ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস ব্যাংক খাতের মতো বীমা খাতেও লুটপাট চলছে: অর্থমন্ত্রী শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আইসিসির জোড়া শাস্তির মুখে পাকিস্তান আসিফ নজরুলের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মন্তব্যটি ভুয়া সঞ্চয়পত্রের লেনদেনে ভোগান্তি কমাতে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বেসরকারি সংস্থা সেতুতে ১৬৯ পদে নিয়োগ, বেতন ও আবেদনের নিয়মাবলি কাতারে ট্যাক্সি ও লিমোজিন সেবায় নিরাপত্তা ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করল কর্তৃপক্ষ হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্য দিলে মিলবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার

ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২ ৯০৮ বার পড়া হয়েছে

ঢেঁড়স পদ্ধতি

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢেঁড়স এদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এটি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। যা আজকাল প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। যদিও বর্ষাকালে এর উৎপাদন বেশি হয়।

খাদ্যোপযোগী ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হলো-

ক্যারোটিন ১৬৭০ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১৬ মি: গ্রা:। শর্করা ৮.৭ গ্রাম। আমিষ ১.৮ গ্রাম। স্নেহ ০.১ গ্রাম, লৌহ ১.৫ মি: গ্রা:, ভিটামিন বি ০.২০ মি: গ্রাম।  ভিটামিন সি ১০ মি: গ্রা:, খাদ্য শক্তি ৪৩ কিলোক্যালরি।

 

ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম। এই ক্যারোটিন আমাদের অন্ত্রে গিয়ে ভিটামিন-‘এ’ তৈরি করে।

 

এছাড়া ঢেঁড়সে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং এটা হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

মাটি:

দোআশ ও বেলে দোআশ ঢেঁড়শ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায় জাত শাউনি, পারবনি কানি-, বারী ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানী, পেন্টা গ্রীন, কাবুলী ডোয়ার্ফ, জাপানী প্যাসিফিক গ্রীন এসব ঢেঁড়শের চাষ উপযোগী জাত।

শেষের দুটো জাত সারা বৎসর ব্যাপী চাষ করা চলে। সময় সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে এর চাষ করা হয়। ফাল্গুন চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। জেনে নিন>> লাভ জনক পদ্ধতিতে বাধা কফি চাষ

বীজের পরিমাণ ও রোপণ:

প্রতি শতকে ২০ গ্রাম, হেক্টর প্রতি ৪- ৫ কেজি বীজ লাগে। বীজ বপন বীজ বোনার আগে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে নিতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে চাষের জমি তৈরি করতে হয়।

মাটি থেকে সারির দুরত্ব হবে ৭৫ সেমি.। বীজ সারিতে ৪৫ সেমি. দূরে দূরে ২-৩ টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দুরত্ব ১৫ সেমি. কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে।

শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ সবল চারা রেখে বাকী চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। জেনে নিন> পটল চাষ

সারের পরিমাণ  ও প্রয়োগ পদ্ধতি:

সার এক শতকে হেক্টর প্রতি গোবর ৭৫ কেজি ১৮ টন সরিষার খৈল ১.৭৫ কেজি ৪২৫ কেজি ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম গ্রাম ৫৫-৬০ কেজি টিএসপি ৩৫০ গ্রাম গ্রাম ৮৫-৯০ কেজি এমও পি ২৩০ গ্রাম গ্রাম ৫৫-৬০ কেজি সার প্রয়োগের নিয়ম জমি তৈরি করার সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানের ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপন করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু‘কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২ য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর। জেনে নিন>> লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

পরিচর্যা :

নিড়ানী দিয়ে মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকার ভেদ অনুযায়ী ১০/১২ দিন পর পর সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে। জেনে নিন> লাউ এর মাছি পোকা দমন করার কৌশল

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:

ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচে বেশি ক্ষতি করে। এ ছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে। রোগ ব্যবস্থাপনা হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এ ছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

ফসল সংগ্রহ :

বীজ বোনার ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাত ভেদে ফল ৮-১০ সেমি. লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

পড়ুন>> বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) মাসের কৃষিকাজ

পড়ুন>> চৈত্র মাসের কৃষি

পড়ুন>> ফাল্গুন মাসের কৃষি কাজ

পড়ুন>> আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর – মধ্য অক্টোবর) মাসে কৃষকের করণীয়

