২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধার, বিএনপি নেতাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার নিউ জার্সির স্কুলে শিক্ষিকার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি: ১২ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ১৫ পদে নিয়োগ: আবেদন শুরু ১ সেপ্টেম্বর কাতারের আল খোরে মরিয়ম বিনতে মোহাম্মদের স্মরণে চালু হলো ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র ঈশ্বরদীতে রহস্যজনক মৃত্যু: হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ হারালেন তরুণ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত জুড়ে দেওয়ার আহ্বান টিআইবির তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে মার্কিন হামলায় শিশুসহ নিহত ও আহত বহু, পাল্টা জবাব দিল তেহরান নতুন পে-স্কেল ঘোষণা: সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি, অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা

২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ

সৃষ্টি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
লেঃ সামাদসহ ৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি

 

২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ।

 

রায়গঞ্জ ব্রীজ যুদ্ধের বীর সেনানিদের বিজয় গাঁথা স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তি বাহিনী, ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং যৌথ বাহিনীর সাড়াশি আক্রমণ চালালে  পাকিস্তানি বাহিনী ভুরুঙ্গামারী থেকে পিছু হটে ১৪ নভেম্বর রায়গঞ্জ ব্রীজের আশ্রয় নেন পাক বাহিনী। আর সেদিনই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

রায়গঞ্জ ব্রীজের পাশে ফুলকুমর নদীর কিনারা ধরে অবস্থান গ্রহণ করে পাকবাহিনী। রায়গঞ্জ ব্রীজের পাশেই পাকিস্তানিদের ২০ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এবং রাজাকার শক্ত প্রতিরক্ষা ছিল।

 

 

লে. সামাদ ও লে. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দুই গ্রুপ কমান্ডো পাকহানাদার ও রাজাকারদের রায়গঞ্জের দূর্ভেদ্র শক্ত ঘাটি আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেন। দুই গ্রুপ কমান্ডো রায়গঞ্জে অবস্থিত ২৫ পাজাব রেজিমেন্টকে লক্ষ্য করে দুই দিক থেকে অগ্রসর হতে থাকে।

লে.সামাদ বুঝতে পারলেন তাঁর গ্রুপের কমান্ডো ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ফাঁদে আটকা পড়তে যাচ্ছে। রায়গঞ্জ ব্রীজের নীচে ২০ পাঞ্জাবের একটি এলএমজিসহ রাস্কার ছিল,তা তিনি জানতেন না।

এর পরও তিনি শত্রুর রায়গঞ্জ প্রতিরক্ষা দখলের পরিকল্পনায় অটল থেকে অগ্রসর হন।

 

তিনি বুঝতে পারেন, তাদের কমান্ডো ভুল পজিশনে আছে। অপর দলটিকে এই ভুল পজিশনের খবর দেয়ার জন্য লেঃ সামাদ তার ওয়‍্যারলেস চালু করার সাথে সাথেই তাদের দলের উপর শুরু হয়ে যায় পাকিস্তানিদের আর্টিলারি গান ও মর্টার এর টানা গোলা বর্ষণ।

 

চতুর্দিক থেকে পাকিস্তানিদের গোলাগুলিতে সবাই তখন তাদের পরিণতি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন। লে: সামাদ বললেন ” কেউ এক ইঞ্চি পিছু হাটবে না। এখানে সবাই একসাথে যুদ্ধ  করবো, বাঁচলে সবাই এক সাথে বাঁচবো।”

 

 

লে. আব্দুল্লাহ তখন লে: সামাদ এর দলের অবস্থা অনুধাবন করে হেড কোয়ার্টারকে এই আকস্মিক ঘটনাটি অবগত করেন। ৬ নং সেক্টর উইং কমান্ডার বাশারের নেতৃত্বে মূল বাহিনী ও মিত্র বাহিনী তাদের সহযোগিতায় ১৯ নভেম্বর রাত থেকে রায়গঞ্জে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের উপর তিন দিক থেকে প্রচন্ড আক্রমণ শুরু হয়।

এদিকে  পাকিস্তানিরাও প্রতিরক্ষা অবস্থান হতে যথাসম্ভব বাঁধা প্রদান করতে থাকে। ১৯তারিখ ভোর থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত ৩৮ ঘন্টা একটানা গোলা বর্ষণের পর ২০ নভেম্বর রাতে আশে পাশের গ্রাম থেকে লোক জন আসতে শুরু করে। তখন শত্রুরা পালাতে শুরু করেছে। এ যুদ্ধে ২০ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের দেড় শতাদিক সেনা হতাহত হয়েছি।

 

 

১৯ নভেম্বর রাতে যুদ্ধরত অবস্থায় লেঃ আবু মঈন মোহাম্মদ আশফাকুস সামাদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেদিন ২৫ পাঞ্জাবের এক ব্যাটালিয়ন সেনার বিরুদ্ধে অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ  লড়াই করেন।

জন্মভূমিকে স্বাধীন করতে গিয়ে ২০ নভেম্বর ৪জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। তিনি যেমন বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন তেমনটি তারা জীবন দিয়ে স্বাধীন করে গেছেন কুড়িগ্রামের মাটি।

 

উইং কমান্ডার বাশার শ্রদ্ধাবনত হয়ে লেঃ সামাদসহ ৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করেন।সবাইকে জয়মনিরহাট বাজার মসজিদের পার্শ্বে ৪১ বার গান স্যালুটের নিয়ে সমাহিত করা হয়। রায়গঞ্জ যুদ্ধ জয়ের নায়ক লে. আবু মঈন মোহাম্মদ আশফাকুস সামাদ।

 

যাদের রক্তের বিনিময়ে  কুড়িগ্রাম স্বাধীন হলো-

 

১।শহীদ আবু মঈন আশফাকুল সামাদ (বীর উত্তম), ঠিকানা- গ্রাম- সাতের দাড়িয়া, পো.- করিমগঞ্জ,  উপজেলা ও জেলাঃ কিশোরগঞ্জ।

২।শহীদ আলি হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ নাখারগঞ্জ, উপজেলাঃ নাদেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।
৩।শহীদ আবুল হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ নাখারগঞ্জ, উপজেলাঃ নাদেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।

৪। শহীদ আব্দুল আজিজ, গ্রামঃ কাঁঠালবাড়ী, পোষ্ট ও উপজেলা কুড়িগ্রাম সদর, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।

 

৩টি কবর শ্বেত পাথরে মোড়ানো থাকলেও শহীদ আব্দুল আজিজের সমাধি শ্বেত পাথরে মোড়ানো হয়নি।

বাকি কবরটি পাথরে মোড়ানোর দেখতে ভূরুঙ্গামারীর সবাই।  এই একটি কবর মোড়ানো ছাড়া দেখতে চায় না ভূরুঙ্গামারীবাসী।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!