ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্ষে শাক পুষ্টি ও ঔষধি গুণে ভরপুর জনপ্রিয় খাবার

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ ৯১৬ বার পড়া হয়েছে

সর্ষে শাক পুষ্টি ও ঔষধি গুণে ভরপুর জনপ্রিয় খাবার

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুষ্টিকর শাক হিসেবে সর্ষে শাকও কিন্তু বেশ পরিচিত। গ্রামবাংলায় খাওয়া হয় এই শাক, ক্যান্সার-কোলেস্টেরলের কার্যকরী ভূমিকা  রাখতে সক্ষম। এই শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর রয়েছে একটি পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও ঔষধি গুণ। পুষ্টিবিদরা শীতে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সর্ষের শাক খাওয়ার পরামর্শ দেন।

 ভিটামিন কে হাড়কে শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।এছাড়াও এই ভিটামিন ক্ষত বা আঘাত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধ করতে ক্লটিং হিসাবেও কাজ করে। ফলে ভিটামিন কে পেতে হলে সর্ষের শাক খান।

সালফার দেহে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এটি দেহে হার্ট অ্যাটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সর্ষে শাক খায় তাদের বিভিন্ন রকম ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।। এই শাক ত্বক ও চুল ভালো রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। সর্ষে শাক গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।সর্ষের শাকের বিবিধ উপকার।ক্যানসার থেকে কোলেস্টেরল কমাতে জুড়ি নেই।

যতই সয়াবিন, রাইচবার্ণ, সর্যমুখী, অলিভ কিংবা এলমন্ডের তেল আসুক না কেন? বাঙালির রান্নাঘরে সর্ষের তেল থাকবেই। ভর্তা প্রিয় বাঙালির   সর্ষের তেল ছাড়া রসনা জমে না।

‘মাক্কি কি রোটি সরসন দা সাগ’- বা সর্ষে শাক  অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। সর্ষের শাক খাওয়ার চল রয়েছে দেশের সব স্থানেই।। বাংলাতেও সর্ষের শাক খাওয়া হয়। তবে গ্রামবাংলার মানুষই বেশি খান। শহরাঞ্চলের মানুষ খুব একটা খান না। সর্ষের তেল ছাড়া বাঙালির চলে না। যতই সয়াবিন, এলমন্ডের তেল আসুক না কেন বাঙালির রান্নাঘরে সর্ষের তেল থাকবেই। ভর্তা প্রিয় বাঙালির   সর্ষের তেল ছাড়া রসনা জমে না।

এছাড়াও সর্ষের শাকে থাকে ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাশাপাশি অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক উপাদানও মেলে এই শাকে। গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। শরীরে গড়ে ওঠে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

সর্ষে শাকের অত‍্যন্ত কার্যকরী গুণাবলীসমুহ

ক্যান্সার প্রতিরোধে- সর্ষের শাকে থাকে গ্লুকোসিনোলেট নামে উপকারী উদ্ভিদ যৌগ। গ্লুকোসিনোলেট স্বাস্থ্যকর কোষগুলিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ক্যান্সার কোষগুলির বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

গ্রামবাংলার মানুষই বেশি খান। শহরাঞ্চলের মানুষ খুব একটা খান না

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়– সর্ষের শাকে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং বিটা-ক্যারোটিন। যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। সেই সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।এটি দেহে হার্ট অ্যাটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এতে আছে ভিটামিন সি, কে, এ, সালফার। এতে থাকা ভিটামিন সিতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দেহকে ভাইরাল অসুখ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন এ ভালো রাখে দৃষ্টিশক্তি আর ভিটামিন কে হাড় এবং মস্তিষ্ককে রাখে সচল।

কোলেস্টেরল কমাতে–  সর্ষের শাকে এমন যৌগ রয়েছে যা পরিপাকতন্ত্রে পিত্ত অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে। তা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কার্যকর।

দৃষ্টিশক্তির জন্য– সর্ষের শাক চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে রয়েছে লুটেইন এবং জেক্সানথিন। এই দুটি পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকর চোখের জন্য দরকারি। বয়স-সম্পর্কিত দৃষ্টির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সর্ষে শাক পুষ্টি ও ঔষধি গুণে ভরপুর জনপ্রিয় খাবার

