ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম নেতৃত্ব

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তবে অধিকাংশ ইউনিয়নে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় এবং দলীয় কোন্দল এড়াতে এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে দলটি।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম নেতৃত্ব

দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাইরে থাকার পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ভোটের লড়াইয়ের আগেই দলটির সামনে বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই দলীয় মনোনয়ন পেতে ৭ থেকে ১২ জন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনের আগেই নিজ দলের অভ্যন্তরীণ এই প্রতিযোগিতা সামলানো বিএনপির জন্য এখন প্রধান পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীকে রাখা হবে না। জনপ্রিয়তা, সততা, ত্যাগ, আনুগত্য এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছেন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পড়ুন>>দলের সকল কমিটিতে শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত বিএনপির

তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন ঘটানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থীই নিজেদের দলের দুর্দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত এবং পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দাবি করছেন। এছাড়া তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, দলের সংকটকালে যারা এলাকায় ছিলেন না, এমন অনেক নেতাও এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজনকে বাছাই করলে বাকিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে অনেকেই জনসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় এবার নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা অনেক বেশি।

লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম থানা এলাকাটি একক প্রার্থী নির্বাচনের কঠিন বাস্তবতার অন্যতম উদাহরণ। এখানকার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে মোট ৫৬৭ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ থেকে ১২ জন ফরম নিয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নে আটজন এবং চররুহিতা ইউনিয়নে ১২ জন চেয়ারম্যান পদের জন্য ফরম জমা দিয়েছেন। সদর থানা পশ্চিম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিটু পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সবার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাচাই করে চূড়ান্ত প্রার্থী ঠিক করা হবে, তবে বিদ্রোহী দমনে হাই কমান্ড থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এখনো আসেনি।

আরও  পড়ুন>>কারা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে সম্ভাব্য ১৯ জন প্রার্থী নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সাচনা বাজার ইউনিয়নে মাসুক মিয়া, ইকবাল হাসান তালুকদার, আব্দুন নূর আখুঞ্জি, মিছবাহ উদ্দিন রুমি ও জায়েদ আহমদ মনোনয়ন প্রত্যাশী। বেহেলী ইউনিয়নে সাইফুজ্জামান উকিল, সামছুজ্জামান ধন মিয়া, আলম আখুঞ্জি ও নজির আলির নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া ফেনারবাক ও সদর ইউনিয়নসহ অন্যান্য এলাকায়ও একাধিক যোগ্য নেতার উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। জামায়াতের সাথেও কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনীর চিত্রও একই রকম। ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নে ১১ জন এবং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ৭ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মোটবী ইউনিয়নে মীর মোশাররফ হোসেন মানিক, শাহ আলম, নিজামুদ্দিন, ফখরুল ইসলাম মাসুকসহ ১১ জন মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নেও দেলোয়ার হোসেন দেলু ও কামাল উদ্দিন আহমেদসহ একাধিক নেতা লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

আরও  পড়ুন>>ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ও পাল্টা বিমান অভিযান

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকায় এবার তৃণমূলের অনেক নেতার আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে দলের পক্ষ থেকে একজনকে চূড়ান্ত করে তার বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টতর হচ্ছে। প্রথমত, নিজ দলের একাধিক প্রার্থীকে একজনের পেছনে ঐক্যবদ্ধ রাখা। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত বা অন্যান্য দলের প্রার্থীর মোকাবিলা করা। তৃতীয়ত, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা যাতে ছদ্মবেশে বা অন্য কোনো কৌশলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। যদিও স্থানীয় নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী পলাতক থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর তারা ভেতরে ভেতরে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্যের পরীক্ষায় বিএনপি কতটা সফল হবে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলও স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের বিরোধের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতারা।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম নেতৃত্ব

আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম নেতৃত্ব

দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাইরে থাকার পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ভোটের লড়াইয়ের আগেই দলটির সামনে বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই দলীয় মনোনয়ন পেতে ৭ থেকে ১২ জন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনের আগেই নিজ দলের অভ্যন্তরীণ এই প্রতিযোগিতা সামলানো বিএনপির জন্য এখন প্রধান পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীকে রাখা হবে না। জনপ্রিয়তা, সততা, ত্যাগ, আনুগত্য এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছেন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পড়ুন>>দলের সকল কমিটিতে শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত বিএনপির

তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন ঘটানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থীই নিজেদের দলের দুর্দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত এবং পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দাবি করছেন। এছাড়া তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, দলের সংকটকালে যারা এলাকায় ছিলেন না, এমন অনেক নেতাও এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজনকে বাছাই করলে বাকিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে অনেকেই জনসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় এবার নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা অনেক বেশি।

লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম থানা এলাকাটি একক প্রার্থী নির্বাচনের কঠিন বাস্তবতার অন্যতম উদাহরণ। এখানকার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে মোট ৫৬৭ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ থেকে ১২ জন ফরম নিয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নে আটজন এবং চররুহিতা ইউনিয়নে ১২ জন চেয়ারম্যান পদের জন্য ফরম জমা দিয়েছেন। সদর থানা পশ্চিম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিটু পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সবার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাচাই করে চূড়ান্ত প্রার্থী ঠিক করা হবে, তবে বিদ্রোহী দমনে হাই কমান্ড থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এখনো আসেনি।

আরও  পড়ুন>>কারা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে সম্ভাব্য ১৯ জন প্রার্থী নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সাচনা বাজার ইউনিয়নে মাসুক মিয়া, ইকবাল হাসান তালুকদার, আব্দুন নূর আখুঞ্জি, মিছবাহ উদ্দিন রুমি ও জায়েদ আহমদ মনোনয়ন প্রত্যাশী। বেহেলী ইউনিয়নে সাইফুজ্জামান উকিল, সামছুজ্জামান ধন মিয়া, আলম আখুঞ্জি ও নজির আলির নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া ফেনারবাক ও সদর ইউনিয়নসহ অন্যান্য এলাকায়ও একাধিক যোগ্য নেতার উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। জামায়াতের সাথেও কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনীর চিত্রও একই রকম। ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নে ১১ জন এবং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ৭ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মোটবী ইউনিয়নে মীর মোশাররফ হোসেন মানিক, শাহ আলম, নিজামুদ্দিন, ফখরুল ইসলাম মাসুকসহ ১১ জন মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নেও দেলোয়ার হোসেন দেলু ও কামাল উদ্দিন আহমেদসহ একাধিক নেতা লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

আরও  পড়ুন>>ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ও পাল্টা বিমান অভিযান

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকায় এবার তৃণমূলের অনেক নেতার আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে দলের পক্ষ থেকে একজনকে চূড়ান্ত করে তার বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টতর হচ্ছে। প্রথমত, নিজ দলের একাধিক প্রার্থীকে একজনের পেছনে ঐক্যবদ্ধ রাখা। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত বা অন্যান্য দলের প্রার্থীর মোকাবিলা করা। তৃতীয়ত, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা যাতে ছদ্মবেশে বা অন্য কোনো কৌশলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। যদিও স্থানীয় নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী পলাতক থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর তারা ভেতরে ভেতরে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্যের পরীক্ষায় বিএনপি কতটা সফল হবে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলও স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের বিরোধের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতারা।

 

 

 

Facebook Comments Box