সিরাজগঞ্জে ভ্যানচালক নিখোঁজের ১৫ বছর পর রায়
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ভ্যানচালক শাজাহান আলীকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩য় আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নিহতের স্ত্রীসহ তিনজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন কাজীপুরের কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের শিবলু, লাল মিয়া, সুরুজ আলী ও হারুন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে নিহতের স্ত্রী শিরিনা খাতুন, শ্বশুর সিরাজ আলী ও শাশুড়ি বানেছা বেগমকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি এনামুল করিম শাহীন জানান, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৫ বছর পর এই রায় এলো। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালে শাজাহান আলীর সঙ্গে শিরিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর শিরিনা তার বাবার বাড়ি চলে যান। পরে আসামিদের প্ররোচনায় শিরিনার পরিবার তাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতে বাধা দেয়, যা থেকে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়।
পরবর্তীতে শাজাহান আলী শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। সেই সময়ে হারুন ও শিবলুসহ স্থানীয় আসামিরা নিয়মিত যাতায়াত করলে শাজাহান এর প্রতিবাদ করেন। এতে আসামিরা তাকে মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর শাজাহান আলী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন ১২ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের বাবা আরফান আলী বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে চার জনকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার মোট ৮ জন আসামির মধ্যে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নিহতের স্ত্রী-শ্বশুর-শাশুড়িকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের সঙ্গে জামালপুর সরিষাবাড়ী উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাজাহান আলীর বিয়ে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিয়ের ৬ মাস পর শিরিনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আনা হয়।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























