ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রাইস্টচার্চে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল ভারত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের সাড়ে ৩৪ হাজার পদে নিয়োগ দ্রুত ভোলায় বসতভিটার কর আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক ও জাপানের সানায়ে তাকাইচি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৭৭ কোটি ডলারের করপোরেট ও ব্যক্তিগত অনুদান ইতালিতে পাহাড় থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন এক মার্কিন পর্যটক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান বাস্তব জীবনে কেমন অভিনেতা শেহেরিয়ার মুনাওয়ার সিদ্দিকী?

রাজিবপুরে মানুষের কাঁধই রোগীর অ্যাম্বুলেন্স

রাজিবপুর থেকে তরিকুল ইসলাম তারা
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৮৪৯০ বার পড়া হয়েছে

রাজিবপুরে মানুষের কাঁধে রোগী পরিবহন করছেন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

রাজিবপুরে মানুষের কাঁধই রোগীর অ্যাম্বুলেন্স

 

 

 

 

 

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের অসহায় মানুষদের জন্য চিকিৎসা নিতে যাওয়া যেন এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এখানে রোগীদের জন্য নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স, নেই ন্যূনতম যাতায়াতের ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষের কাঁধই হয়ে উঠেছে রোগীদের একমাত্র ‘অ্যাম্বুলেন্স’।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসরত হাজারো মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য নির্ভর করে রাজিবপুর সদর হাসপাতালের উপর। কিন্তু দুর্গম পথ আর যানবাহনের অভাবে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এক অবিশ্বাস্য পদ্ধতি—একটি প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি বাঁশ এবং দুইজন খেটে খাওয়া মানুষ।

 

 

 

রোগীকে চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে, সেই চেয়ার বাঁশের সাথে বেঁধে কাঁধে তুলে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বর্ষা, রোদ কিংবা ঝড়—কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারে না। অসুস্থ স্বজনকে বাঁচাতে এভাবেই প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দেন তারা।

পড়ুন>> রাণীশংকৈলে পিআইও কার্যালয়ে হামলা

 

 

তবে এত কষ্টে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। অভিযোগ রয়েছে, রাজিবপুর সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎ সমস্যাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাসপাতালের ভেতরে তৈরি হয় অসহনীয় পরিস্থিতি।

 

 

 

এদিকে, সরকারি উদ্যোগে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলেও, সেটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যুতের কোনো কার্যকর বিকল্পও নেই হাসপাতালে।

 

 

 

রাত নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
চারপাশে অন্ধকার, গরম আর অসুস্থ রোগীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো হাসপাতাল এলাকা। এমন অবস্থায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পড়ুন>> তাড়াশে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এসব সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তারা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালু, চরাঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

 

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “মানুষ যেন আর মানুষের কাঁধে করে হাসপাতালে যেতে বাধ্য না হয়, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।”

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজিবপুরে মানুষের কাঁধই রোগীর অ্যাম্বুলেন্স

আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

 

 

রাজিবপুরে মানুষের কাঁধই রোগীর অ্যাম্বুলেন্স

 

 

 

 

 

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের অসহায় মানুষদের জন্য চিকিৎসা নিতে যাওয়া যেন এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এখানে রোগীদের জন্য নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স, নেই ন্যূনতম যাতায়াতের ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষের কাঁধই হয়ে উঠেছে রোগীদের একমাত্র ‘অ্যাম্বুলেন্স’।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসরত হাজারো মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য নির্ভর করে রাজিবপুর সদর হাসপাতালের উপর। কিন্তু দুর্গম পথ আর যানবাহনের অভাবে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এক অবিশ্বাস্য পদ্ধতি—একটি প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি বাঁশ এবং দুইজন খেটে খাওয়া মানুষ।

 

 

 

রোগীকে চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে, সেই চেয়ার বাঁশের সাথে বেঁধে কাঁধে তুলে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বর্ষা, রোদ কিংবা ঝড়—কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারে না। অসুস্থ স্বজনকে বাঁচাতে এভাবেই প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দেন তারা।

পড়ুন>> রাণীশংকৈলে পিআইও কার্যালয়ে হামলা

 

 

তবে এত কষ্টে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। অভিযোগ রয়েছে, রাজিবপুর সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎ সমস্যাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাসপাতালের ভেতরে তৈরি হয় অসহনীয় পরিস্থিতি।

 

 

 

এদিকে, সরকারি উদ্যোগে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলেও, সেটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যুতের কোনো কার্যকর বিকল্পও নেই হাসপাতালে।

 

 

 

রাত নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
চারপাশে অন্ধকার, গরম আর অসুস্থ রোগীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো হাসপাতাল এলাকা। এমন অবস্থায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পড়ুন>> তাড়াশে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এসব সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তারা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালু, চরাঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

 

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “মানুষ যেন আর মানুষের কাঁধে করে হাসপাতালে যেতে বাধ্য না হয়, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।”

 

 

 

Facebook Comments Box