ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাউনিয়ায় নানা আয়োজনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত তাড়াশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত নাগেশ্বরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাউনিয়ায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী রতন হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসির দাবিতে থানার সামনে মানববন্ধন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের ফোনালাপ, তেহরানের ৭ দফা প্রস্তাব ওয়াশিংটনে জামালগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১২

২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ

সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২ ৫৩৭৩ বার পড়া হয়েছে

লেঃ সামাদসহ ৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ।

 

রায়গঞ্জ ব্রীজ যুদ্ধের বীর সেনানিদের বিজয় গাঁথা স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তি বাহিনী, ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং যৌথ বাহিনীর সাড়াশি আক্রমণ চালালে  পাকিস্তানি বাহিনী ভুরুঙ্গামারী থেকে পিছু হটে ১৪ নভেম্বর রায়গঞ্জ ব্রীজের আশ্রয় নেন পাক বাহিনী। আর সেদিনই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

রায়গঞ্জ ব্রীজের পাশে ফুলকুমর নদীর কিনারা ধরে অবস্থান গ্রহণ করে পাকবাহিনী। রায়গঞ্জ ব্রীজের পাশেই পাকিস্তানিদের ২০ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এবং রাজাকার শক্ত প্রতিরক্ষা ছিল।

 

 

লে. সামাদ ও লে. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দুই গ্রুপ কমান্ডো পাকহানাদার ও রাজাকারদের রায়গঞ্জের দূর্ভেদ্র শক্ত ঘাটি আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেন। দুই গ্রুপ কমান্ডো রায়গঞ্জে অবস্থিত ২৫ পাজাব রেজিমেন্টকে লক্ষ্য করে দুই দিক থেকে অগ্রসর হতে থাকে।

লে.সামাদ বুঝতে পারলেন তাঁর গ্রুপের কমান্ডো ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ফাঁদে আটকা পড়তে যাচ্ছে। রায়গঞ্জ ব্রীজের নীচে ২০ পাঞ্জাবের একটি এলএমজিসহ রাস্কার ছিল,তা তিনি জানতেন না।

এর পরও তিনি শত্রুর রায়গঞ্জ প্রতিরক্ষা দখলের পরিকল্পনায় অটল থেকে অগ্রসর হন।

 

তিনি বুঝতে পারেন, তাদের কমান্ডো ভুল পজিশনে আছে। অপর দলটিকে এই ভুল পজিশনের খবর দেয়ার জন্য লেঃ সামাদ তার ওয়‍্যারলেস চালু করার সাথে সাথেই তাদের দলের উপর শুরু হয়ে যায় পাকিস্তানিদের আর্টিলারি গান ও মর্টার এর টানা গোলা বর্ষণ।

 

চতুর্দিক থেকে পাকিস্তানিদের গোলাগুলিতে সবাই তখন তাদের পরিণতি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন। লে: সামাদ বললেন ” কেউ এক ইঞ্চি পিছু হাটবে না। এখানে সবাই একসাথে যুদ্ধ  করবো, বাঁচলে সবাই এক সাথে বাঁচবো।”

 

 

লে. আব্দুল্লাহ তখন লে: সামাদ এর দলের অবস্থা অনুধাবন করে হেড কোয়ার্টারকে এই আকস্মিক ঘটনাটি অবগত করেন। ৬ নং সেক্টর উইং কমান্ডার বাশারের নেতৃত্বে মূল বাহিনী ও মিত্র বাহিনী তাদের সহযোগিতায় ১৯ নভেম্বর রাত থেকে রায়গঞ্জে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের উপর তিন দিক থেকে প্রচন্ড আক্রমণ শুরু হয়।

এদিকে  পাকিস্তানিরাও প্রতিরক্ষা অবস্থান হতে যথাসম্ভব বাঁধা প্রদান করতে থাকে। ১৯তারিখ ভোর থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত ৩৮ ঘন্টা একটানা গোলা বর্ষণের পর ২০ নভেম্বর রাতে আশে পাশের গ্রাম থেকে লোক জন আসতে শুরু করে। তখন শত্রুরা পালাতে শুরু করেছে। এ যুদ্ধে ২০ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের দেড় শতাদিক সেনা হতাহত হয়েছি।

 

 

