ইরানে সামরিক অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেল জাতিসংঘ
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের জোরালো প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই মিনাব শহরে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। ওই দিন মার্কিন বাহিনী মিনাবের ‘শাজারেহ তাইয়েবাহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই হামলায় ১২০ শিশুসহ দেড় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। তদন্তকারীরা বলছেন, স্যাটেলাইট চিত্র ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো থেকে এটি স্পষ্ট যে স্থাপনাটি একটি বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল, তবুও মার্কিন বাহিনী সেখানে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করেনি।
একই দিনে লামার্দ শহরে আরও একটি বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায় প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিকর টাংস্টেন পেলেট বর্ষিত হওয়ায় ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সব মিলিয়ে দুটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে এই প্রতিবেদনটি পেশ করার কথা রয়েছে।
মিনাবের হামলার ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করলেও পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এছাড়া লামার্দে হামলার বিষয়টি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সরাসরি অস্বীকার করেছে। একদিকে বহিঃশক্তির সামরিক হামলার তদন্তের পাশাপাশি, ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড নিয়েও এই প্রতিবেদনে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শেষভাগ ও চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের প্রচেষ্টাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ভুক্ত। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘ মিশন অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























