ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি মডেল রাকিব হাসান টোকিওর আদলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) থেকে সাত্তার আব্বাসী সোহেল
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন
চৌহালির এনায়েতপুর। এখানে কেজির মোড় নামক জনবহুল এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে একটি সরকারি যাত্রী ছাউনি। একসময় যাত্রীদের আশ্রয় ছিল এই ছাউনি, এখন তা যেন বেসরকারি বাস সংস্থা ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’-এর দখলে বন্দি এক অবিচারিত স্থাপনা। সরকারের অর্থে নির্মিত, জনগণের জন্য নির্ধারিত এই ছাউনিটি আজ হয়ে উঠেছে বাণিজ্যিক লাভের পণ্য। আর প্রশাসন? তারা যেন এক প্রাচীন নাটকের নীরব দর্শক, যারা শুধু দেখে, কিছু বলে না।

 

 

২০২৫ সালের ৬ মার্চ বাংলাদেশ নিউজ টুডে-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রথম আলো ফেলে দেয় এই অন্যায়ের উপর। প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতো, আলোড়ন তোলে এলাকা জুড়ে। সরাসরি ইঙ্গিত আসে ১ নং সঁদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মনোয়ারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে।

 

 

পরিষদের প্রশাসক মো. তানভীর আহমেদ মজুমদার প্রতিক্রিয়া জানান, আশ্বাস দেন তদন্ত ও ব্যবস্থার। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পথ আর বাস্তবতার পথ, এই দেশে প্রায়শই সমান্তরাল নয়।

 

 

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাটি আমলে নেন। তিনি ইউনিয়নের মেম্বার ও সচিবদের নির্দেশ দেন সরকারি স্থাপনায় বেসরকারি কাউন্টার চলবে না। এ ছিল এক প্রশাসনিক উচ্চারণ, দায়িত্ববোধের কণ্ঠস্বর। তিনি তাঁদের জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “জনসেবায় নিয়োজিত থাকা মানেই প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।”

 

 

কিন্তু কণ্ঠস্বরটি যেন শূন্যে মিলিয়ে গেল। সময় গড়াল, নির্দেশ থাকল কাগজে, আর ছাউনিটি থাকল দখলে। জনপ্রতিনিধিদের কেউ এগিয়ে এলেন না, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর দেখা গেল না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

 

 

স্থানীয় মানুষেরা প্রতিদিন দেখেন, সরকারি নামে নির্মিত একটি স্থাপনায় কেমন করে চলে ব্যক্তিস্বার্থের কারবার। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন এই নিরবতা কি কেবল দায়িত্বহীনতা, নাকি কোনো অশ্রুত আঁতাতের কুৎসিত ছায়া? প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা আর প্রভাবশালীদের মদদ কি এক অদৃশ্য চুক্তিতে বাঁধা পড়েছে?

পড়ুন>>কুড়িগ্রামে বিপুল পরিমাণে ভিজিএফের চাল জব্দ করল সেনাবাহিনী

 

সম্প্রতি আবারো ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও, তাঁর পক্ষ থেকেও মেলে না কোনো দৃঢ় প্রতিক্রিয়া। প্রশাসনের এই মৃদু গতি, জনগণের জন্য নির্মিত স্থাপনায় এই অনৈতিক বাণিজ্য, আর তা ঘিরে ক্ষমতার বলয়ে ছড়িয়ে পড়া নীরবতা সব মিলিয়ে এক দুঃখজনক চিত্র রচনা করছে।

 

 

চৌহালির মানুষ এখন প্রশ্ন করে সরকারি সম্পদ কি এভাবেই দখলদারদের হাতে তুলে দেওয়া হবে? প্রশাসনিক নির্দেশনা কি শুধু আনুষ্ঠানিক উচ্চারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আর জনপ্রতিনিধিরা কি কেবলই পদে আছেন, দায়িত্বে নন?