১৯ নভেম্বর রাতে যুদ্ধরত অবস্থায় লেঃ আবু মঈন মোহাম্মদ আশফাকুস সামাদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেদিন ২৫ পাঞ্জাবের এক ব্যাটালিয়ন সেনার বিরুদ্ধে অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ  লড়াই করেন।

জন্মভূমিকে স্বাধীন করতে গিয়ে ২০ নভেম্বর ৪জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। তিনি যেমন বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন তেমনটি তারা জীবন দিয়ে স্বাধীন করে গেছেন কুড়িগ্রামের মাটি।

 

উইং কমান্ডার বাশার শ্রদ্ধাবনত হয়ে লেঃ সামাদসহ ৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করেন।সবাইকে জয়মনিরহাট বাজার মসজিদের পার্শ্বে ৪১ বার গান স্যালুটের নিয়ে সমাহিত করা হয়। রায়গঞ্জ যুদ্ধ জয়ের নায়ক লে. আবু মঈন মোহাম্মদ আশফাকুস সামাদ।

 

যাদের রক্তের বিনিময়ে  কুড়িগ্রাম স্বাধীন হলো-

 

১।শহীদ আবু মঈন আশফাকুল সামাদ (বীর উত্তম), ঠিকানা- গ্রাম- সাতের দাড়িয়া, পো.- করিমগঞ্জ,  উপজেলা ও জেলাঃ কিশোরগঞ্জ।

২।শহীদ আলি হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ নাখারগঞ্জ, উপজেলাঃ নাদেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।
৩।শহীদ আবুল হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ নাখারগঞ্জ, উপজেলাঃ নাদেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।

৪। শহীদ আব্দুল আজিজ, গ্রামঃ কাঁঠালবাড়ী, পোষ্ট ও উপজেলা কুড়িগ্রাম সদর, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।

 

৩টি কবর শ্বেত পাথরে মোড়ানো থাকলেও শহীদ আব্দুল আজিজের সমাধি শ্বেত পাথরে মোড়ানো হয়নি।

বাকি কবরটি পাথরে মোড়ানোর দেখতে ভূরুঙ্গামারীর সবাই।  এই একটি কবর মোড়ানো ছাড়া দেখতে চায় না ভূরুঙ্গামারীবাসী।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২

 

২০ নভেম্বর বিজয় গাঁথা কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ।

 

রায়গঞ্জ ব্রীজ যুদ্ধের বীর সেনানিদের বিজয় গাঁথা স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তি বাহিনী, ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং যৌথ বাহিনীর সাড়াশি আক্রমণ চালালে  পাকিস্তানি বাহিনী ভুরুঙ্গামারী থেকে পিছু হটে ১৪ নভেম্বর রায়গঞ্জ ব্রীজের আশ্রয় নেন পাক বাহিনী। আর সেদিনই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

রায়গঞ্জ ব্রীজের পাশে ফুলকুমর নদীর কিনারা ধরে অবস্থান গ্রহণ করে পাকবাহিনী। রায়গঞ্জ ব্রীজের পাশেই পাকিস্তানিদের ২০ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এবং রাজাকার শক্ত প্রতিরক্ষা ছিল।

 

 

লে. সামাদ ও লে. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দুই গ্রুপ কমান্ডো পাকহানাদার ও রাজাকারদের রায়গঞ্জের দূর্ভেদ্র শক্ত ঘাটি আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেন। দুই গ্রুপ কমান্ডো রায়গঞ্জে অবস্থিত ২৫ পাজাব রেজিমেন্টকে লক্ষ্য করে দুই দিক থেকে অগ্রসর হতে থাকে।

লে.সামাদ বুঝতে পারলেন তাঁর গ্রুপের কমান্ডো ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ফাঁদে আটকা পড়তে যাচ্ছে। রায়গঞ্জ ব্রীজের নীচে ২০ পাঞ্জাবের একটি এলএমজিসহ রাস্কার ছিল,তা তিনি জানতেন না।

এর পরও তিনি শত্রুর রায়গঞ্জ প্রতিরক্ষা দখলের পরিকল্পনায় অটল থেকে অগ্রসর হন।

 