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২

পুষ্টিকর শাক হিসেবে সর্ষে শাকও কিন্তু বেশ পরিচিত। গ্রামবাংলায় খাওয়া হয় এই শাক, ক্যান্সার-কোলেস্টেরলের কার্যকরী ভূমিকা  রাখতে সক্ষম। এই শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর রয়েছে একটি পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও ঔষধি গুণ। পুষ্টিবিদরা শীতে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সর্ষের শাক খাওয়ার পরামর্শ দেন।

 ভিটামিন কে হাড়কে শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।এছাড়াও এই ভিটামিন ক্ষত বা আঘাত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধ করতে ক্লটিং হিসাবেও কাজ করে। ফলে ভিটামিন কে পেতে হলে সর্ষের শাক খান।

সালফার দেহে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এটি দেহে হার্ট অ্যাটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সর্ষে শাক খায় তাদের বিভিন্ন রকম ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।। এই শাক ত্বক ও চুল ভালো রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। সর্ষে শাক গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।সর্ষের শাকের বিবিধ উপকার।ক্যানসার থেকে কোলেস্টেরল কমাতে জুড়ি নেই।

যতই সয়াবিন, রাইচবার্ণ, সর্যমুখী, অলিভ কিংবা এলমন্ডের তেল আসুক না কেন? বাঙালির রান্নাঘরে সর্ষের তেল থাকবেই। ভর্তা প্রিয় বাঙালির   সর্ষের তেল ছাড়া রসনা জমে না।

‘মাক্কি কি রোটি সরসন দা সাগ’- বা সর্ষে শাক  অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। সর্ষের শাক খাওয়ার চল রয়েছে দেশের সব স্থানেই।। বাংলাতেও সর্ষের শাক খাওয়া হয়। তবে গ্রামবাংলার মানুষই বেশি খান। শহরাঞ্চলের মানুষ খুব একটা খান না। সর্ষের তেল ছাড়া বাঙালির চলে না। যতই সয়াবিন, এলমন্ডের তেল আসুক না কেন বাঙালির রান্নাঘরে সর্ষের তেল থাকবেই। ভর্তা প্রিয় বাঙালির   সর্ষের তেল ছাড়া রসনা জমে না।

এছাড়াও সর্ষের শাকে থাকে ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাশাপাশি অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক উপাদানও মেলে এই শাকে। গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। শরীরে গড়ে ওঠে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

সর্ষে শাকের অত‍্যন্ত কার্যকরী গুণাবলীসমুহ

ক্যান্সার প্রতিরোধে- সর্ষের শাকে থাকে গ্লুকোসিনোলেট নামে উপকারী উদ্ভিদ যৌগ। গ্লুকোসিনোলেট স্বাস্থ্যকর কোষগুলিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ক্যান্সার কোষগুলির বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

গ্রামবাংলার মানুষই বেশি খান। শহরাঞ্চলের মানুষ খুব একটা খান না

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়– সর্ষের শাকে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং বিটা-ক্যারোটিন। যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। সেই সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।এটি দেহে হার্ট অ্যাটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এতে আছে ভিটামিন সি, কে, এ, সালফার। এতে থাকা ভিটামিন সিতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দেহকে ভাইরাল অসুখ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন এ ভালো রাখে দৃষ্টিশক্তি আর ভিটামিন কে হাড় এবং মস্তিষ্ককে রাখে সচল।

কোলেস্টেরল কমাতে–  সর্ষের শাকে এমন যৌগ রয়েছে যা পরিপাকতন্ত্রে পিত্ত অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে। তা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কার্যকর।

দৃষ্টিশক্তির জন্য– সর্ষের শাক চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে রয়েছে লুটেইন এবং জেক্সানথিন। এই দুটি পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকর চোখের জন্য দরকারি। বয়স-সম্পর্কিত দৃষ্টির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

 

Facebook Comments Box