ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টোকিওর আদলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ

সরিষাবাড়ি (জামালপুর) সাইয়‍্যেদ মাহমুদ
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৬২৯ বার পড়া হয়েছে

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকের হুকুমে ৩ শিক্ষক মিলে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করার পর ইউকেলিকটাস গাছে বেধে রাখার অভিযোগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর অভিবাবক মঈনাল মিয়ার। এ ঘটনাটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি রোববার উপজেলার আওনা ইউনিয়নের বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনাটি ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেয়ার
একপর্যায়ে শনিবার ও রবিবার সরেজীমিনে শিক্ষার্থী ও অভিবাভবকদের কাছ থেকে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চলছে চাপা ক্ষোভ।

এ বিষয়টি জানাজানি করলে শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ইয়াকুব আলী (১৫) কে এমন টিসি দেওয়া হবে বাংলাদেশে কোথাও কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না এমন হুমকি দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান।এ হুমকির বিষয়টি শিক্ষার্থীর পিতা মঈনাল মিয়া নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থী ও অভিবাভক সুত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের বাটিকামারী ঈদগাহ মাঠ এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী মঈনাল মিয়ার ছেলে বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলী গত ১১ ফেব্রুয়ারি রোববার বিদ্যালয়ে যান।

বিদ্যালয়ের ৪র্থ ঘন্টায় একাডেমিক ভবনের ৩য় তলায় বিদ্যালয়ের রুটিন মোতাবেক শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলীকে অংকের সুত্র বলতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলী বলতে না পারায় তাকে কিছু বকা ঝকা দিলে শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলী বলে ঠিক চেষ্টা করবো এ কথা বলার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী সেলিম মিয়ার স্কেল নিয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি ওই শিক্ষার্থীকে একটি মার দেন।

পরে মোবাইলে ফোন করে সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ ও বাংলা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে শ্রেণি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়।  সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ ও বাংলা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম সেখানে গিয়ে ইয়াকুব আলীর শার্টের কলার ধরে এবং পিছনের দিকে জাহাঙ্গীর আলম ধরে কিল ঘুষি মারলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ইয়াকুব আলীর পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষমা প্রার্থনা উপেক্ষা করে ৩য় তলা থেকে তিন শিক্ষক মিলে টেনে হেচড়ে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে হাজির করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলীকে গাছে বাধার জন্য ওই তিন শিক্ষককে হুকুম প্রদান করেন।

প্রধান শিক্ষকের কথামত ওই দিন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের দক্ষিণ কোনায় একটি ইউক‍্যালিপটাস গাছের সাথে শিক্ষার্থীর পিঠ ঠেকিয়ে দু হাত পিছনে দিয়ে দুই হাতে বাঁধন দিয়ে চড় থাপ্পড় দেওয়া হয়।

এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান ১৫/২০ মিনিট পর ইয়াকুব আলীকে গাছের সাথে দু হাতের বাধন খুলে পাছায় লাথি মেরে ওই শিক্ষকদের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেন।

প্রধান শিক্ষকের কথা মত ৩ বার ক্ষমা চেয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ফিরে যায় ইয়াকুব আলী । বিষয়টি জানা জানি না করার জন্য নির্দেশ দেন শিক্ষকরা।

এ বিষয়টি বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরাও প্রত্যক্ষ হন। ওই দিন থেকে লজ্জায় শিক্ষার্থী স্কুলের ক্লাস বর্জন করে।

এ বিষয়টি রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারী শিক্ষকরা ইয়াকুব আলীকে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষাথী রাকিম মিয়া জানান, ইয়াকুব আলী নামে নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রকে হেড় স্যারের অফিসের দক্ষিণ কোনায় একটি গাছের সাথে বেধে রাখতে দেখেছি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা খাতুন জানান, আমরা ইয়াকুব আলীর পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছি। ক্ষমা না করে ইয়াকুবকে ৩য় তলার শ্রেনী কক্ষ থেকে টেনে হেচড়ে নিয়ে গাছের সাথে বেধে রেখেছিল।

শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ইয়াকুব আলী’র পিতা রাজমিস্ত্রী মঈনাল মিয়া জানান, আমার ছেলে পড়া না পারলে বা বেয়াদবী করে থাকলে একটি না ২০টি বেত্রাঘাত করলেও আমার কোন দু:খ নাই। আক্ষেপ একটাই আমার ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেছে। এখন তো গরু চোরদেরকেও কেউ গাছের সাথে বাধে না। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আরও জানান, আমি আমার ছেলের বিষয়ে মুখ খুলে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেবে বলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান আমাকে হুমকি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর অভিবাভবক ফজলু মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি এর বিরুদ্ধে প্রাইভেট না পড়ায় শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করে এবং ফেল করিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। তিনি আরও জানান আমরা এর আগে অভিযোগ দিয়েছিলাম কোন কাজ হয়নি বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টা এ রকম পরে তাকে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে মাপ চাইয়ে দিয়েছি।ঝামেলা শেষ। আর এগুলো নিয়ে এই তিলকে তাল বানাইতাছে এগুলোতো হতে পারে না।

এগুলো হলে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব না। এই মুল কথা।আর কোন এ রকম কোন ঘটনা আসলে ঘটেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ক্লাস রুমে এক শিক্ষককে এক ছেলে হুমকি দিয়েছে বের হলে তাকে মারবে বলে হুমকি দিয়েছিল। যে কারণে তাকে ডেকে এনে দু চার কথা বলে দিয়ে শিক্ষকদের নিকট থেকে মাফ নিতে বলেছি। আর সেখানে এ রকম তিল কে তাল বানাইতাছে এগুলা তো হতে পারে না। শিক্ষার্থীকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করার বিষয়টি সঠিক না বলে মন্তব্যে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বলেন, এ বিষয়টি পরস্পর শুনেছি কিন্তু আমার কাছে কোন শিক্ষক ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ জানায়নি বলে মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন তথ্য পাইনি আমাকে শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীও পরিবার পরিজনও জানায়নি। কোন অভিযোগ পেলে সতত্যা যাচাই পূর্বক দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সরিষাবাড়ীতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকের হুকুমে ৩ শিক্ষক মিলে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করার পর ইউকেলিকটাস গাছে বেধে রাখার অভিযোগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর অভিবাবক মঈনাল মিয়ার। এ ঘটনাটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি রোববার উপজেলার আওনা ইউনিয়নের বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনাটি ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেয়ার
একপর্যায়ে শনিবার ও রবিবার সরেজীমিনে শিক্ষার্থী ও অভিবাভবকদের কাছ থেকে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চলছে চাপা ক্ষোভ।

এ বিষয়টি জানাজানি করলে শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ইয়াকুব আলী (১৫) কে এমন টিসি দেওয়া হবে বাংলাদেশে কোথাও কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না এমন হুমকি দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান।এ হুমকির বিষয়টি শিক্ষার্থীর পিতা মঈনাল মিয়া নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থী ও অভিবাভক সুত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের বাটিকামারী ঈদগাহ মাঠ এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী মঈনাল মিয়ার ছেলে বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলী গত ১১ ফেব্রুয়ারি রোববার বিদ্যালয়ে যান।

বিদ্যালয়ের ৪র্থ ঘন্টায় একাডেমিক ভবনের ৩য় তলায় বিদ্যালয়ের রুটিন মোতাবেক শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলীকে অংকের সুত্র বলতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলী বলতে না পারায় তাকে কিছু বকা ঝকা দিলে শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলী বলে ঠিক চেষ্টা করবো এ কথা বলার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী সেলিম মিয়ার স্কেল নিয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি ওই শিক্ষার্থীকে একটি মার দেন।

