ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এমএসসি ইন মেডিকেল ফিজিক্স চালুর প্রশংসা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়ন পরিষদে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন নীলফামারীতে জমি নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত ক্রসফায়ার ঘিরে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর আকামার মেয়াদ শেষ হলেও প্রবাসীদের সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ: মন্ত্রী এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপিকর্মীদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ‘জেলার ২’ দিয়ে তামিল সিনেমায় বিশ্ব রেকর্ড রজনীকান্তের পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী পুলিশ হেফাজতে

রেখার সাথে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন শেখর সুমন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বলিউডে নিজের অভিষেক চলচ্চিত্র ‘উৎসব’-এ রেখার বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন শেখর সুমন। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন গিরিশ কর্নাড এবং প্রযোজনা করেছিলেন শশী কাপুর। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ‘স্ক্রিন স্পটলাইট’ অনুষ্ঠানে শেখর সুমন সেই সময়ের কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে একজন নতুন অভিনেতা হিসেবে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, কিন্তু রেখার আন্তরিক আচরণ সেই অস্বস্তি দ্রুত দূর করে দিয়েছিল।

শেখর সুমন বলেন, অনেক বড় তারকাকে ঘিরে যে ধরনের আড়ম্বর থাকে, তা নতুন শিল্পীদের জন্য চাপের হতে পারে। কিন্তু রেখা ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি শুটিং সেটে শেখরের পাশে বসে কথা বলতেন এবং পরিবেশকে সহজ করে তুলতেন, যাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগেই তিনি স্বচ্ছন্দ অনুভব করেন।

পরিচালক গিরিশ কর্নাডের দেওয়া পরামর্শের কথাও স্মরণ করেন শেখর। কর্নাড তাঁকে বলেছিলেন, রেখাকে নয়, বরং চরিত্র ‘বসন্তসেনা’কে সামনে রেখে অভিনয় করতে। এই পরামর্শটি তাঁকে চরিত্রে ডুবে যেতে সাহায্য করেছিল।

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের প্রসঙ্গে শেখর সুমন রেখার পেশাদারিত্বের বিশেষ প্রশংসা করেছেন। অভিনেতা জানান, এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও রেখা কখনোই দৃশ্য নিয়ে কোনো আপত্তি জানাননি বা ‘এখানে স্পর্শ কোরো না’—এমন কথা বলেননি। তিনি দৃশ্যের প্রয়োজনে একদম স্বাভাবিক ছিলেন এবং কাজটিকে অভিনয়ের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। শেখরের মতে, রেখার এই ইতিবাচক মনোভাব নতুন শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

একই সাক্ষাৎকারে শেখর সুমন তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ের স্মৃতিও শেয়ার করেন। ‘মানব হত্যা’ ছবিতে তৎকালীন নবাগত মাধুরী দীক্ষিতের সাথে কাজ করার সময় পরিচালককে তিনি বলেছিলেন, রেখার মতো বড় তারকা যদি তাঁর মতো নতুন অভিনেতার সাথে কাজ করতে পারেন, তবে তিনি কেন নতুন অভিনেত্রীর সাথে কাজ করতে পারবেন না। শেখর জানান, মাধুরীর বাড়িতে প্রথমবার দেখা করার পরই তিনি বুঝেছিলেন যে মাধুরী অসাধারণ সুন্দরী এবং সেই সময়ের অন্যতম বড় আবিষ্কার।

শেখর সুমন জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘উৎসব’, ‘রেহগুজার’ বা ‘নাচে ময়ূরী’-র মতো নারীপ্রধান ছবিতে অভিনয় করলেও, তিনি সচেতনভাবে কোনো বিশেষ ধরনের চরিত্রে আটকে থাকেননি। ‘পতি পরমেশ্বর’ ছবিতে ধূসর চরিত্রে অভিনয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দর্শক যদি কোনো চরিত্রকে ঘৃণা করেন, তবে সেটাই একজন অভিনেতার প্রকৃত সাফল্য। ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরাই একজন শিল্পীর আসল চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে ‘উৎসব’ ছবিটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা হিসেবে অভিহিত করে শেখর বলেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কোনো নবাগত এত বড় সুযোগ খুব কমই পেয়েছেন। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তিনি ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হন এবং দুই মাসের মধ্যেই রেখার সাথে শুটিংয়ে অংশ নেন। শশী কাপুর, গিরিশ কর্নাড এবং রেখার কাছে তিনি চিরকাল ঋণী বলে জানান শেখর সুমন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রেখার সাথে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন শেখর সুমন

