সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
ঐতিহ্য ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই বিশেষ আয়োজনে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ মোট ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জমকালো এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এছাড়া প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা এতে অংশ নেন। উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ছিল জনাকীর্ণ।
তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথস্থলে প্রবেশ করেন। তাকে দেখে উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।
এই শপথের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ সরকারপ্রধান পেল। তারেক রহমান একই পরিবার থেকে তৃতীয় সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং বিএনপি দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরল। তিনি ১৯৯১ সালের পর থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় দেশের চতুর্থ নির্বাহী প্রধান ও দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিধান রেখেই। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করা হয়। ফলে ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা দীর্ঘ হলেও মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারে দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা মাত্র চার। এ ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম, খালেদা জিয়া দ্বিতীয় (তিনবারের), শেখ হাসিনা তৃতীয় (পাঁচবারের) এবং তারেক রহমান সর্বশেষ। এ ছাড়া বাহাত্তরে সংবিধান প্রণয়নের আগে মুজিবনগর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তাঁকে প্রথম মন্ত্রীর এ তালিকায় নিলে তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী।
শপথ নেওয়ার পরপরই দেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিটি এলাকায় ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে নানা কার্যক্রম ও সংবাদের মধ্যে রয়েছে নতুন কিছু তথ্য। মালয়েশিয়া সরকার নথি জালিয়াতির অভিযোগে সম্প্রতি পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৭০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে ভুয়া ভিসায় প্রবেশের চেষ্টার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকার শীর্ষে থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী।
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসবের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা জল্পনা-কল্পনাও এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এটি একটি নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
সূত্র: Probash Barta


























