সালাহ-লুকাকু-ভ্লাহোভিচ কেন বেছে নিলেন তুর্কি লিগ, নেপথ্যে বড় কারণ কী?
- আপডেট সময় : ০১:১৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
মোহাম্মদ সালাহর দলবদল নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি সৌদি আরবের কোনো ক্লাবে যোগ দেবেন অথবা আমেরিকার লিগে পাড়ি জমাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে তিনি বেছে নিয়েছেন তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোর। সালাহকে বরণ করে নিতে তুর্কি ভক্তদের মাঝে যে অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখা গেছে, তা যেন দীর্ঘদিনের কোনো প্রিয়জনের ঘরে ফেরার দৃশ্য। বিমানবন্দর থেকে মাঠ পর্যন্ত ভক্তদের ঢল নেমেছিল, এমনকি মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা দেখে সালাহ নিজেও মুগ্ধ হয়ে নিজের ফোনে ভিডিও ধারণ করেছেন।
তুরস্কের ফুটবলে শুধু সালাহ নন, যোগ দিয়েছেন রোমেলু লুকাকু এবং দুসান ভ্লাহোভিচের মতো বড় তারকারা। লুকাকু দীর্ঘ ইউরোপীয় ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ফেনারবাচে যোগ দিয়েছেন, আর ভ্লাহোভিচ জুভেন্টাস ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন বেসিকতাসে। এছাড়া ভিক্টর ওশিমেন দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন গালাতাসারাইতে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন ম্যাসন গ্রিনউড, নাথান আকে, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড ও আলেকজান্ডার নুবেলের মতো ফুটবলার। সব মিলিয়ে গত কয়েক মৌসুমের সৌদি-আমেরিকামুখী প্রবণতা বদলে এবার তারকাদের গন্তব্য হয়েছে তুরস্ক।
ইউরোপের বড় ফুটবল লিগ ছেড়ে সৌদি বা আমেরিকায় গেলে খেলোয়াড়রা অনেক সময় পাদপ্রদীপের আলো থেকে দূরে সরে যান, যা তাদের ক্যারিয়ারের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু তুর্কি লিগ ইউরোপীয় বলয়ে থাকায় তারা চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপা লিগের মতো বড় মঞ্চে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান। ১৭ বছর পর ফেনারবাচ এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে, যা লুকাকু-আসেনসিওদের মতো খেলোয়াড়দের ইউরোপের সেরা মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ করে দেবে।
তুর্কি লিগের প্রতি ফুটবলারদের এই বাড়তি আগ্রহের পেছনে অন্যতম কারণ হলো দর্শকদের অকৃত্রিম আবেগ। বড় দলের ম্যাচ হোক বা ছোট দলের, প্রতিটি ম্যাচই সেখানে উৎসবের আমেজ বয়ে আনে। ফ্লেয়ার ও ব্যানার নিয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হওয়া সমর্থকদের এমন প্যাশন খুব কম লিগেই দেখা যায়। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগেও অনেক সময় খেলোয়াড়দের বরণ করে নেওয়ার সময় এমন দৃশ্য দেখা যায় না, যা সালাহ ও অন্যান্য তারকারা তুরস্কের মাটিতে প্রতিনিয়ত পাচ্ছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও তুর্কি ক্লাবগুলো এখন বেশ কৌশলী। যদিও তারা সরাসরি সৌদি বা আমেরিকার মতো বিশাল অঙ্কের অর্থের ঝনঝনানি নিয়ে হাজির হতে পারে না, কিন্তু তারা খেলোয়াড়দের জন্য আকর্ষণীয় চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে। বেতন বা পারিশ্রমিকের পাশাপাশি জার্সি বিক্রি ও ব্র্যান্ডিং থেকে আয়ের একটি বড় অংশ খেলোয়াড়দের দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ত্রাবজোনস্পোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে সালাহর জার্সি বিক্রি থেকে তাঁর বেতনের একটি বড় অংশ উঠে এসেছে, যা প্রমাণ করে এই মডেলটি খেলোয়াড়দের জন্য কতটা লাভজনক।
সব মিলিয়ে তুর্কি লিগ এখন প্রিমিয়ার লিগ বা লা লিগার পাশাপাশি ফুটবল দুনিয়ার নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই বড় তারকাদের উপস্থিতি কেবল লিগের মানই বাড়াচ্ছে না, বরং স্পনসর এবং বিশ্বব্যাপী দর্শকদের নজরও কেড়ে নিচ্ছে। তাই আসন্ন মৌসুমে ফুটবল প্রেমীদের নজর যে তুর্কি লিগের দিকে থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সূত্র: প্রথম আলো