পড়ুন>> কৃষি ও কৃষকের কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর) মাসে করণীয়

পড়ুন>> ভাদ্র (মধ্য আগস্ট–মধ্য সেপ্টেম্বর) মাসের কৃষি ও কৃষকের করণীয়

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২

ঢেঁড়স এদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এটি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। যা আজকাল প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। যদিও বর্ষাকালে এর উৎপাদন বেশি হয়।

খাদ্যোপযোগী ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হলো-

ক্যারোটিন ১৬৭০ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১৬ মি: গ্রা:। শর্করা ৮.৭ গ্রাম। আমিষ ১.৮ গ্রাম। স্নেহ ০.১ গ্রাম, লৌহ ১.৫ মি: গ্রা:, ভিটামিন বি ০.২০ মি: গ্রাম।  ভিটামিন সি ১০ মি: গ্রা:, খাদ্য শক্তি ৪৩ কিলোক্যালরি।

 

ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম। এই ক্যারোটিন আমাদের অন্ত্রে গিয়ে ভিটামিন-‘এ’ তৈরি করে।

 

এছাড়া ঢেঁড়সে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং এটা হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

মাটি:

দোআশ ও বেলে দোআশ ঢেঁড়শ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায় জাত শাউনি, পারবনি কানি-, বারী ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানী, পেন্টা গ্রীন, কাবুলী ডোয়ার্ফ, জাপানী প্যাসিফিক গ্রীন এসব ঢেঁড়শের চাষ উপযোগী জাত।

শেষের দুটো জাত সারা বৎসর ব্যাপী চাষ করা চলে। সময় সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে এর চাষ করা হয়। ফাল্গুন চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। জেনে নিন>> লাভ জনক পদ্ধতিতে বাধা কফি চাষ

বীজের পরিমাণ ও রোপণ:

প্রতি শতকে ২০ গ্রাম, হেক্টর প্রতি ৪- ৫ কেজি বীজ লাগে। বীজ বপন বীজ বোনার আগে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে নিতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে চাষের জমি তৈরি করতে হয়।

মাটি থেকে সারির দুরত্ব হবে ৭৫ সেমি.। বীজ সারিতে ৪৫ সেমি. দূরে দূরে ২-৩ টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দুরত্ব ১৫ সেমি. কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে।

শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ সবল চারা রেখে বাকী চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। জেনে নিন> পটল চাষ

সারের পরিমাণ  ও প্রয়োগ পদ্ধতি:

সার এক শতকে হেক্টর প্রতি গোবর ৭৫ কেজি ১৮ টন সরিষার খৈল ১.৭৫ কেজি ৪২৫ কেজি ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম গ্রাম ৫৫-৬০ কেজি টিএসপি ৩৫০ গ্রাম গ্রাম ৮৫-৯০ কেজি এমও পি ২৩০ গ্রাম গ্রাম ৫৫-৬০ কেজি সার প্রয়োগের নিয়ম জমি তৈরি করার সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানের ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপন করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু‘কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২ য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর। জেনে নিন>> লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

পরিচর্যা :

নিড়ানী দিয়ে মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকার ভেদ অনুযায়ী ১০/১২ দিন পর পর সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে। জেনে নিন> লাউ এর মাছি পোকা দমন করার কৌশল

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:

ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচে বেশি ক্ষতি করে। এ ছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে। রোগ ব্যবস্থাপনা হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এ ছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

ফসল সংগ্রহ :

বীজ বোনার ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাত ভেদে ফল ৮-১০ সেমি. লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

পড়ুন>> বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) মাসের কৃষিকাজ

পড়ুন>> চৈত্র মাসের কৃষি

পড়ুন>> ফাল্গুন মাসের কৃষি কাজ

পড়ুন>> আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর – মধ্য অক্টোবর) মাসে কৃষকের করণীয়

পড়ুন>> কৃষি ও কৃষকের কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর) মাসে করণীয়

পড়ুন>> ভাদ্র (মধ্য আগস্ট–মধ্য সেপ্টেম্বর) মাসের কৃষি ও কৃষকের করণীয়

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box