ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর বায়োপিকে রাশমিকা মান্দানা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ ফ্যাকাল্টি ও বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রাজশাহীতে অবরুদ্ধ সাবেক ওসি, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ: প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদের মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর থার্ড টার্মিনাল: যাত্রীসেবায় ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা মেনজিসের সিরাজগঞ্জে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর রাজস্ব আয়ের ঘাটতি মেটাতে নতুন ঋণের খোঁজে সরকার সরকারি চাকরিতে তদবিরে কড়াকড়ি: নথিতে থাকবে আজীবন রেকর্ড ব্যান্টনের ঝোড়ো ইনিংসে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের ইরানে সামরিক অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

রাজশাহীতে অবরুদ্ধ সাবেক ওসি, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে শুক্রবার সকালে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এক নারী ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এসে দাবি করেন, ভেতরে তার স্বামী অবস্থান করছেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না মেলায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে দরজা খোলেনি কেউ। শেষপর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ফেললে ভেতর থেকে এক নারী ও পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম গ্রহণ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, যা একটি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তিনি নওগাঁর একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। আন্নির অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাহবুবের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন মাহবুব বিভিন্ন জেলায় বদলি হওয়ার সময় একাধিক নারীকে বিয়ে করেন। এর আগেও পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব ও সানজিদা মৌকে একসাথে দেখেছিলেন বলে আন্নি দাবি করেন। আন্নির ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার সকালে ওই ফ্ল্যাটে যান। এদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, তিনি আন্নিকে চারদিন আগেই তালাক দিয়েছেন এবং সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে তিনি সানজিদার সাথে বিয়ের কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি জানান, তাকে তালাক দেয়ার কোনো কাগজপত্র তিনি হাতে পাননি।

নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া, যেখানে বর্তমানে ওই মেয়ে ও তার স্বামী থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাহবুব ও সানজিদা মৌ ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার দুপুরে থানায় বসে আন্নি তার স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান এবং এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। চন্দ্রিমা থানার ওসি ছুটিতে থাকায় পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় পৌঁছানোর পর মাহবুব ও সানজিদার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এক পর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন তিনি। চাকরির আরও তথ্য: পরে পুলিশ দু’জনকে থানায় নিয়ে যায়। ‎থানায় নেয়ার সময় সাংবাদিকেরা মাহবুব আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। চাকরির আরও তথ্য: পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে অবরুদ্ধ সাবেক ওসি, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে শুক্রবার সকালে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এক নারী ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এসে দাবি করেন, ভেতরে তার স্বামী অবস্থান করছেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না মেলায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে দরজা খোলেনি কেউ। শেষপর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ফেললে ভেতর থেকে এক নারী ও পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম গ্রহণ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, যা একটি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তিনি নওগাঁর একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা। আন্নির অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাহবুবের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন মাহবুব বিভিন্ন জেলায় বদলি হওয়ার সময় একাধিক নারীকে বিয়ে করেন। এর আগেও পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব ও সানজিদা মৌকে একসাথে দেখেছিলেন বলে আন্নি দাবি করেন। আন্নির ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে তিনি শুক্রবার সকালে ওই ফ্ল্যাটে যান। এদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, তিনি আন্নিকে চারদিন আগেই তালাক দিয়েছেন এবং সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে তিনি সানজিদার সাথে বিয়ের কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি জানান, তাকে তালাক দেয়ার কোনো কাগজপত্র তিনি হাতে পাননি।

নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া, যেখানে বর্তমানে ওই মেয়ে ও তার স্বামী থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাহবুব ও সানজিদা মৌ ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার দুপুরে থানায় বসে আন্নি তার স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান এবং এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। চন্দ্রিমা থানার ওসি ছুটিতে থাকায় পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় পৌঁছানোর পর মাহবুব ও সানজিদার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এক পর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন তিনি। চাকরির আরও তথ্য: পরে পুলিশ দু’জনকে থানায় নিয়ে যায়। ‎থানায় নেয়ার সময় সাংবাদিকেরা মাহবুব আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। চাকরির আরও তথ্য: পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন।

Facebook Comments Box