গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী ছানা মিয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বর্তমানে হুইলচেয়ারে জীবন কাটাচ্ছেন।
পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছানা মিয়া ২০২২ সালে বিদ্যুতের পোল থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। এই দুর্ঘটনার ফলে তাঁর দুই পা অচল হয়ে যায় এবং তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি; উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিনের জমানো অর্থ এবং নিজের দুটি গরু বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন ছানা মিয়া।
এছাড়া সংসারের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি তাঁর স্ত্রী মেরিনা বেগমকে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কারও গড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তিনি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর জীবনে নেমে আসে এক বড় বিপর্যয়।
ছানা মিয়ার অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট সকালে তাঁকে ঘরে একা রেখে স্ত্রী মেরিনা বেগম অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি চিকিৎসার জন্য জমানো ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, নতুন জামাকাপড় এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কাগজপত্র নিয়ে যান। স্ত্রীর এই আকস্মিক চলে যাওয়ার ঘটনায় ৮ বছরের সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এই অসহায় ব্যক্তি। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেরিনা বেগমের কোনো সন্ধান পাননি।
শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিজে চলাফেরা করতে না পারায় এবং চিকিৎসার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ছানা মিয়া এখন দিশেহারা। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কোনো উপায়ান্তর না দেখে তিনি গোবিন্দগঞ্জ থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি এখন প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাঁর সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে সর্বস্ব হারানোর কষ্ট—সব মিলিয়ে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছেন ছানা মিয়া। ডে/ বা
Leave a Reply