আপডেট সময় : ০২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বলিউডে নিজের অভিষেক চলচ্চিত্র ‘উৎসব’-এ রেখার বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন শেখর সুমন। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন গিরিশ কর্নাড এবং প্রযোজনা করেছিলেন শশী কাপুর। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ‘স্ক্রিন স্পটলাইট’ অনুষ্ঠানে শেখর সুমন সেই সময়ের কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে একজন নতুন অভিনেতা হিসেবে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, কিন্তু রেখার আন্তরিক আচরণ সেই অস্বস্তি দ্রুত দূর করে দিয়েছিল।

শেখর সুমন বলেন, অনেক বড় তারকাকে ঘিরে যে ধরনের আড়ম্বর থাকে, তা নতুন শিল্পীদের জন্য চাপের হতে পারে। কিন্তু রেখা ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি শুটিং সেটে শেখরের পাশে বসে কথা বলতেন এবং পরিবেশকে সহজ করে তুলতেন, যাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগেই তিনি স্বচ্ছন্দ অনুভব করেন।

পরিচালক গিরিশ কর্নাডের দেওয়া পরামর্শের কথাও স্মরণ করেন শেখর। কর্নাড তাঁকে বলেছিলেন, রেখাকে নয়, বরং চরিত্র ‘বসন্তসেনা’কে সামনে রেখে অভিনয় করতে। এই পরামর্শটি তাঁকে চরিত্রে ডুবে যেতে সাহায্য করেছিল।

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের প্রসঙ্গে শেখর সুমন রেখার পেশাদারিত্বের বিশেষ প্রশংসা করেছেন। অভিনেতা জানান, এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও রেখা কখনোই দৃশ্য নিয়ে কোনো আপত্তি জানাননি বা ‘এখানে স্পর্শ কোরো না’—এমন কথা বলেননি। তিনি দৃশ্যের প্রয়োজনে একদম স্বাভাবিক ছিলেন এবং কাজটিকে অভিনয়ের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। শেখরের মতে, রেখার এই ইতিবাচক মনোভাব নতুন শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

একই সাক্ষাৎকারে শেখর সুমন তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ের স্মৃতিও শেয়ার করেন। ‘মানব হত্যা’ ছবিতে তৎকালীন নবাগত মাধুরী দীক্ষিতের সাথে কাজ করার সময় পরিচালককে তিনি বলেছিলেন, রেখার মতো বড় তারকা যদি তাঁর মতো নতুন অভিনেতার সাথে কাজ করতে পারেন, তবে তিনি কেন নতুন অভিনেত্রীর সাথে কাজ করতে পারবেন না। শেখর জানান, মাধুরীর বাড়িতে প্রথমবার দেখা করার পরই তিনি বুঝেছিলেন যে মাধুরী অসাধারণ সুন্দরী এবং সেই সময়ের অন্যতম বড় আবিষ্কার।

শেখর সুমন জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘উৎসব’, ‘রেহগুজার’ বা ‘নাচে ময়ূরী’-র মতো নারীপ্রধান ছবিতে অভিনয় করলেও, তিনি সচেতনভাবে কোনো বিশেষ ধরনের চরিত্রে আটকে থাকেননি। ‘পতি পরমেশ্বর’ ছবিতে ধূসর চরিত্রে অভিনয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দর্শক যদি কোনো চরিত্রকে ঘৃণা করেন, তবে সেটাই একজন অভিনেতার প্রকৃত সাফল্য। ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরাই একজন শিল্পীর আসল চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে ‘উৎসব’ ছবিটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা হিসেবে অভিহিত করে শেখর বলেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কোনো নবাগত এত বড় সুযোগ খুব কমই পেয়েছেন। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তিনি ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হন এবং দুই মাসের মধ্যেই রেখার সাথে শুটিংয়ে অংশ নেন। শশী কাপুর, গিরিশ কর্নাড এবং রেখার কাছে তিনি চিরকাল ঋণী বলে জানান শেখর সুমন।

Facebook Comments Box