 

 

এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা সরকারি যাত্রী ছাউনিটি যেন ফিরিয়ে আনা হয় তার স্বাভাবিক ও সেবাধর্মী ব্যবহারে। প্রশাসন যদি এখনো না জাগে, তবে এ নিঃশব্দ অন্যায় একদিন প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নেবে সেটি হয়তো আর কাগজে নয়, রাস্তায় হবে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

 

 

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন

সরকারি যাত্রী ছাউনিতে অবৈধ বাস কাউন্টার: নির্বিকার প্রশাসন
চৌহালির এনায়েতপুর। এখানে কেজির মোড় নামক জনবহুল এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে একটি সরকারি যাত্রী ছাউনি। একসময় যাত্রীদের আশ্রয় ছিল এই ছাউনি, এখন তা যেন বেসরকারি বাস সংস্থা ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’-এর দখলে বন্দি এক অবিচারিত স্থাপনা। সরকারের অর্থে নির্মিত, জনগণের জন্য নির্ধারিত এই ছাউনিটি আজ হয়ে উঠেছে বাণিজ্যিক লাভের পণ্য। আর প্রশাসন? তারা যেন এক প্রাচীন নাটকের নীরব দর্শক, যারা শুধু দেখে, কিছু বলে না।

 

 

২০২৫ সালের ৬ মার্চ বাংলাদেশ নিউজ টুডে-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রথম আলো ফেলে দেয় এই অন্যায়ের উপর। প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতো, আলোড়ন তোলে এলাকা জুড়ে। সরাসরি ইঙ্গিত আসে ১ নং সঁদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মনোয়ারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে।

 

 

পরিষদের প্রশাসক মো. তানভীর আহমেদ মজুমদার প্রতিক্রিয়া জানান, আশ্বাস দেন তদন্ত ও ব্যবস্থার। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পথ আর বাস্তবতার পথ, এই দেশে প্রায়শই সমান্তরাল নয়।

 

 

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাটি আমলে নেন। তিনি ইউনিয়নের মেম্বার ও সচিবদের নির্দেশ দেন সরকারি স্থাপনায় বেসরকারি কাউন্টার চলবে না। এ ছিল এক প্রশাসনিক উচ্চারণ, দায়িত্ববোধের কণ্ঠস্বর। তিনি তাঁদের জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “জনসেবায় নিয়োজিত থাকা মানেই প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।”

 

 

কিন্তু কণ্ঠস্বরটি যেন শূন্যে মিলিয়ে গেল। সময় গড়াল, নির্দেশ থাকল কাগজে, আর ছাউনিটি থাকল দখলে। জনপ্রতিনিধিদের কেউ এগিয়ে এলেন না, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর দেখা গেল না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

 

 

স্থানীয় মানুষেরা প্রতিদিন দেখেন, সরকারি নামে নির্মিত একটি স্থাপনায় কেমন করে চলে ব্যক্তিস্বার্থের কারবার। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন এই নিরবতা কি কেবল দায়িত্বহীনতা, নাকি কোনো অশ্রুত আঁতাতের কুৎসিত ছায়া? প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা আর প্রভাবশালীদের মদদ কি এক অদৃশ্য চুক্তিতে বাঁধা পড়েছে?

পড়ুন>>কুড়িগ্রামে বিপুল পরিমাণে ভিজিএফের চাল জব্দ করল সেনাবাহিনী

 

সম্প্রতি আবারো ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও, তাঁর পক্ষ থেকেও মেলে না কোনো দৃঢ় প্রতিক্রিয়া। প্রশাসনের এই মৃদু গতি, জনগণের জন্য নির্মিত স্থাপনায় এই অনৈতিক বাণিজ্য, আর তা ঘিরে ক্ষমতার বলয়ে ছড়িয়ে পড়া নীরবতা সব মিলিয়ে এক দুঃখজনক চিত্র রচনা করছে।

 

 

চৌহালির মানুষ এখন প্রশ্ন করে সরকারি সম্পদ কি এভাবেই দখলদারদের হাতে তুলে দেওয়া হবে? প্রশাসনিক নির্দেশনা কি শুধু আনুষ্ঠানিক উচ্চারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আর জনপ্রতিনিধিরা কি কেবলই পদে আছেন, দায়িত্বে নন?

 

 

এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা সরকারি যাত্রী ছাউনিটি যেন ফিরিয়ে আনা হয় তার স্বাভাবিক ও সেবাধর্মী ব্যবহারে। প্রশাসন যদি এখনো না জাগে, তবে এ নিঃশব্দ অন্যায় একদিন প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নেবে সেটি হয়তো আর কাগজে নয়, রাস্তায় হবে।

 

 

Facebook Comments Box