ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল জয়ী কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার জিতে নিলেন বিশিষ্ট কানাডীয় কবি, লেখক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সুইডিশ অ্যাকাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে। প্রাচীন ধ্রুপদি সাহিত্যকে আধুনিক সৃজনশীল ধারার সঙ্গে দক্ষ হাতে মেলবন্ধন ঘটানোর স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সুইডিশ অ্যাকাডেমির ভাষ্যমতে, কারসনের সাহিত্যকর্মে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সমকালীন সাহিত্যের যে সৃজনশীল সংলাপ তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত সাহসী ও উদ্ভাবনী।

১৯৫০ সালে টরন্টোতে জন্মগ্রহণকারী অ্যান কারসন দীর্ঘ কর্মজীবনে কবিতা, অনুবাদ এবং অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় গ্রিক ধ্রুপদি সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন ও শব্দের গূঢ় অর্থের ব্যবহার প্রাধান্য পায়। তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে কেবল অনুবাদের গণ্ডিতে আটকে না রেখে বরং আধুনিক পাঠকের উপযোগী নতুন কাঠামো ও ভাষায় তুলে ধরেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কর্মের তালিকায় রয়েছে ‘দ্য গ্লাস এসে’, ‘নক্স’, ‘ডিক্রিয়েশন’ এবং ‘ইফ নট, উইন্টার’-এর মতো সাড়া জাগানো বই। ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন পেশাজীবনে কবিতা লেখা, অনুবাদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কারসনের বহুল পরিচিত কাজগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। এতে তিনি প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের অসম্পূর্ণ রচনার উপাদান ব্যবহার করে আধুনিক মানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। এছাড়া ইউরিপিডিসের ‘বাক্খাই’, ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগন’-এর মতো ধ্রুপদি নাটকগুলোকেও তিনি নতুন রূপ দিয়েছেন। তার সাহিত্যিক শৈলীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কবিতা, গদ্য, গবেষণা এবং মঞ্চনাট্যের সীমানা ভেঙে ফেলা।

সাহিত্যচর্চায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ‘ফ্লোট’-এর মাধ্যমে তিনি ২২টি ছোট পুস্তিকার সংকলনে পাঠের ধরনেও নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য, অপেরা ও থিয়েটারের বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পীদের সঙ্গেও তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের এই নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে তিনি পাচ্ছেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। উল্লেখ্য, গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল জয়ী কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার জিতে নিলেন বিশিষ্ট কানাডীয় কবি, লেখক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সুইডিশ অ্যাকাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে। প্রাচীন ধ্রুপদি সাহিত্যকে আধুনিক সৃজনশীল ধারার সঙ্গে দক্ষ হাতে মেলবন্ধন ঘটানোর স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সুইডিশ অ্যাকাডেমির ভাষ্যমতে, কারসনের সাহিত্যকর্মে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সমকালীন সাহিত্যের যে সৃজনশীল সংলাপ তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত সাহসী ও উদ্ভাবনী।

১৯৫০ সালে টরন্টোতে জন্মগ্রহণকারী অ্যান কারসন দীর্ঘ কর্মজীবনে কবিতা, অনুবাদ এবং অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় গ্রিক ধ্রুপদি সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন ও শব্দের গূঢ় অর্থের ব্যবহার প্রাধান্য পায়। তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে কেবল অনুবাদের গণ্ডিতে আটকে না রেখে বরং আধুনিক পাঠকের উপযোগী নতুন কাঠামো ও ভাষায় তুলে ধরেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কর্মের তালিকায় রয়েছে ‘দ্য গ্লাস এসে’, ‘নক্স’, ‘ডিক্রিয়েশন’ এবং ‘ইফ নট, উইন্টার’-এর মতো সাড়া জাগানো বই। ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন পেশাজীবনে কবিতা লেখা, অনুবাদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কারসনের বহুল পরিচিত কাজগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। এতে তিনি প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের অসম্পূর্ণ রচনার উপাদান ব্যবহার করে আধুনিক মানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। এছাড়া ইউরিপিডিসের ‘বাক্খাই’, ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগন’-এর মতো ধ্রুপদি নাটকগুলোকেও তিনি নতুন রূপ দিয়েছেন। তার সাহিত্যিক শৈলীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কবিতা, গদ্য, গবেষণা এবং মঞ্চনাট্যের সীমানা ভেঙে ফেলা।

সাহিত্যচর্চায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ‘ফ্লোট’-এর মাধ্যমে তিনি ২২টি ছোট পুস্তিকার সংকলনে পাঠের ধরনেও নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য, অপেরা ও থিয়েটারের বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পীদের সঙ্গেও তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের এই নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে তিনি পাচ্ছেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। উল্লেখ্য, গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

Facebook Comments Box