ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্যে কঠোর হুঁশিয়ারি সিলেটে হামের উপসর্গে ১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি: ইসি সচিব এক কাপ কফির নেপথ্যে: কৃষকের শ্রম থেকে ভোক্তার টেবিল দিনাজপুরের বিরামপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর প্রাণহানি পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে ২০০ জনের নিয়োগ কাতারে স্বল্প আয়ের পরিবারের সহায়তায় রফিক ও কাতার চ্যারিটির শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে ভারত ভূরুঙ্গামারীতে পিপিআর রোগের বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ

মোখলেছুর রহমান
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬১৬৫ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ

 

 

আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী যাত্রায় প্রবেশ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। অথচ বাস্তব চিত্র বলছে, ভোটের মাঠে স্বস্তির বদলে আতঙ্কই যেন ধীরে ধীরে ছায়া বিস্তার করছে।

 

 

সর্বশেষ রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ওপর হামলা, দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা অস্বীকারের সুযোগ নেই।

 

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পরপরই মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ভোটাররা আতঙ্কে থাকলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কমে যায়, প্রার্থীরা স্বাভাবিক প্রচার চালাতে পারেন না এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

 

     গত কয়েক মাসের অপরাধ পরিসংখ্যানও স্বস্তিদায়ক নয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ বেড়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খোদ রাজধানীসহ বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

 

 

বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক এই কারণে যে, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, এখনো এক হাজারের বেশি অস্ত্র এবং লাখ লাখ গোলাবারুদ অবৈধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব অস্ত্রই নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

 

 

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা একবাক্যে বলছেন, কেবল বক্তব্য বা আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ। আগাম গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা—এসব পদক্ষেপ এখন আর বিলম্বের সুযোগ রাখে না।

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। নির্বাচনের আগে যদি জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা না যায়, তবে একটি ভয়হীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

 

 

দেশবাসী প্রত্যাশা করে, নির্বাচন মানেই আতঙ্ক নয়—নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক উৎসব। সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনই কঠোর, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

 

আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ

 

 

আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী যাত্রায় প্রবেশ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। অথচ বাস্তব চিত্র বলছে, ভোটের মাঠে স্বস্তির বদলে আতঙ্কই যেন ধীরে ধীরে ছায়া বিস্তার করছে।

 

 

সর্বশেষ রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ওপর হামলা, দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা অস্বীকারের সুযোগ নেই।

 

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পরপরই মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ভোটাররা আতঙ্কে থাকলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কমে যায়, প্রার্থীরা স্বাভাবিক প্রচার চালাতে পারেন না এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

 

     গত কয়েক মাসের অপরাধ পরিসংখ্যানও স্বস্তিদায়ক নয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ বেড়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খোদ রাজধানীসহ বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

 

 

বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক এই কারণে যে, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, এখনো এক হাজারের বেশি অস্ত্র এবং লাখ লাখ গোলাবারুদ অবৈধভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব অস্ত্রই নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

 

 

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা একবাক্যে বলছেন, কেবল বক্তব্য বা আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ। আগাম গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা—এসব পদক্ষেপ এখন আর বিলম্বের সুযোগ রাখে না।

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। নির্বাচনের আগে যদি জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা না যায়, তবে একটি ভয়হীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

 

 

দেশবাসী প্রত্যাশা করে, নির্বাচন মানেই আতঙ্ক নয়—নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক উৎসব। সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনই কঠোর, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।

 

 

Facebook Comments Box