পরে মোবাইলে ফোন করে সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ ও বাংলা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে শ্রেণি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়।  সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ ও বাংলা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম সেখানে গিয়ে ইয়াকুব আলীর শার্টের কলার ধরে এবং পিছনের দিকে জাহাঙ্গীর আলম ধরে কিল ঘুষি মারলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ইয়াকুব আলীর পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষমা প্রার্থনা উপেক্ষা করে ৩য় তলা থেকে তিন শিক্ষক মিলে টেনে হেচড়ে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে হাজির করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলীকে গাছে বাধার জন্য ওই তিন শিক্ষককে হুকুম প্রদান করেন।

প্রধান শিক্ষকের কথামত ওই দিন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের দক্ষিণ কোনায় একটি ইউক‍্যালিপটাস গাছের সাথে শিক্ষার্থীর পিঠ ঠেকিয়ে দু হাত পিছনে দিয়ে দুই হাতে বাঁধন দিয়ে চড় থাপ্পড় দেওয়া হয়।

এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান ১৫/২০ মিনিট পর ইয়াকুব আলীকে গাছের সাথে দু হাতের বাধন খুলে পাছায় লাথি মেরে ওই শিক্ষকদের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেন।

প্রধান শিক্ষকের কথা মত ৩ বার ক্ষমা চেয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ফিরে যায় ইয়াকুব আলী । বিষয়টি জানা জানি না করার জন্য নির্দেশ দেন শিক্ষকরা।

এ বিষয়টি বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরাও প্রত্যক্ষ হন। ওই দিন থেকে লজ্জায় শিক্ষার্থী স্কুলের ক্লাস বর্জন করে।

এ বিষয়টি রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারী শিক্ষকরা ইয়াকুব আলীকে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষাথী রাকিম মিয়া জানান, ইয়াকুব আলী নামে নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রকে হেড় স্যারের অফিসের দক্ষিণ কোনায় একটি গাছের সাথে বেধে রাখতে দেখেছি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা খাতুন জানান, আমরা ইয়াকুব আলীর পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছি। ক্ষমা না করে ইয়াকুবকে ৩য় তলার শ্রেনী কক্ষ থেকে টেনে হেচড়ে নিয়ে গাছের সাথে বেধে রেখেছিল।

শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ইয়াকুব আলী’র পিতা রাজমিস্ত্রী মঈনাল মিয়া জানান, আমার ছেলে পড়া না পারলে বা বেয়াদবী করে থাকলে একটি না ২০টি বেত্রাঘাত করলেও আমার কোন দু:খ নাই। আক্ষেপ একটাই আমার ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেছে। এখন তো গরু চোরদেরকেও কেউ গাছের সাথে বাধে না। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আরও জানান, আমি আমার ছেলের বিষয়ে মুখ খুলে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেবে বলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ খান আমাকে হুমকি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর অভিবাভবক ফজলু মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি এর বিরুদ্ধে প্রাইভেট না পড়ায় শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করে এবং ফেল করিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। তিনি আরও জানান আমরা এর আগে অভিযোগ দিয়েছিলাম কোন কাজ হয়নি বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টা এ রকম পরে তাকে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে মাপ চাইয়ে দিয়েছি।ঝামেলা শেষ। আর এগুলো নিয়ে এই তিলকে তাল বানাইতাছে এগুলোতো হতে পারে না।

এগুলো হলে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব না। এই মুল কথা।আর কোন এ রকম কোন ঘটনা আসলে ঘটেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ক্লাস রুমে এক শিক্ষককে এক ছেলে হুমকি দিয়েছে বের হলে তাকে মারবে বলে হুমকি দিয়েছিল। যে কারণে তাকে ডেকে এনে দু চার কথা বলে দিয়ে শিক্ষকদের নিকট থেকে মাফ নিতে বলেছি। আর সেখানে এ রকম তিল কে তাল বানাইতাছে এগুলা তো হতে পারে না। শিক্ষার্থীকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করার বিষয়টি সঠিক না বলে মন্তব্যে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বলেন, এ বিষয়টি পরস্পর শুনেছি কিন্তু আমার কাছে কোন শিক্ষক ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ জানায়নি বলে মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন তথ্য পাইনি আমাকে শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীও পরিবার পরিজনও জানায়নি। কোন অভিযোগ পেলে সতত্যা যাচাই পূর্বক দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box