ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দেশীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় ছিল, প্রধানমন্ত্রী লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়েই বৈঠকস্থলে উপস্থিত হন। বৈঠকে কৃষি খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও লাভজনক ও উৎপাদনশীল করে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সেচ সুবিধার মতো সেবাগুলো দ্রুত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

পড়ুন>>কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ ছাড়: ইকোনমি, বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসে সাশ্রয়ী টিকিট

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা চাষের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এর উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে। এছাড়াও পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে এয়ার-ফ্লো সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং গ্রীষ্মকালীন জাত সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

গবেষণার অগ্রগতির বিষয়ে বৈঠকে তুলে ধরা হয় যে, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি শুধু ধানের জাত। এছাড়া ১ হাজারেরও বেশি নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে।

পড়ুন>>কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রম ব্যয় কমাতে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো কৃষিযন্ত্রগুলো কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। দেশীয় পর্যায়ে যন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর ওপরও বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা সচল রয়েছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকের খরচ কমাবে। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা প্রদানে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বৈঠকে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন জাতের ফসলের মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক ও নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেছেন তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৯:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দেশীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় ছিল, প্রধানমন্ত্রী লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়েই বৈঠকস্থলে উপস্থিত হন। বৈঠকে কৃষি খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও লাভজনক ও উৎপাদনশীল করে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সেচ সুবিধার মতো সেবাগুলো দ্রুত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

পড়ুন>>কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ ছাড়: ইকোনমি, বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসে সাশ্রয়ী টিকিট

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা চাষের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এর উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে। এছাড়াও পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে এয়ার-ফ্লো সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং গ্রীষ্মকালীন জাত সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

গবেষণার অগ্রগতির বিষয়ে বৈঠকে তুলে ধরা হয় যে, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি শুধু ধানের জাত। এছাড়া ১ হাজারেরও বেশি নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে।

পড়ুন>>কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রম ব্যয় কমাতে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো কৃষিযন্ত্রগুলো কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। দেশীয় পর্যায়ে যন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর ওপরও বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা সচল রয়েছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকের খরচ কমাবে। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা প্রদানে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বৈঠকে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন জাতের ফসলের মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক ও নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেছেন তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

 

 

Facebook Comments Box