ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. লুৎফর রহমান লিটন (৪৫) আর নেই। প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে যেন থমকে গেছে রাণীশংকৈল। একজন শিক্ষক, একজন সহকর্মী, একজন প্রিয় মানুষ—যাঁর কণ্ঠে প্রতিদিন উচ্চারিত হতো জ্ঞানের কথা, যাঁর সান্নিধ্যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখত অসংখ্য শিক্ষার্থী, সেই মানুষটির হঠাৎ চলে যাওয়া পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। নিহত লুৎফর রহমান লিটন রাণীশংকৈল পৌর শহরের বন্দর ডাবতলী এলাকার বশির সেক্রেটারির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই সকালে স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থল উত্তরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন শিক্ষক লিটন। পথে রাণীশংকৈল-কাঠালডাঙ্গী সড়কের পদমপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের সামনে পৌঁছালে তাঁরা মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।
এতে লিটন ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে শিক্ষক লিটনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আইসিইউতে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থেকেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারেননি তিনি। স্ত্রী প্রাণে বেঁচে ফিরলেও নির্মম নিয়তির কাছে হার মেনে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন শিক্ষক লিটন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাণীশংকৈলজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
সহকর্মী, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় তাঁর নিজ কর্মস্থল রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল বারী শিক্ষক লুৎফর রহমান লিটনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল একটি প্রাণ, একটি পরিবার থেকে কেড়ে নিল আপনজন, আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কেড়ে নিল তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে। লুৎফর রহমান লিটনের চলে যাওয়া তাই শুধু একটি পরিবারের শোক নয়,এটি রাণীশংকৈলের শিক্ষা অঙ্গনেও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
Leave a Reply