরটা সংসার হয়েছে। তুমি আছো বলেই জীবনটা এত সুন্দর।’
আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবসে’ প্রিয় মানুষটির মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর এর চেয়ে সুন্দর উপলক্ষ আর কী হতে পারে!

 

 

Facebook Comments Box