ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানে যুদ্ধের উত্তেজনা কমার লক্ষণ দেখছেন না কূটনীতিকরা নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও গুলশানে কেন বাড়ছে অপরাধ? রাবিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: প্রক্টর-প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কানাডার উৎসবে নাজিফা তুষির প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার কারা মহাপরিদর্শক হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল কবীর বিডিরেন ট্রাস্টে সিইও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র লালমনিরহাটে জমির বিরোধ মিমাংসার নামে  নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১ ৯৭০৬ বার পড়া হয়েছে

নতুন ধান তাড়াবে পোকা ও সঙ্গে ছড়াবে সুগন্ধিও

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল

 

 

হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল।
উচ্চ তাপমাত্রা ও গরম বাতাসের প্রবাহ হওয়ার সময় এখন। এ সময় কালবৈশাখী ঝড়ের পাশাপাশি গরম বাতাস প্রবাহিত হয় বিভিন্ন এলাকায়। এখন, অধিকাংশ জমির ধান কাঁচা থোড় থেকে ফুল আসা পর্যায়ে রয়েছে। যেসব জমির ধান ঝড়ের দিন ফুল ফোটা অবস্থায় ছিল তার কিছু কিছু জমির ৫-১০ শতাংশ শীষ প্রথমে সাদা ও পরবর্তীতে কালো বর্ণ ধারণ করে চিটা হয়ে গেছে।

সবেমাত্র বের হওয়া শীষ উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সংবেদনশীল থাকে ।তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে কিংবা গরম বাতাসের প্রবাহে  বোরো ধান হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এ কারনে ধানের শীষ চিটা হয়ে সাদা হয়।

সেসব এলাকায় পরবর্তী করণীয় হিসেবে জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি ধরে  রাখতে হবে। বোরো ধানের যে সব জাত ফুল ফোটার পর্যায়ে আছে বা এখনও ফুল ফুটছে বা সামনে ফুল ফুটবে সে সব জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। ধানের শীষে দানা শক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিতে অবশ্যই ২-৩ ইঞ্চি দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে।

 

এছাড়া ঝড়ের কারণে ব্যাকটেরিয়া জনিত পাতাঝরা (বিএলবি) বা পাতায় লালচে রেখা (বিএলএস) রোগের আক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত হলে ৬০ গ্রাম এমওপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ২০ গ্রাম দস্তা সার ১০ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে পাঁচ শতাংশ জমিতে বিকেলে স্প্রে করতে হবে।

 

তবে ধানের থোড় বের হওয়ার আগে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত পাঁচ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ রোগ দেখা দিলে অবশ্যই ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।বোরো ধানের এ পর্যায়ে নেকব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে।

এ রোগ হওয়ার পরে দমনের সুযোগ থাকে না। তাই ধানের জমিতে এ রোগ হোক বা না হোক শীষের মাথা বের হওয়া পর্যায়ে প্রতিবিঘা জমিতে ৫৪ গ্রাম টুপার/ ৭৫ ডব্লিউপি/ দিফা ৭৫ ডব্লিউপি /জিল ৭৫ ডব্লিউপি এবং ৩৩ নেটিভভা/ট্রাইসাক্লাজল গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ৬৪ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে বিকেলে ৫-৭ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।

এ সময় জমিতে বাদামি ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণ হতে পারে।

আক্রমণ এলাকায় কীটনাশক মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি, প্লাটিনাম ২০ এসপি বা অনুমোদিত ওষুধের বোতল বা প্যাকেটে উল্লেখিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। কীটনাশক অবশ্যই গাছের গোড়ায় ব্যবহার করতে হবে। এজন্য ডাবল নজল বিশিষ্ট স্প্রেয়ার ব্যবহার করা উত্তম।

 

ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চতাপমাত্রার কারণে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও ফুল ফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির বেশি হলে ধানে চিটা দেখা দেয়। গত মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধানে চিটা দেখা দেয়।

 

এ ধারাবাহিকতায় এপ্রিলেও উচ্চতাপমাত্রার সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ধান চিটা হয়ে যায়।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

2 thoughts on “হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

 

 

হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল

 

 

হিট স্টোকে ধান চিটা হওয়া থেকে বাঁচানোর কৌশল।
উচ্চ তাপমাত্রা ও গরম বাতাসের প্রবাহ হওয়ার সময় এখন। এ সময় কালবৈশাখী ঝড়ের পাশাপাশি গরম বাতাস প্রবাহিত হয় বিভিন্ন এলাকায়। এখন, অধিকাংশ জমির ধান কাঁচা থোড় থেকে ফুল আসা পর্যায়ে রয়েছে। যেসব জমির ধান ঝড়ের দিন ফুল ফোটা অবস্থায় ছিল তার কিছু কিছু জমির ৫-১০ শতাংশ শীষ প্রথমে সাদা ও পরবর্তীতে কালো বর্ণ ধারণ করে চিটা হয়ে গেছে।

সবেমাত্র বের হওয়া শীষ উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সংবেদনশীল থাকে ।তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে কিংবা গরম বাতাসের প্রবাহে  বোরো ধান হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এ কারনে ধানের শীষ চিটা হয়ে সাদা হয়।

সেসব এলাকায় পরবর্তী করণীয় হিসেবে জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি ধরে  রাখতে হবে। বোরো ধানের যে সব জাত ফুল ফোটার পর্যায়ে আছে বা এখনও ফুল ফুটছে বা সামনে ফুল ফুটবে সে সব জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। ধানের শীষে দানা শক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিতে অবশ্যই ২-৩ ইঞ্চি দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে।

 

এছাড়া ঝড়ের কারণে ব্যাকটেরিয়া জনিত পাতাঝরা (বিএলবি) বা পাতায় লালচে রেখা (বিএলএস) রোগের আক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত হলে ৬০ গ্রাম এমওপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ২০ গ্রাম দস্তা সার ১০ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে পাঁচ শতাংশ জমিতে বিকেলে স্প্রে করতে হবে।

 

তবে ধানের থোড় বের হওয়ার আগে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত পাঁচ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ রোগ দেখা দিলে অবশ্যই ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।বোরো ধানের এ পর্যায়ে নেকব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে।

এ রোগ হওয়ার পরে দমনের সুযোগ থাকে না। তাই ধানের জমিতে এ রোগ হোক বা না হোক শীষের মাথা বের হওয়া পর্যায়ে প্রতিবিঘা জমিতে ৫৪ গ্রাম টুপার/ ৭৫ ডব্লিউপি/ দিফা ৭৫ ডব্লিউপি /জিল ৭৫ ডব্লিউপি এবং ৩৩ নেটিভভা/ট্রাইসাক্লাজল গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ৬৪ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে বিকেলে ৫-৭ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।

এ সময় জমিতে বাদামি ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণ হতে পারে।

আক্রমণ এলাকায় কীটনাশক মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি, প্লাটিনাম ২০ এসপি বা অনুমোদিত ওষুধের বোতল বা প্যাকেটে উল্লেখিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। কীটনাশক অবশ্যই গাছের গোড়ায় ব্যবহার করতে হবে। এজন্য ডাবল নজল বিশিষ্ট স্প্রেয়ার ব্যবহার করা উত্তম।

 

ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চতাপমাত্রার কারণে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও ফুল ফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির বেশি হলে ধানে চিটা দেখা দেয়। গত মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধানে চিটা দেখা দেয়।

 

এ ধারাবাহিকতায় এপ্রিলেও উচ্চতাপমাত্রার সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ধান চিটা হয়ে যায়।

 

 

Facebook Comments Box