নোয়াখালী জেলা শহরের বসুন্ধরা কলোনি এলাকায় বুধবার সকাল আটটার দিকে এক ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটেছে। হরিনারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আফরা ইবনাত (১২) বাড়িতে একা থাকার সুযোগে এক অচেনা যুবক ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় আফরা স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই যুবক আলমারি খুলে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আফরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবক ধারালো ছুরি দিয়ে আফরার ওপর হামলা চালায়। এতে শিশুটির মাথা, ঘাড় ও দুই হাতে গুরুতর জখম হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে দ্রুত এগিয়ে আসে। তারা বাড়ির সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে সিয়াম (২৫) নামের এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। আটক সিয়ামের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।
সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফখরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় আফরার বাবা কেনাকাটার কাজে বাইরে ছিলেন এবং মা পাশের বাসায় গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তারা সরাসরি মূল অপরাধীকে দেখার সুযোগ পাননি। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে রাস্তার পাশে থাকা সিয়ামকে আটক করে মারধর করে, পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
তবে পুলিশি তদন্তে ভিন্ন এক তথ্য উঠে এসেছে। এসআই ফখরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী যে ব্যক্তির বর্ণনা দিয়েছে, তার সঙ্গে আটক সিয়ামের চেহারার তেমন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply