দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন যখন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক সেই মুহূর্তে এক বড় ধরনের সাফল্যের খবর জানিয়েছে র্যাব। সুন্দরবনের গহীনে সক্রিয় চারটি ভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ জন সদস্য সোমবার ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। খুলনা র্যাব-৬ এর সদর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
র্যাব-৬ এর ভাষ্যমতে, সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ছিল এই জলদস্যুরা। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বনজীবীরা সবসময় এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাব দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধী জীবনের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তাগিদ থেকেই এই দস্যুরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে সরকারি বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে বনটি আবারও পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আত্মসমর্পণকারী ৫২ জনের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। র্যাব জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগ ও র্যাবের ধারাবাহিক তৎপরতার ফলে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: র্যাব-৬ সূত্র জানায়, সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই ধারাবাহিকতায় চার বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Leave a Reply