তিনি বুঝতে পারেন, তাদের কমান্ডো ভুল পজিশনে আছে। অপর দলটিকে এই ভুল পজিশনের খবর দেয়ার জন্য লেঃ সামাদ তার ওয়‍্যারলেস চালু করার সাথে সাথেই তাদের দলের উপর শুরু হয়ে যায় পাকিস্তানিদের আর্টিলারি গান ও মর্টার এর টানা গোলা বর্ষণ।

 

চতুর্দিক থেকে পাকিস্তানিদের গোলাগুলিতে সবাই তখন তাদের পরিণতি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন। লে: সামাদ বললেন ” কেউ এক ইঞ্চি পিছু হাটবে না। এখানে সবাই একসাথে যুদ্ধ  করবো, বাঁচলে সবাই এক সাথে বাঁচবো।”

 

 

লে. আব্দুল্লাহ তখন লে: সামাদ এর দলের অবস্থা অনুধাবন করে হেড কোয়ার্টারকে এই আকস্মিক ঘটনাটি অবগত করেন। ৬ নং সেক্টর উইং কমান্ডার বাশারের নেতৃত্বে মূল বাহিনী ও মিত্র বাহিনী তাদের সহযোগিতায় ১৯ নভেম্বর রাত থেকে রায়গঞ্জে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের উপর তিন দিক থেকে প্রচন্ড আক্রমণ শুরু হয়।

এদিকে  পাকিস্তানিরাও প্রতিরক্ষা অবস্থান হতে যথাসম্ভব বাঁধা প্রদান করতে থাকে। ১৯তারিখ ভোর থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত ৩৮ ঘন্টা একটানা গোলা বর্ষণের পর ২০ নভেম্বর রাতে আশে পাশের গ্রাম থেকে লোক জন আসতে শুরু করে। তখন শত্রুরা পালাতে শুরু করেছে। এ যুদ্ধে ২০ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের দেড় শতাদিক সেনা হতাহত হয়েছি।

 

 

১৯ নভেম্বর রাতে যুদ্ধরত অবস্থায় লেঃ আবু মঈন মোহাম্মদ আশফাকুস সামাদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেদিন ২৫ পাঞ্জাবের এক ব্যাটালিয়ন সেনার বিরুদ্ধে অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ  লড়াই করেন।

জন্মভূমিকে স্বাধীন করতে গিয়ে ২০ নভেম্বর ৪জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। তিনি যেমন বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন তেমনটি তারা জীবন দিয়ে স্বাধীন করে গেছেন কুড়িগ্রামের মাটি।

 

উইং কমান্ডার বাশার শ্রদ্ধাবনত হয়ে লেঃ সামাদসহ ৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করেন।সবাইকে জয়মনিরহাট বাজার মসজিদের পার্শ্বে ৪১ বার গান স্যালুটের নিয়ে সমাহিত করা হয়। রায়গঞ্জ যুদ্ধ জয়ের নায়ক লে. আবু মঈন মোহাম্মদ আশফাকুস সামাদ।

 

যাদের রক্তের বিনিময়ে  কুড়িগ্রাম স্বাধীন হলো-

 

১।শহীদ আবু মঈন আশফাকুল সামাদ (বীর উত্তম), ঠিকানা- গ্রাম- সাতের দাড়িয়া, পো.- করিমগঞ্জ,  উপজেলা ও জেলাঃ কিশোরগঞ্জ।

২।শহীদ আলি হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ নাখারগঞ্জ, উপজেলাঃ নাদেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।
৩।শহীদ আবুল হোসেন, গ্রাম ও পোষ্টঃ নাখারগঞ্জ, উপজেলাঃ নাদেশ্বরী, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।

৪। শহীদ আব্দুল আজিজ, গ্রামঃ কাঁঠালবাড়ী, পোষ্ট ও উপজেলা কুড়িগ্রাম সদর, জেলাঃ কুড়িগ্রাম।

 

৩টি কবর শ্বেত পাথরে মোড়ানো থাকলেও শহীদ আব্দুল আজিজের সমাধি শ্বেত পাথরে মোড়ানো হয়নি।

বাকি কবরটি পাথরে মোড়ানোর দেখতে ভূরুঙ্গামারীর সবাই।  এই একটি কবর মোড়ানো ছাড়া দেখতে চায় না ভূরুঙ্গামারীবাসী।

 

 

Facebook Comments Box